মন্দার মুখে ভিয়েতনামের চাল রফতানি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১২ ১৪:০৩:১৯

করোনা মহামারীর মধ্যে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রায় এক মাস চাল রফতানি বন্ধ রেখেছিল ভিয়েতনাম। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির চাল রফতানিতে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে। তবে রফতানির পরিমাণ কমলেও চলতি বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে চাল রফতানি বাবদ ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (জিএসও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভিয়েতনাম বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। খাদ্যপণ্যটির রফতানিকারদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫২ লাখ ৯০ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কম।

তবে রফতানির পরিমাণ কমলেও চলতি বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে চাল রফতানি বাবদ ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাবদ ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ২৬০ কোটি ডলার আয় করেছেন বলে জিএসওর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বছরের প্রথম ১০ মাসে কমার পাশাপাশি মাসভিত্তিক হিসাবে গত অক্টোবরে ভিয়েতনাম থেকে চাল রফতানিতে রীতিমতো ধস নেমেছে। ভিয়েতনামের মিনিস্ট্রি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট জানিয়েছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে তিন লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত অক্টোবরে ভিয়েতনাম থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি কমেছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ।

চলতি বছরের (অক্টোবরে) চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের সব মিলিয়ে ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় কমেছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ।

বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশটি থেকে চীনে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি হয়েছে। তালিকায় এর পরই যথাক্রমে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে নাম রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানিতে মন্দা ভাব বজায় থাকলেও ভিয়েতনামের বাজারে রফতানিযোগ্য ১০ শতাংশ ভাঙা চালের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কৃষিপ্রধান মেকং বদ্বীপে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মূলত এর জের ধরে অঞ্চলটি থেকে চালের সরবরাহ সীমিত হয়ে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যটির দামে। রফতানির পরিমাণ কমলেও সরবরাহ সংকটের জের ধরে ভিয়েতনামের বাজারে বাড়তির দিকে রয়েছে চালের রফতানি মূল্য।

গত মার্চের শেষ ভাগে চাল রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিয়েতনাম সরকার। মূলত করোনাকালে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িক এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মে মাসে এসে বিদ্যমান এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভিয়েতনাম সরকার। ফলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি ফের শুরু হয়। তবে দেশটির চাল রফতানিতে এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।

গত বছর ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল বলে আরেক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন। আয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখতে চলতি বছর ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৬৭ লাখ টন চাল রফতানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বছরের প্রথম ১০ মাসের রফতানির চিত্র বিশ্লেষণ করলে এ লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় রয়ে যাচ্ছে। বছর শেষ হতে মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানিতে লক্ষ্যের তুলনায় ১৪ লাখ টন পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূত্র রয়টার্স ও সিনহুয়া।

অর্থসংবাদ/ এমএস

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।