নতুন প্রজন্মের দুই ব্যাংক আসছে পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১০-০৮ ১৪:৫২:৩৪

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)- এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসছে নতুন প্রজন্মের দুটি ব্যাংক। চতুর্থ প্রজন্মের এ ব্যাংক দুটি হলো- দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক লিমিটেড এবং প্রবাসী উদ্যোক্তাদের এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেড। এর ফলে দীর্ঘ এক যুগ পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে নতুন কোনো ব্যাংক।

এরই মধ্যে ব্যাংক দুটির মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক আইপিওর জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করেছে। আর এসবিএসি ব্যাংক ২০২০ সালের ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আইপিওতে আসতে আবেদন বিএসইসিতে জমা দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে ব্যাংকখাতের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। অর্থাৎ ১২ বছরের বেশি সময় পর কোনো ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলে ৩০টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে মূলধনের প্রায় ২৫ শতাংশ অবদান রাখছে।

সম্পূর্ণ বিদেশি ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক এনআরবিসি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১২ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংক টায়ার-১ ক্যাপিটাল পূরণ করবে। এছাড়া উত্তোলিত ১২০ কোটি টাকা থেকে ১১০ কোটি টাকা সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হবে। আর ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে। বাকি টাকা আইপিও খরচ বাবদ ব্যয় করবে।

বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ব্যাংকটির সর্বশেষ ২০১৯ সালে হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিলো ১ টাকা ৮২ পয়সা। সর্বশেষ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা।

এনআরবিসি ব্যাংক ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধক (আরজেএসসি) থেকে অনুমোদন নিয়েছে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকটিকে তালিকাভুক্ত করতে ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স ইনভেস্টমেন্ট।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে ২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ডিসেম্বর ২০২০ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবদেন দিয়ে বিএসইসিতে আইপিওতে আসতে আবেদন করবে ব্যাংকটি।

তবে তার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে উদ্যোক্তাদের-ক্যাপিটালের সমান ৪০০ কোটি টাকার পরিবর্তে ২০০ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করবে এই অনাপত্তি পত্রের জন্য আবেদন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনাপত্তি পত্র দিলে কমিশনের কাছে আবেদন করবে ব্যাংকটি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২০০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করবে ব্যাংকটি।

২০১৩ সালে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালু হওয়া এসবিএসি ব্যাংকের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৫৬৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।