মিন্নির জবানবন্দিই ফাঁসির সাজা দেওয়ার মূল ভিত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১০-০৫ ০৬:১১:১৮

বরগুনার শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিকেই তাঁকে ফাঁসির সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মিন্নির দেওয়া জবানবন্দিকে রাষ্ট্রপক্ষের অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিয়ে সমর্থিত করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় বরগুনা আদালতের দেওয়া রায় পর্যালোচনায় এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।

রায়ে বলা হয়েছে, মিন্নির সঙ্গে স্বামী রিফাত শরীফের সম্পর্কের অবনতি ও মিন্নিকে মারধর করার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণেই মিন্নিকে ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে মিন্নির বিরুদ্ধে একসঙ্গে দুজন স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিও উল্লেখ আছে।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামি মিন্নি তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন যে আইডিয়াল কলেজে পড়ার সময় ভিকটিম রিফাত শরীফের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক হয়। রিফাত শরীফের মাধ্যমে তাঁর বন্ধু আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও পরিচয় এবং পরবর্তী সময়ে নয়ন বন্ডের সঙ্গেও তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

রায়ে বলা হয়, আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে আসামি মিন্নির বিয়ে হয় ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর। এই তথ্য গোপন করে ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল ভিকটিম রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে হয় মিন্নির। শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে আসামি মিন্নির সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। এ নিয়ে ভিকটিম রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির মনোমালিন্য হয়। আসামি নয়ন বন্ডের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসামি মিন্নির উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা, এ কারণে হেলালের মোবাইল ফোনসেট আনায় হেলালের বন্ধু আসামি রিফাত ফরাজী ও মিন্নির সঙ্গে ভিকটিম রিফাত শরীফের ঝগড়া, মিন্নির মারধর (তলপেটে লাথি মারা) করার ঘটনা থেকেই রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও মিন্নির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে রায়ে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই মামলার ভিকটিম রিফাত শরীফকে খুন করার দায়ে আসামিরা সমানভাবে দায়ী। রায়ে বলা হয়, আসামি মিন্নি এ মামলার ঘটনার পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা (মাস্টারমাইন্ড) এবং তাঁর কারণেই হতভাগ্য রিফাত শরীফ নির্মমভাবে খুন হয়েছেন এবং তাঁর মা-বাবা পুত্রহারা হয়েছেন। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে তাঁর বয়সী মেয়েদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই এই মামলায় তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

রায়ে বলা হয়, প্রকাশ্য দিবালোকে সনাতনি অস্ত্র রামদা দিয়ে কুপিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ড মধ্যযুগীয় বর্রতাকেও হার মানিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারী আসামিরা প্রত্যেকে যুবক। তথ্য-প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে যুবসমাজসহ দেশ-বিদেশের সব বয়সের মানুষ ওই নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছে। এমতাবস্থায় তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের যুবসমাজ ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

 

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।