Connect with us

বীমা

খসড়া বিধিমালা প্রকাশ, বীমা ব্রোকার চালু করছে সরকার

Published

on

বীমা

দেশের নন-লাইফ বীমা ব্যবসার প্রসারে ‘বীমা ব্রোকার’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে বীমা ব্রোকারদের লাইসেন্স প্রদান বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । গতকাল বুধবার কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে খসড়া বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে।

বীমা ব্রোকার হওয়ার ক্ষেত্রে ২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত এবং ৫০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়। এ ছাড়াও যেকোন তফিসিলি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত আকারে প্রারম্ভিক মূলধনের ২০ শতাংশ জমা, নির্ধারিত আচরণবিধি প্রতিপালন এবং পেশাগত ক্ষতিপূরণ বীমা গ্রহণের শর্ত রাখা হয়েছে ওই বিধিমালায়। শর্তাদি প্রতিপালনে ৩ বছরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করা হবে এবং ৩ বছর পর আবার নবায়ন করতে হবে।

খসড়া বিধিমালা অনুসারে, একজন বীমা ব্রোকারের কার্যাদির মধ্যে রয়েছে- বীমাকারীর পক্ষে বীমা এজেন্ট নিয়োগ করে বা বীমাকারীর জন্য নন-লাইফ বীমা ব্যবসা গ্রহ করা; বীমাকারী বা পুনর্বীমাকারী অথবা উভয়ের জন্য সরাসরি নন-লাইফ বীমা ব্যবসা সংগ্রহ করা; বীমাকারী বা পুনর্বীমাকারী অথবা উভয়ের জন্য প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্য সম্পাদন করা, যা অন্তর্ভূক্ত করবে কিন্তু সীমিত করবে না।

এ ছাড়াও যথোপযুক্ত বীমা আবরণ ও শর্তাদির ওপর উপদেশ প্রদান; দাবির দরকষাকষিত সহায়তা করা; দাবির যথাযথ খতিয়ান রক্ষণাবেক্ষণ করা; পুনর্বীমাকারী ও অন্যান্যদের সহায়তা করতে বীমাকারীর ব্যবসায়ের বিশদ বিবরণসহ খতিয়ান রক্ষণাবেক্ষণ; পুনর্বীমার জন্য পরামর্শ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদান করা এবং গ্রাহকের (বীমা গ্রহীতা বা বীমাকারী) পক্ষে পুনর্বীমাকারীর সাথে দরকষাকষি করা।

কোন বীমা ব্রোকারকে পারিশ্রমিক (রয়ালটি বা লাইসেন্স ফি বা প্রশাসনিক চার্জ বা ওইরূপ ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত করে) হিসেবে নির্ধারিত হারের অধিক প্রদান করা যাবে না বা পরিশোধ করার চুক্তি করা যাবে না- সরাসরি নন-লাইফ বীমা ব্যবসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তির অধীন অর্জিত প্রিমিয়ামের ১২.৫০ শতাংশ; বীমা এজেন্টের মাধ্যমে নন-লাইফ ব্যবসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তির অধীন অর্জিত প্রিমিয়ামের ১৫ শতাংশ, যা থেকে এজেন্টগণকে পরিশোধিত কমিশন বাদ দিতে হবে; অন্য যেকোন সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তির অধীন অর্জিন প্রিমিয়ামের ৫ শতাংশ।

Advertisement
বীমা

লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করার আবেদন দাখিলের সময় প্রত্যেক বীমা ব্রোকারকে নিম্নবর্ণিত ফি পরিশোধ করতে হবে- লাইসেন্স ইস্যুর জন্য ৫০ হাজার টাকা; লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৫০ হাজার টাকা; প্রতিদিন বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত ফির’র পরিমাণ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিলিপি লাইসেন্স ইস্যুর জন্য ৫ হাজার টাকা। এসব ফি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুকুলে ক্রসড চেক, ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারযোগে পরিশোধ করতে হবে।

খসড়া বিধিমালার বিধি ৩ বলা হয়েছে, বীমা ব্রোকারের লাইসেন্স অবশ্যই কেবলমাত্র ওইসব কোম্পানির প্রতি ইস্যু করা হবে যারা অন্যুন নিম্নলিখিত শর্তাদি প্রতিপালন করে- বিধি ৯ এ নির্ধারিত পরিশোধিত মূলধন; বিধি ১০ এ নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ জমা; বিধি ১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত আচরণবিধি; বিধি ২০ অনুযায়ী নির্ধারিত পেশাগত ক্ষতিপূরণ বীমা এবং বিধি ২২ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, বীমা আইন ২০১০ এর ১২৬ ধারা মোতাবেক নন-লাইফ বীমাকারীগণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বীমা ব্রোকারের লাইসেন্সধারী কোম্পানিকে বীমা ব্রোকার হিসেবে নিযুক্ত করতে পারবে। বীমা ব্রোকার নন-লাইফ বীমা ব্যবসার প্রসারে এবং দেশের নন-লাইফ বীমাখাতে পেশাদারিত্ব সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে।

আইডিআরএ বলছে, বিশ্বের সব দেশেই বীমা ব্রোকাররা বীমাখাতে সুশাসন নিশ্চিতকারণসহ বিভিন্ন রকম পরামর্শ প্রদানপূর্বক নন-লাইফ বীমাখাতের প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। এই প্রেক্ষিতে নন-লাইফ বীমাখাতে শৃঙ্খলা আনয়ন, প্রফেশনালিজম নিশ্চিতকরণ এবং বীমা ব্যবসার প্রসারের জন্য বীমা ব্রোকার কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

অর্থসংবাদ/এসআর

Advertisement
বীমা
শেয়ার করুন:
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

বীমা

ফারইস্ট লাইফের সাবেক সিইও হেমায়েত উল্লাহ গ্রেফতার

Published

on

বীমা

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পদ্মা ইসলামী লাইফের কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সুত্র জানায়, ফারইস্ট থেকে চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর হেমায়েত পদ্মা ইসলামী লাইফে সিইও হিসেবে যোগদানের চেষ্টা করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থাসআইডিআরএ তার নিয়েগের বিষয়টি অনুমোদন দেয়নি। ফলে পদ্মা লাইফে তিনি সিইও হতে না পারলেও পরবর্তীতে চীফ কনসাল্টেন্ট হিসেবে যোগদান করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, হেমায়েত উল্লাহকে সিইও হিসেবে নিয়েগের জন্য পর্ষদ আইডিআর এর অনুমোদন পায়নি। পরবর্তীতে তাকে চীফ কনসাল্টেন্ট হিসেবে রাখা হয়। আজকে বিকালে পদ্মা লাইফের প্রধান কার্যালয় থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এর আগে শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত ৮শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক দুই পরিচালক এম এ খালেক ও তার ছেলে রুবাইয়াত খালেদকে গ্রেফতার করে আইন-শৃংখলা বাহিনী। এই মামলার ১০ নং এজাহারভুক্ত আসামি হেমায়েত উল্লাহ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মো. নজরুল ইসলাম, এম এ খালেক ও রুবাইয়াত খালেদকে আদালতে সোপর্দ করলে নজরুল ইসলামকে ২ দিনের রিমান্ড ও এম এ খালেক ও রুবাইয়াত খালেককে জেলে গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয় আদালত।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালত এম এ খালেক ও রুবাইয়াত খালেদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর শাহবাগ থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Advertisement
বীমা

এর আগে দ্বিতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড শেষে রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ফের ১২ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তারও আগে ১৬ সেপ্টেম্বর তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইদিন মামলার আসামি কোম্পানিটির সাবেক পরিচালক এম এ খালেক এবং তার ছেলে রুবাইয়াত খালেদকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর শাহবাগ থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অন্যদিকে আসামির পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দু’দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

গ্রাহকের ৮শ’ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে চলতি বছরের ৮ মার্চ ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকসহ কোম্পানিটির ৯ পরিচালক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

Advertisement
বীমা

প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং পিএফআই প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামক দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৫৮তম পর্ষদ সভার ভুয়া সার-সংক্ষেপ তৈরি করে সেটির বরাত দিয়ে কোম্পানিটির ৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করে দুদক।

এরপর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সরকারের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ।

এরই ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ বীমা কোম্পানিটিতে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

বীমা

ফারইস্টের অর্থ আত্মসাৎ: রিমান্ডে নজরুল, খালেককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

Published

on

বীমা

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়েকৃত একটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে কোম্পানিটির সাবেক পরিচালক এম এ খালেক এবং তার ছেলে রুবায়াত খালেককে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মাহবুব আহমেদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বীমা গ্রাহকদের জমাকৃত ৮শ’ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে শাহবাগ থানায় মামলা নং ১৫(৯)২২ দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আজ আদালতে হাজির করে পুলিশ।

মামলার সুষ্ঠুতদন্তের জন্য তাদের ১৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে নজরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড ও এম এ খালেক এবং তার ছেলে রুবায়াত খালেকের দুই দিনের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

Advertisement
বীমা

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন ফকির।

এর আগে চলতি বছরের ৮ মার্চ ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকসহ কোম্পানিটির ৯ পরিচালক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং পিএফআই প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামক দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৫৮তম পর্ষদ সভার ভুয়া সার-সংক্ষেপ তৈরি করে সেটির বরাত দিয়ে কোম্পানিটির ৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করে দুদক।

প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতিসহ বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালের শেষের দিকে বিএসইসি কোম্পানিটিতে বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করে। গেল এক দশকে গ্রাহকদের ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন মালিকপক্ষ বিদেশে পাচার করেছে- এমন প্রমাণ পায় বিএসইসি।

গেল এক দশকে আত্মসাতকৃত টাকা বিদেশে পাচার করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৎকালীন মালিকপক্ষ। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত ছিলেন ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হেময়েত উল্লাহ এবং পরিচালক এম এ খালেক। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য জাল নথি পর্যন্ত তৈরি করে।

Advertisement
বীমা

২ হাজার ১২৫ কোটি টাকার মধ্যে ৮৫৪ কোটি টাকায় বেআইনিভাবে জমি অধিগ্রহণ করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৬৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মুদারাবা মেয়াদী আমানতের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ৪২১ কোটি টাকা লোপাট করা হয়। এছাড়াও দুটি ভূয়া সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ১৯২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তৎকালীন মালিকপক্ষ।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য গত বছরের ৯ আগস্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় বিএসইসি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কোম্পানিটিতে ১০ জন স্বতন্ত্র পরিচালক দেওয়া হয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে অপসারণ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সম্প্রতি ফারইস্ট ইসলামী লাইফের প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় বেক্সিমকো গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান জুপিটার বিজনেস লিমিটেড ও ট্রেডনেক্সট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। বেক্সিমকোর দুই প্রতিষ্ঠানের পাঁচ জনকে ফারইস্টের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনকে।

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

বীমা

সীমার বেশি সুবিধা নিতে পারবেন না বিমা কোম্পানির সিইওরা

Published

on

বীমা

বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) আইনে বেঁধে দেওয়া সীমার বাইরে বাড়তি বেতন-ভাতা, বোনাস ও অন্য সুবিধা নিতে পারবেন না। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বিমা আইনের ৮০ ধারা এবং ওই ধারার অধীনে বিমা কোম্পানি (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ) প্রবিধানমালা ২০১২ অনুযায়ী, আইডিআরএ বিমা কোম্পানির সিইওদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। দেশে ৩৫টি জীবন বিমা ও ৪৬টি সাধারণ বিমা রয়েছে, যেখানে একজন করে সিইও আছেন।

প্রবিধান মালায় মোট বেতন, মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া, গাড়ি, জ্বালানি, চালক, পরিষেবা বিল ইত্যাদি দেওয়ার কথা বলা আছে। এগুলো নির্ধারিত হবে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, কাজের পরিধি, ব্যবসার পরিমাণ ও উপার্জন ক্ষমতার ভিত্তিতে।

বাড়তি সুবিধা দেওয়ায় বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে আইডিআরএ বলেছে, কোনো কোনো বিমা কোম্পানি প্রবিধান মালায় বর্ণিত বেতন-ভাতার বাড়তি সুবিধা সিইওদের দেওয়ার প্রস্তাব করছে। কোনো কোনো কোম্পানি বাড়তি বেতন-ভাতা দিচ্ছেও। এসব সুবিধা প্রবিধানমালা ও আইডিআরএর নির্দেশনার পরিপন্থী।

বিমা খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং বিমা গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রজ্ঞাপনটি কঠোরভাবে পালন করতে বলেছে আইডিআরএ, তা না হলে আইডিআরএ বিমা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

Advertisement
বীমা
শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

ডেল্টা লাইফের পর্ষদে সমকালের মালিক: বিতর্কিত পথেই আইডিআরএ

Published

on

বীমা

আবারও বিতর্কিত পথেই হাঁটছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেনের মতো একই বিষয়ে নতুন চেয়ারম্যানও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স এর নতুন   পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে এই বিতর্কের জন্ম দেয় আইডিআরএ। বীমা আইন লঙ্গন করে একই পরিবারের তিন জনকে নতুন পর্ষদে রাখার অনুমোদন দিয়েছে।

একই সঙ্গে কোন উদ্যোক্তা পরিচালক নতুন বোর্ডে না থাকলেও তা অনুমোদন দিয়েছে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। গত জুলাই মাসে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (আইন) এসএম শাকিল আখতার এবং ডেল্টা লাইফের সাসপেন্ডেড পর্ষদের পরিচালক জেয়াদ রহমানের স্বাক্ষরিত আপোষনামা এবং অঙ্গীকারনামা আপিল বিভাগে জমা দেয় আইডিআরএ। এরপরই দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এই আপোষনামায় এ কে আজাদকে দ্বিতীয় পক্ষ করা হয়। একই সঙ্গে সাকিব আজাদকে নতুন পর্ষদের পরিচালক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি দেশের শেয়ারবাজারের আলোচিত এক বড় বিনিয়োগকারীকে নিয়ে এ কে আজাদের মালিকানাধীন
একটি গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি নিয়ে সব মহলেই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ফলে দেশের শেয়ারবাজারে শুরু হয় টালমাটাল অবস্থা। জানা গেছে ওই  বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রনে বড় অংশ ছিল ডেল্টা লাইফের শেয়ার। তখন গুন্জন ছিল ডেল্টা লাইফের শেয়ার দখলের জন্য এমন নেতিবাচক খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এখন প্রকাশ্যে এসেছে সেই গুন্জন!

এদিকে, এই অঙ্গীকারনামার আইনী ভিত্তি এবং অন্য শেয়ারহোল্ডারদের সংক্ষুব্ধ হবার বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে তা সংশোধনের জন্য আপিল বিভাগ সময় দেন।

সূত্র জানায়, আপোষনামায় বীমা আইনের ৭৬ ধারা লঙ্গন করে কোন উদ্যোক্তা পরিচালক নতুন পরিচালনা পর্ষদে না রেখেই পর্ষদ গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের ২১ মে ২০১৯ খ্রিঃ- এর স্মারক অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে ৩০% শেয়ার থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করেই ১৯.১৭ শতাংশ শেয়ার ধারকদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করার জন্য আপোষ করা হয়েছে।যেখানে ১৫ জন ২ শতাংশ শেয়ারধারী থাকলেও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মাত্র ৮ জনকে নিয়ে কীভাবে আপোষনামায় স্বাক্ষর করেছে সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেয়ারহোল্ডারা। যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে খোদ আইডিআরএ।

Advertisement
বীমা

এছাড়াও একই পরিবারের ১০ শতাংশের অধিক শেয়ারধারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকেই পরিচালনা পর্ষদে রাখার অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।  নতুন পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে সুরাইয়া রহমান, জেয়াদ রহমান এবং আদিবা রহমান একই পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে সুরাইয়া রহমান এবং জেয়াদ রহমান সাসপেন্ডেড বোর্ডের সদস্য ছিলেন। আর আদিবা রহমান ছিলেন ডেল্টা লাইফের প্রাক্তন সিইও।

জানা গেছে, আরও ৪ জন শেয়ারহোল্ডার অঙ্গীকারনামার ফলে সংক্ষুব্ধ হয়ে আইডিআরএ-র কাছে চিঠি দিয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৭ আগস্ট আইডিআরএ-র নিযুক্ত আইনজীবী শেখ মোর্শেদ (অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল)-কে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আইডিআরএ।

সুত্র মতে, শেয়ারহোল্ডারদের সাথে বৈঠক করে তৈরি আপোষনামার এবং অঙ্গীকারনামার আইনী ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারগন। অঙ্গীকারনামার আইনী ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর আইডিআরএ কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবীকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে।

এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারী ১১ তারিখে হাওলাদার ইউনুস এবং ফেমস এন্ড আর-দুইটি অডিট ফার্মের রিপোর্টে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদকে সাসপেন্ড করে আইডিআরএ। সেই সাসপেন্ডেড পর্ষদের একই পরিবার থেকে তিনজনকে এবার নতুন পর্ষদেও রাখা হয়েছে।

বীমা

এদিকে অডিট ফার্মের রিপোর্টের ভিত্তিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদকে সাসপেন্ড করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে আজিজ হালিম চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস এবং একনাবিন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস নামক দুইটি অডিট ফার্মকে নিয়োগ দেয়া হয়। অডিট ফার্ম দুটির রিপোর্টে মন্জুরুর রহমান এবং তার পরিবার কর্তৃক বীমা আইন, ২০১০ এর ৭৬ ধারা ও বীমাকারীর মূলধন ও শেয়ারধারণ বিধিমালা, ২০১৬ এর ৩(৫) এবং ৪ (১), (২) এবং (৩) বিধি ভঙ্গ করে ১০ শতাংশ এর অধিক অর্থ্যাৎ ২২.৭৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ, কোম্পানী আইনের ৮৫ ধারা লঙ্গন করে সাধারণ কর্মচারীগন ভোট প্রদান, সেন্ট্রাল ডাটাবেজ থেকে পলিসিহোল্ডারদের ডাটা ডিলিট, ভুয়া পলিসি নাম্বার তৈরি করে কোম্পানী থেকে টাকা উত্তোলন, সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকিসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায়।

Advertisement
বীমা

এদিকে অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে ডাটা ডিলিটের একটি মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে দুর্নীতির অভিযোগ করে। দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রাক্তন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ৬৩৮ কোটি টাকার অনিয়ম, দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিং-এর তদন্ত চলমান রয়েছে।এছাড়াও জিয়াদ রহমান এবং আদিবা রহমান ডিজিটাল সিকিউরিটি মামলায় অভিযুক্ত হলেও এখনো আদালতে জামিন পাননি বলে জানা গেছে

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

বীমা

দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের নিয়ে ডেল্টা লাইফের পর্ষদ গঠনের পায়তারা

Published

on

Delta Life Insurance

দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের নিয়ে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাসপেন্ড পর্ষদ থেকে নতুন পর্ষদে তিন জনকে রাখা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অডিট রিপোর্টে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এ জন্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন পক্ষভুক্ত হয়ে আপিল করেছেন। চলতি বছরের ৩১ জুলাই আপিল ডিভিশনের আইটেম নম্বর ৫, সি.পি. ৭৮৬/২০২২ এবং সি.পি. ৮০৪, ৮০০/২২ তে এ আপিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হচ্ছে হাফিজ আহমেদ মজুমদারকে। এছাড়াও প্রফেসর ড. মো. জুনায়েদ শফিককে ভাইস চেয়ারম্যান, সুরাইয়া রহমান, আদিবা রহমান, জোয়াদ রহমান, সাকিব আজিজ চৌধুরী, চাকলাদার রেজানুল আলম এবং সাকিব আজাদকে নতুন পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে, আদিবা রহমান প্রতিষ্ঠানটির সাসপেন্ড পর্ষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। আর সুরাইয়া রহমান এবং জেয়াদ রহমানও সাসপেন্ড পর্ষদে ছিলেন।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ চার মাসের জন্য স্থগিত করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে ওই বিমা কোম্পানিতে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ১০ জুন ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদ সাসপেন্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার আদেশ দেয় আইডিআরএ। সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. কুদ্দুস খানকে ডেল্টা লাইফে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে আইডিআরএ।

জানা গেছে, মূলত অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হয়েছিল। অডিট রিপোর্টে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমান পাওয়ায় পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদকে সাসপেন্ড করেছিল আইডিআরএ।

এর আগে হাওলাদার ইউনুস এবং ফেমস এন্ড আর দু’টি চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ফার্ম কর্তৃক প্রাপ্ত অডিট রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ২২ টি এবং ২৫ টি অডিট আপত্তিতে কোম্পানীর অভ্যন্তরে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রশাসক নিয়োগের পর কোম্পানিটিতে ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিস্তারিত অডিট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আজিজ হালিম চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস এবং একনাবিন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস নামক দু’টি অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

Advertisement
বীমা

আজিজ হালিম চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস সুনির্দিষ্ট পাচঁটি বিষয়ের ওপর বিস্তারিত অডিট রিপোর্ট এবং একনাবিন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ২৯ টি আর্থিক অনিয়ম, বোর্ড গঠনে অনিয়ম, এজিএম সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সেন্ট্রাল ডাটাবেজ থেকে ডাটা ডিলিটসহ একটি আংশিক রিপোর্ট প্রদান করেছে। দুই অডিট ফার্মের প্রতিবেদনেই ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছিল।

এছাড়াও বিভিন্ন ভূয়া পলিসি নাম্বার তৈরি করে কোম্পানির এমডি এবং পরিচালকরা অসাধু কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি থেকে। এমনকি এক পলিসি নাম্বারের বিপরীতে একাধিকবার টাকা বের করারও অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও কোম্পানির ফান্ড যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণ, ডেল্টা লাইফের টাকায় গাড়ি কিনে একজন ডিরেক্টরের কোম্পানীতে ব্যবহার, অন্য কোম্পানীর কাজে ডেল্টা লাইফের টাকা ব্যবহার প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনিয়মের প্রমাণ উছে এসেছে। অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে মঞ্জুরুর রহমান এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ৬৩৮ কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে।

সাসপেন্ডকৃত পর্ষদের দায়িত্বকালে ডেল্টা লাইফে ৩৫ কোটি টাকা ভ্যাট, ৩৩০ কোটি টাকা ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও ভ্যাট কর্তৃপক্ষ এবং ট্যাক্স কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ডেল্টা লাইফে উক্ত টাকা বকেয়া সংক্রান্ত চিঠিও প্রদান করা হয়েছে। যদিও কোম্পানি থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাটের খরচ বাবদ প্রচুর পরিমাণ টাকা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি বলে অডিট রিপোর্টে উঠে আসে।

এছাড়াও একনাবিনের অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোম্পানীর সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের ২ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টি শেয়ার স্পন্সর শেয়ার। বাকি শেয়ার পাবলিক শেয়ার হলেও তিনি তার সমস্ত শেয়ার স্পন্সর শেয়ার হিসেবে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক অব কোম্পানিজ-এ দেখিয়েছেন। এছাড়াও মঞ্জুরুর রহমানের পরিবার থেকে জিয়াদ রহমান, সুরাইয়া রহমান, আনিকা রহমান এবং সাইকা রহমান স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার না হয়েও আরজেএসসি-তে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হিসেবে নিজেদের দেখিয়েছেন। এদিকে ২০১২ সালে বোর্ডের কর্তৃত্ব অর্জনের পর থেকে মঞ্জুরুর রহমান পরিবার কোম্পানিটিতে একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।

বীমা আইন লঙ্ঘন করে ১০ শতাংশের অধিক অর্থাৎ ২২.৭৯ শতাং শেয়ার ধারণ করার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। আইন অনুযায়ী ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার ৩ বছরের মধ্যে বিক্রয়ের বিধান থাকলেও ৬ বছর অতিক্রম হয়ে যাবার পরেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। এছাড়াও ডেল্টা লাইফের বার্ষিক সাধারণ সভায় কোম্পানী আইনের ৮৫ ধারা লঙ্ঘন করে সাধারণ কর্মচারীগন ভোট প্রদান করেছে বলে অডিট রিপোর্টে উঠে আসে।

Advertisement
বীমা

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ থেকে অডিট কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে পলিসি সংক্রান্ত প্রায় ২৮ লক্ষ ডাটা ডিলিট, পরিবর্তন, ভূয়া ডাটা সংযোজনসহ বিভিন্ন অভিযোগে কোম্পানীর সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, তার ছেলে জেয়াদ রহমান (সাসপেন্ডেড ডিরেক্টর), সাবেক সিইও আদিবা রহমান, আইটি বিভাগের ইনচার্জ কাজী এহতেশাম ফয়সাল, আইটি বিভাগের এভিপি মহসিন রেজা সহ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। উক্ত মামলায় হাইকোর্টে জামিন নিতে গেলে মহামান্য হাইকোর্ট জামিন প্রদান না করে আসামীদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। ডাটা ডিলিটের কারণে পলিসি গ্রাহকদের মৃত্যুদাবী এবং ম্যাচিউরড ক্লেইম পরিশোধ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

বীমা

প্রশাসক প্রত্যাহার, ডেল্টা লাইফের নতুন পর্ষদ গঠন

Published

on

Delta Life Insurance

প্রশাসক প্রত্যাহার করে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদ প্রত্যাহার করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। পরে গত দেড় বছরে ৩ দফায় প্রশাসক পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন আইডিআরএ’র সাবেক সদস্য কুদ্দুস খান।

সূত্র মতে, গত ২৪ জুলাই আইডিআরএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সমাঝোতার মধ্য দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে আইডিআরএ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও ডেল্টা লাইফের প্রত্যাহার হওয়া পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ কোম্পানি পরিচালনায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে যারা:
ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার; ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. জুনায়েদ শফিক; পরিচালক সুরাইয়া রহমান, তিনি সাসপেন্ডেড পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন; পরিচালক আদিবা রহমান, যিনি কোম্পানিটির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা; পরিচালক জেয়াদ রহমান, তিনি সাসপেন্ডেড পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন; পরিচালক সাকিব আজিজ চৌধুরী; পরিচালক চাকলাদার রেজানুল আলম এবং পরিচালক সাকিব আজাদ।

ডেল্টা লাইফ পরিচালনায় সিদ্ধান্ত সমূহ:
কোম্পানিটি পরিচালনায় নেয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো-

Advertisement
বীমা

১. গত ২৪ জুলাই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোম্পানির নতুন পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান সকল আইন পরিপালনপূর্বক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে;

২. কোম্পানির আর্থিক বিবরণী সম্পর্কিত তথ্যাদি উদঘাটনে নতুন করে অডিট ফার্মের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে;

৩. ইতোপূর্বে নিরীক্ষণকৃত নিয়মাবলী শুনানি সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করা হবে; এক বছরে ব্যবসায়িক কৌশলপত্র প্রদান করা হবে এবং তার অগ্রগতি প্রতি ১ মাস অন্তর অন্তর কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হবে;

৪.অতিদ্রুত বীমা আইন ও অন্যান্য আরোপিত বিধি-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে একজন দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য মুখ নিবাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ করা হবে;

৫. পূর্বে যদি কোন অনিয়ম চিহ্নিত হয়ে থাকে তার কোন পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

Advertisement
বীমা

৬. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্বের জরিমানা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে;

৭. পরিচালনা পর্ষদে আগামী ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত পর্যবেক্ষক হিসেবে মন্ত্রণালয়ের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি (যুগ্নসচিবের নিম্নে নয়) অন্তর্ভুক্ত থাকবেন;

৮. চলমান মামলাসমূহ আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২২ তারিখের মধ্যে প্রত্যাহার করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯.কর্তৃপক্ষের মামলাসমূহ নিষ্পত্তির বিষয়ে সহায়তা করা হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হবে;

১০. পারস্পরিক সমঝোতায় গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ আগামী বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

Advertisement
বীমা

উল্লেখ্য, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগের পর দফায় দফায় নিরীক্ষক নিয়োগ করে আইডিআরএ। একইসাথে একেক সময়ে একেক ধরণের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে দেয়া এক চিঠিতে আইডিআরএ জানায়, কোম্পানিটির ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তোলে ডেল্টা লাইফ কর্তৃপক্ষ এবং ঘুষ চাওয়ার ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগ মাথায় নিয়ে গত ১৪ জুন পদত্যাগ করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন।

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ফেসবুকে অর্থসংবাদ

বীমা
শিল্প-বাণিজ্য1 hour ago

কমলো স্বর্ণের দাম

বীমা
জাতীয়2 hours ago

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩০ কর্মকর্তাকে বদলি

বীমা
শিল্প-বাণিজ্য2 hours ago

বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে তুরস্ক যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল

বীমা
কর্পোরেট সংবাদ3 hours ago

নতুন ঠিকানায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ‘আশুলিয়া শাখা’

বীমা
পুঁজিবাজার4 hours ago

বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সাইফ পাওয়ারটেকের চুক্তি

বীমা
আন্তর্জাতিক4 hours ago

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও কমেছে

বীমা
কর্পোরেট সংবাদ5 hours ago

টানা চতুর্থবার এডিবির পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক

বীমা
ক্রিকেট5 hours ago

বিপিএলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কত, জানাল বিসিবি

বীমা
কর্পোরেট সংবাদ5 hours ago

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সাউথইস্ট ব্যাংকের চুক্তি

বীমা
কর্পোরেট সংবাদ5 hours ago

এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

তারিখ অনুযায়ী খবর

September 2022
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
Advertisement
Advertisement

এ সপ্তাহের আলোচিত

সম্পাদক : হায়দার আহমেদ খান এফসিএ

কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, শখ সেন্টার, লেভেল-৪, ঢাকা।

news.orthosongbad@gmail.com

+8801791004858

স্বত্ব © ২০২২ অর্থসংবাদ