জ্বালানি খাতে মার্কিন নীতি বাস্তবায়ন করবেন বাইডেন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১০ ১০:৩২:২১

এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন কমলা হ্যারিস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে শুরু হতে যাচ্ছে বাইডেন-কমলার নতুন অধ্যায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের পালাবদল জ্বালানি খাতে মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। কেননা ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের অনেক নীতি থেকে সরে এসেছিলেন। তেমনি বাইডেনের হাত ধরে দেশটির ফের আগের উদারনৈতিক নীতিতে ফিরে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি খাতেও গুরুত্ব পেতে পারে পরিবেশ সুরক্ষার ইস্যু।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ অর্থনীতির দেশে ক্ষমতার পালাবদল নীতির প্রশ্নে খুব একটা পরিবর্তন আনে না। তবে এবারের প্রশ্নটা আলাদা। কেননা ক্ষমতা ছাড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি জ্বালানি বাণিজ্যের খোলনলচে বদলে দিয়েছিলেন। ওবামার আমলে হাতে নেয়া বিভিন্ন নীতি ছুড়ে ফেলে নিজের মতো করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছিল তার।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার কিংবা অবরোধ আরোপের মধ্য দিয়ে মার্কিন আধিপত্য সম্প্রসারণের পথে হেটেছেন ঝানু এ ব্যবসায়ী। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিকাশ মূল উদ্দেশ্য হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা শাপে বর হয়েছে। বিশেষত পরিবেশ সুরক্ষার ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে ট্রাম্পের গৃহীত নীতি।

জো বাইডেন বরাবরই উদারপন্থী। তাই ট্রাম্পের একচেটিয়া বাণিজ্য নীতি থেকে সরে আসতে পারেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে জ্বালানি খাতে। বাইডেন পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়নের পক্ষে সোচ্চার। জ্বালানি খাতেও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে তিনি বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। জ্বালানি বাণিজ্যের প্রশ্নে এটি ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে ব্যবধান গড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টানা ও পরিবেশ সুরক্ষার ইস্যুতে প্যারিস চুক্তিকে অন্যতম বৈশ্বিক অগ্রগতি বিবেচনা করা হয়। এতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার বিষয়ে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ওবামার হাত ধরে এ চুক্তি সই করে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাইডেন। চুক্তিটি কার্যকরে বাইডেনের ভূমিকা ও প্রভাব ছিল। অথচ ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর পেছনে অন্যান্য অনেক শিল্পের মতো জ্বালানি খাতের চাপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।

বাইডেন নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেই প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই। এ মনোভাব থেকে ওবামা-বাইডেনের হাত ধরে কার্বন নিঃসরণের হার কমিয়ে আনা, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিকল্প জ্বালানির বিস্তারসহ আরো নানা ধরনের নীতি নেয়া হয়েছিল।

তবে ট্রাম্পের আমলে এসব নীতির বেশির ভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। এখন বাইডেন হোয়াইট হাউজে গেলে জ্বালানি খাতে মার্কিন নীতি বাস্তবায়নে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বাইডেন বলেছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম কাজ হবে প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া।

অর্থসংবাদ/এসআর

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।