হুয়াওয়ের ওপর মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা কাটছে কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১১ ১০:৩০:২৯

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে চীনভিত্তিক হুয়াওয়ের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি রুখতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। হুয়াওয়ের ওপর মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে হুয়াওয়ের ব্যবসা কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

নিজেদের পণ্য উন্নয়নে মার্কিন অংশীদারদের কাছ থেকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্য ক্রয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির। এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত আগস্টে হুয়াওয়ে ইস্যুতে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হুয়াওয়েসহ তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। মার্কিন থাবা থেকে হুয়াওয়েসহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে বাঁচাতে তারা কঠোর হতেও দ্বিধা করবে না।

পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ইলেক্টোরাল ভোট জো বাইডেনের ঝুলিতে গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০ জানুয়ারি ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডেমোক্র্যাট বাইডেন। নতুন প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের জেরে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বিশ্বের বৃহৎ টেলিকম নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম এবং দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ের বিপদ কাটবে কিনা, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে হুয়াওয়ে ইস্যুতে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, শুধু হুয়াওয়ে নয়; চীনভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পথ অনুসরণ করেছেন, জো বাইডেন সে পথ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। কারণ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইন প্রণেতাদের মধ্যেই তীব্র চীনবিরোধী মনোভাব বিরাজমান।

এ বিষয়ে পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের রিসার্চ ফেলো মার্টিন চোরজেম্পা বলেন, জো বাইডেনের আমলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের দেখা মিলবে। এরই মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে থেকে শুরু করে ইন্টারনেট কোম্পানি বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত সোস্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক ও টেনসেন্ট নিয়ন্ত্রিত মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। চীনভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ইস্যুতে ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপগুলো থেকে খুব কম সরে আসার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, জো বাইডেন একটা সময় চীনের উত্থানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অবশ্য পরবর্তী সময়ে চীন ইস্যুতে নিজের বক্তব্য ক্রমে তীক্ষ করেছেন তিনি। এক পর্যায়ে বাইডেনের মুখেই উচ্চারিত হয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একজন ঠগ-প্রতারক এবং জলবায়ু ও মানবাধিকার ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। হুয়াওয়ে ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছেন জো বাইডেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিটিক্যাল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণে চীনের ঝুঁকিপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বে না রাখার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

গত আগস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের ওয়েবসাইটে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাত্ক্ষণিকভাবে নিজেদের ভুল শুধরানো। নিজেদের যন্ত্রাংশের মাধ্যমে চীনা সরকারের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে হুয়াওয়ে, এমনটাই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। হুয়াওয়েকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিও বলে আসছে দেশটি। যদিও হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু হুয়াওয়ে নয়; সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত শর্ট ভিডিও তৈরির সোস্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক ও টেনসেন্ট নিয়ন্ত্রিত উইচ্যাট নিষিদ্ধে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময় ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে টিকটককে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা মেনে মার্কিন কার্যক্রম বিক্রির জন্য ওরাকল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে টিকটক। বিষয়টি এখন আদালতে আটকে আছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নানা অজুহাত এবং অপকৌশলে বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেয়া হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা দুর্বলতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

চীনের দাবি, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা নয়; একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত হেনস্তার শিকার হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি থামাতে একের পর এক অন্যায় অভিযোগ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক্কা দিতে সক্ষম সব চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন তথ্য নিরাপত্তার অভিযোগ তুলছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার দিক থেকে দাবিয়ে রাখতে পরিকল্পিত ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অপকৌশলের জবাব দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ ও পন্থা চীনের হাতে রয়েছে।

অর্থসংবাদ/এসআর

 

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।