চলছে ভোটগ্রহণ, ভোটার উপস্থিতি কম, কিছু কেন্দ্রে বাধার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০২০-০২-০১ ১২:০৫:২৭

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হচ্ছে এই দুই সিটিতে। সকাল ৮টায় এই ভোট শুরু হয়। তবে বেলা ১০টা পর্যন্ত বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। কিছু কেন্দ্রে ভোটার নেই বললেই চলে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এসব কেন্দ্রে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি কেন্দ্রের সামনে দুই কমিশনার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি খুব কম। হাতেগোনা দুয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া কোথাও ভোটারদের লাইন ছিল না। দুয়েকজন ভোটার এসে ভোট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে পাঁচটি বুথ করা হয়েছে। মোট ভোটার ১৬৮৪ জন। বুথগুলো ঘুরে দেখা যায়, কোনও ভোটার নেই। ২ নম্বর বুথে ২৯১ জন ভোটারের মধ্যে ১১ জন ভোট দিয়েছেন সকাল ১০টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সাধন কুমার বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি ১ পারসেন্টও না। বলতে গেলে একেবারেই ভোটার নেই।’

কেন্দ্রে ভোটারদের ঢুকতে না দেওয়া এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় গুলশান-২ এর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভোট দেওয়ার পর উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালাচাঁদপুর স্কুল কেন্দ্রে যান তাবিথ। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের এজেন্টদেরও বের করে দিয়েছে। আমি এসেছি যেন ভোটারদের অন্তত প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারি।’ কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে তিনি অভিযোগ জানান। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই কেন্দ্রটি ভোটার শূন্য। গণমাধ্যমের কর্মীদের দেখে লাইনে দাঁড়ান নৌকার কার্ডধারী লোকজন। তবে লাইনে দাঁড়ালেও কাউকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
ভোটের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার অঙ্গীকার ইশরাক হোসেনের

বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলেও ভোটার ও এজেন্ট প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ করেন তাবিথ। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এই কেন্দ্রে আসেন তিনি। ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে শের-ই-বাংলা স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন করে ভোটার ও এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তাবিথ।

পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা শুনেছি, কয়েকটি কেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ম্যাজিস্ট্রেটদের অবহিত করেছি। আমি সশরীরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরবো। কোনোকিছুই আমাদের আটকাতে পারবে না।’

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গোপীবাগের শহীদ শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, সব করবো।’

উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম উত্তরা নওয়াব হাবিবুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন। মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম ভোট শেষে ডিএনসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুর্মিটোলা হাইস্কুল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ভালো রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ডক্টর মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। এ সময় জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে হারজিত থাকতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত আমরা আশাবাদী, ঢাকাবাসী আমাদের নিরাশ করবে না।’ নির্বাচনের পরিবেশের ব্যাপারে তাপস বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিবেশ ঠিক আছে বলেই মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যেনো বজায় থাকে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রের ২০০ এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন। দলটির উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের দিন উত্তরা, গুলশান, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা, ভাষানটেক, দারুস সালাম ও হাতিরঝিল থানার ২৫টির বেশি কেন্দ্র থেকে হাতপাখার দুই শতাধিক পোলিং এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

আজ বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইসি সবার সহযোগিতা চেয়েছে। একইসঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়ো

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।