ক্যাটাগরি: বীমা

স্বদেশ লাইফের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ পরিচালককে অপসারণ

বিমা আইন লঙ্ঘন ও অর্থ আত্মসাৎ করায় স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. শহীদুল আহসানকে অপসারণ করেছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। একই সঙ্গে কোম্পানিটির ১০ পরিচালককে অপসারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) আইডিআরএ’র আইন শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক নির্দেশনায় এ অপসারণ আদেশ জারি করা হয়।

জানা গেছে, এর আগে বিমা আইন লঙ্ঘনের কারণ ব্যাখ্যা করতে ৪ ডিসেম্বর মাকসুদুর রহমানকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে কেন অপসারণ করা হবে না- সে ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়।

অপসারণ হওয়া ১০ পরিচালক হলেন- নুরুল আলম চৌধুরী, মো. বাহারুল আহসান, মারজানুর রহমান, ফারাহ আহসান, এ বি এম আব্দুল মান্নান, শাসসুন নাহার রহমান, মো. ফিরোজুল আহসান, মো. কামরুল আহসান, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং মদিনা তুন নাহার।

আইডিআরএ’র অপসারণ আদেশে বলা হয়, স্বদেশ ইসলামী লাইফের পেইড-আপ ক্যাপিটাল এর বিপরীতে রাখা ১৩.০৫ কোটি টাকা স্থায়ী আমানতের বিপরীতে এনআরবিসি ব্যাংক হতে ১৪.৩০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে। বীমা আইন ২০১০ এর ২১ (২) ধারায় পেইড-আপ ক্যাপিটাল কোনো তফসিলি ব্যাংকে দায়মুক্তভাবে রাখার বিধান রয়েছে। তাছাড়া ঋণ হিসেবে উত্তোলিত টাকা কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সময়ের স্থিতিপত্রে প্রদর্শন করা হয়নি বিধায় উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

জানা যায়, স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ গ্রহণ করে বীমা আইন লঙ্ঘন ও আত্মসাৎ করার মাধ্যমে বীমা কোম্পানি ও পলিসি গ্রাহকের স্বার্থহানি করায় বীমা আইন ২০১০ এর ৫০ (১) ধারা অনুযায়ী পদ হতে কেনো অপসারণ করা হবেনা তার কারণ দর্শানোর জন্য গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সময় প্রদান করে ডাকযোগে (রেজিস্ট্রিসহ) এবং ই-মেইলের মাধ্যমে গত ৪ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের চিঠি পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তরা কারণ দর্শানোর কোনো জবাব জমা দেননি অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ করেননি।

এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) পৃথক পৃথক আদেশ জারি করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ পরিচালককে অপসারণ করল বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার