ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক

প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে পারে আড়াই শতাংশ

২০২২ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈদেশিক দাম বেড়ে ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এতে ধস নেমেছিল চাহিদায়। তবে ২০২৩ সালে লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে জ্বালানিটির বাজারদর। চলতি বছর এটির চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহে টান পড়ে। একসময় রুশ গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ইউরোপের দেশগুলো। ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় গ্যাস আমদানিতে রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ইউরোপ। অঞ্চলটির ক্রেতারা বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে লাগামছাড়া হয়ে ওঠে পণ্যটির বাজার।

এদিকে আকাশচুম্বী দামের কারণে শিল্পসহ সব খাতেই গ্যাসের চাহিদা কমে যেতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে দামও। এমনকি ২০২৩ সালে এ প্রবণতায় ছিল গ্যাসের বৈশ্বিক বাজার। নিম্নমুখী দামের কারণে ফের গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে শিল্প খাত জ্বালানিটির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়াতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জন্য প্রকাশিত গ্যাসের বাজার প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, এ বছর জ্বালানিটির বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুটে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

সংস্থাটি জানায়, এশিয়া প্যাসিফিকের দ্রুতবর্ধনশীল বাজারগুলোয় চাহিদা প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাসসমৃদ্ধ দেশগুলোয়ও জ্বালানিটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

এদিকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর থাকবে বলেও জানিয়েছে আইইএ। চাহিদা বাড়তে পারে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সংস্থাটির বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্বজুড়ে এ বছর এলএনজির সরবরাহ বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়তে পারে, যা এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দিলেও বাজার ব্যাপক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে আইইএ। এটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন লিকুইফ্যাকশন প্লান্ট চালু হতে দেরি হওয়া, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্দিষ্ট লিগ্যাসি প্রজেক্টে ফিড গ্যাসসংক্রান্ত জটিলতা, রফতানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জসহ সব ধরনের ঝুঁকিই রয়েছে গ্যাসের বাজারে। এসব কারণে চলতি বছর জ্বালানিটির বাজার অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। বাড়তি চাহিদার বিপরীতে সংকুচিত সরবরাহ মূল্যের উত্থান-পতনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

কাফি

শেয়ার করুন:-
শেয়ার