তালিকাচ্যুত হচ্ছে বেক্সিমকো সিনথেটিকস 

জাকির হোসাইন প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৭ ০০:১০:৩৬, আপডেট: ২০২০-০৯-০৭ ১০:১০:৫৫

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জেড ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানি বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেড তলিকাচ্যুত হচ্ছে  খুব শিগগিরই।বিনিয়োগকারীদের দায় মিটিয়ে দিতে প্রস্তুত কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবত লোকসানে থাকা এ কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে লভ্যাংশ দিতে পারছে না।গত ২০১২ সালের পর কোন ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি বিনিয়োগকারীদেরকে। এতে সাধারন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের পাওনা ফেরত দিয়ে দায়মুক্ত হতে চায়। এ জন্য বেক্সিমকো সিনথেটিকস শেয়ারবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আবেদন করেছে।

সুত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। কারন দীর্ঘদিন লোকসানে থাকার কারনে শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিটি থেকে কোন লভ্যাংশ পায়নি।তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি কোম্পানিটির নেয়া এ সিদ্ধান্তটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অভিহিত মূল্যে শেয়ার সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি।

সুত্র জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং বেক্সিমকো সিনথেটিকস এ বিষয়ে একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে কোন কোম্পানি স্বেচ্ছায় বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করে দায় মুক্ত হওয়ার এ ঘটনা বিরল।

বিনিয়োগকারীরা অর্থসংবাদকে বলেন, এর আগে অনেক কোম্পানি তো তালিকাচ্যুত হয়েছে কিন্তু সাধারন বিনিয়োগকারীরা কিছুই পায়নি।যেসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত হয়েছে সেগুলোরও সুরাহা হওয়া দরকার।আর ক্সিমকো সিনথেটিকসের শেয়ার দর যেহেতু অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে, সে হিসেবে এটি বাজারের জন্য শুভ সংবাদ। অন্তত বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের জন্য এটি সম্ভব হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।এর ফলে বর্তমান কমিশনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে সুশাসন ফিরে আসবে।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।কোম্পানিটির সর্বমোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে শেয়ার রয়েছে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট রয়েছে দশমিক ০২ শতাংশ। এছাড়াও সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার।সর্বশেষ গতকাল ডিএসইসিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৮ টাকা ৯০ পয়সা।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।