একটি ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তিনটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১০ ১১:০২:৪১

এতদিন একটি ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শুধু একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করতে পারত।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২০ এপ্রিল জারি করা সার্কুলার সংশোধন করে সোমবার নতুন একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ তহবিলের আওতায় কোনো ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান অনধিক তিনটি ব্যাংক হতে অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

২০ এপ্রিলের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, এ তহবিলের আওতায় কোনো একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান শুধু একটি ব্যাংক থেকেই অর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে।

নতুন সার্কুলারে আগের অন্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত রয়েছে।

৩ হাজার কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) কেবল তাদের সমিতিভুক্ত সদস্যদেরই ঋণ দিতে পারছে।

গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এর বাইরে কোনো ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়া যাচ্ছে না।

তহবিলের উৎস ও পরিমাণ

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের তিন হাজার কোটি টাকার জোগান দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে। এই স্কিমের মেয়াদ হবে তিন বছর।

বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ স্কিমের আওতায় অর্থায়নকারী ব্যাংক হিসেবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনানশিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হচ্ছে। তফসিলি ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তাদের অনুকূলে অর্থায়ন করবে।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) থেকে সনদ পাওয়া ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

কারা ঋণ পাচ্ছেন

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক, প্রান্তিক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে কৃষি এবং বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিল থেকে ঋণ পাচ্ছেন।

অতিদরিদ্র, দরিদ্র অথবা অনগ্রসর গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি এবং অসহায়/নিগৃহীত নারীদের এ ঋণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।

ঋণের র্শত

ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নীতিমালার পাশাপাশি গ্রাহকের বিগত এক বছরের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ঋণ বিতরণ করতে হবে।

কেবল ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সমিতিভুক্ত কোনো সদস্যকেই এই ঋণ দেওয়া যাবে। একক গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ৭৫ হাজার টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত গ্রুপভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গ্রুপের অনুকূলে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এককভাবে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। আর যৌথ প্রকল্পের আওতায় গ্রুপভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে (ন্যূনতম পাঁচ সদস্যের গ্রুপের জন্য ঋণের পরিমাণ হবে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে ঋণের পরিমাণ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।

সুদের হার

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকের অনুকূলে দেওয়া পুনঃঅর্থায়নের বিপরীতে সুদের হার হবে বার্ষিক ১ শতাংশ। অর্থায়নকারী ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া অর্থায়নের বিপরীতে সুদ হার হবে বার্ষিক ৩ দশমকি ৫ শতাংশ। আর গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এর বাইরে কোনো ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়া যাবে না।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে সাপ্তাহিক/মাসিক কিস্তিতে ঋণের অর্থ আদায় করবে। অর্থায়নকারী ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে আদায়ের ক্ষেত্রে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেবে। ব্যাংকগুলো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আদায় করবে।

অর্থসংবাদ/এসআর

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।