ক্যাটাগরি: ধর্ম ও জীবন

পণ্যের দাম বাড়িয়ে রোজাদারদের কষ্ট দেওয়া মহাপাপ

মুসলমানদের জীবনকে পরিশুদ্ধ এবং পাপমুক্ত করতে প্রতি বছর আসে মাহে রমজান। একইসাথে এ মাসে বরকত ও রহমতকে আল্লাহ কয়েকশত গুণ বাড়িয়ে দেন। রমজানে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের থাকে আলাদা নিবেদন। নিয়ম ইফতার-সেহেরি মানুষকে আরও নিয়মানুবর্তিতা শেখায়। তবে মুসলমানদের পরিশুদ্ধতার মাসে দেশে সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ী।

রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানপ্রধান দেশে দাম কমে আসার দিনে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও দ্রব্যসামগ্রীর দর কয়েক শতাংশ বেড়ে যায়। অবৈধ মুনাফার আশায় এই পবিত্র মাসেও একশ্রেণির কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। ফলে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আায়ের রোজাদারকে।

অথচ অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা ইসলামে নিষেধ। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করে রোজাদারকে কষ্ট দেওয়া ইসলামে মহাপাপ। এ ব্যাপারে মহানবি (সা.) একাধিকবার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এর যুগে একবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেল। লোকেরা বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে দিন। রাসুল (সা.) বললেন, মূলত আল্লাহ তায়ালাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকারী, রিজিক সঙ্কীর্ণকর্তা, প্রশস্তকর্তা ও রিজিকদাতা। আমি আমার রবের সঙ্গে এভাবে সাক্ষাতের আশা রাখি যে, তোমাদের কারো যেন আমার বিরুদ্ধে রক্ত বা সম্পদ, কোনো বিষয়ে কোনোরূপ দাবি না থাকে। (তিরমিজি : ২৪৫)।

হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মূল্য বৃদ্ধির অসদুদ্দেশ্যে মুসলমানদের লেনদেনে হস্তক্ষেপ করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে তাকে আগুনের পাহাড়ে উঠিয়ে শাস্তি দেবেন। (তাবরানি: ২১০)।

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো শহরবাসী কোনো গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করবে না। মানুষকে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দাও, যেন আল্লাহতায়ালা তাদের একের মাধ্যমে অন্যের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। (তিরমিজি : ২৬১৮)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন, শহরগামী কাফেলার লোকদের থেকে আগে আগে পণ্য কিনে নেয়ার জন্য শহরের বাইরে গিয়ে ওদের সঙ্গে মিলিত হওয়া যাবে না। কোনো ব্যক্তি এরুপ করলে, কাফেলার লোকেরা শহরে আসার পর এখতিয়ার থাকবে যে, বিক্রয় চূক্তিকে বহাল রাখবে নাকি রহিত করবে। (মুসলিম : ১৯৪১)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘ন্যায্যমূল্যে জিনিস সরবরাহকারী রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুদ করে সংকট সৃষ্টিকারী অভিশপ্ত’। (বোখারি : ৩৭১২)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখে সে ব্যক্তি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং তার প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন’। (মিশকাত :১৩১৬)।

অর্থসংবাদ/এমআই

শেয়ার করুন:-
শেয়ার