বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকরিক খনি প্রকল্প ২৭ বছর পর চালু হতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে চলতি বছর খনিটির কার্যক্রম শুরু হবে। পশ্চিম আফ্রিকার গিনিতে অবস্থিত এ খনিতে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের আকরিক রয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
গিনির উপকূলীয় রাজধানী থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সিমানদউ উপত্যকায় অবস্থিত খনিটি খননের জন্য ১৯৯৭ সালে অনুমোদন পায় যুক্তরাজ্যের কোম্পানি রিও টিনটো। এর পর থেকে দুটি ক্যু, চার রাষ্ট্রপ্রধান পরিবর্তন এবং তিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেখেছে গিনির জনগণ।
স্ক্যান্ডাল, মিথ্যা অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম চালাতে গিয়ে এরই মধ্যে প্রায় তিন দশক পার হয়েছে। এ সময়ে রিও টিনটোর ছয়জন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ হয়েছে। আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে অর্ধেক স্বত্ব হারিয়েছে রিও টিনটো। মীমাংসা করতে হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগও। এমনকি এর আগে প্রকল্পটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিল কোম্পানিটি।
বিশ্লেষকরা জানান, এককভাবে কোনো কোম্পানির পক্ষে খনির কার্যক্রম চালানো কঠিন এবং ব্যয়বহুল। এ কারণে আকরিক খনিটিতে রিও টিনটোর সঙ্গে গিনির সরকার এবং আরো সাতটি কোম্পানি যৌথভাবে কাজ করবে। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানি চীনের। রিও টিনটো একটি আকরিক খনি খনন করবে, যার নাম সিমফার প্রকল্প। এ প্রকল্পে রিও টিনটোর অংশীদার হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী চিনালকো।
দ্বিতীয় খনিটির নাম ডব্লিউসিএস প্রকল্প, যা খনন করবে বাওউ। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্টিল উৎপাদনকারী কোম্পানি। এ কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক উইনিং ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ।
শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে রিও টিনটোর চীনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অংশীদাররা বেইজিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। অ্যাংলো-অস্ট্রেলীয় খনি কোম্পানিটি ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল খনন প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
কোম্পানিগুলো খনি খননের পাশাপাশি ৫৫২ কিলোমিটার রেললাইন তৈরিতে যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে। এ রেললাইন গিনির পার্বত্য এলাকার ভেতর দিয়ে সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করবে। এছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তুলবে।
অর্থসংবাদ/এমআই