বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির কারন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০৯-২৬ ০২:১১:০৬, আপডেট: ২০২০-০৯-২৬ ০২:৪৫:৪১

বীমা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী থার্ডপার্টি ইলুরেন্সের বিধান বিলোপ করার বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। তারই পরিপেক্ষিতে থার্ডপার্টি ইন্স্যুরেন্স বিধান বিলোপের জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মূখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বরাবর চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশন। গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন অর্থসংবাদকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের নিকটও এ চিঠি দেয়া হয়েছে।এর আগেও এবিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

শেখ কবির হোসেন অর্থসংবাদকে বলেন,থার্ডপার্টি ইন্সুরেন্স কোন ইন্সুরেন্স-ই না। কারন থার্ডপার্টি ইলুরেন্স এর বিপরীতে মোটর গাড়ী দূর্ঘটনায় পতিত হলে গাড়ী, যাত্রী এবং গাড়ী চালক এর ক্ষতি হলে বীমা গ্রহীতা কোন ক্ষতিপূরণ পান না। শুধুমাত্র গাড়ীর মালিক গাড়ীটিকে রোডেবল এবং পুলিশি মামলা করা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নামমাত্র প্রিমিয়াম সাপেক্ষে কোন নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী থেকে এ ধরনের বীমা ঝুঁকি গ্রহন করে থাকেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও থার্ডপার্টি ইন্সুরেন্স প্রথা উঠে গেছে। থার্ডপাটি ইলুরেন্সের বিধান থাকার ফলে পুরনো গাড়ীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরদিকে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে। ফার্স্ট পার্টি ইন্সুরেন্স হলে প্রিমিয়াম বেশি আসবে, ফলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব পাবে এ খাত থেকে।সুতরাং থার্ডপার্টি ইন্সুরেন্স দেশের জনগন ও সরকারের জন্য কোন উপকারে আসছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, থার্ড পার্টি ইন্সুরেন্স না থাকলে গ্রাহকের প্রিমিয়াম অনেকগুন বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও অনেকগুন বেড়ে যাবে। এছাড়াও কমিশন বাণিজ্যের ফলে অসম প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কারনে কোনভাবেই শৃংখলা ফিরছিল না এ খাতে। বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেহেতু কমিশন নির্ধারিত করে দিয়েছে। এর ফলে কোনভাবেই ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন ব্যয় করতে পারবে না কোম্পানিগুলো। ফলে কোম্পানিগুলোর আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

তাছাড়াও পুঁজিবাজারে সাধারণ বীমা কোম্পানির বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়িয়ে বিনিয়োগ নীতিমালা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ‘নন-লাইফ বীমাকারীর সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রবিধানমালায় নন-লাইফ বীমাকারীর সম্পদের ৬০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের ইস্যু করা গ্যারান্টিযুক্ত বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারবে বীমা কোম্পানি।

সাধারণ বীমা কোম্পানির জন্য এই সুযোগ রাখায় পুঁজিবাজারে বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও সাধারণ বীমা কোম্পানির বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের ৬০ শতাংশ এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। কিছু শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির অগ্রাধিকার বা সাধারণ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে এ সম্পদ বিনিয়োগ করা যাবে। এই প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

পুঁজিবাজারে অনেকদিন ধরেই এসব বিষয়ে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছিল। যার কারনে বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে দেখা গেছে।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।