রফতানিতে সুবাতাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৬ ১৫:৫১:৪৪, আপডেট: ২০২০-০৯-০৬ ১৬:৩৯:৩২

মহামারি করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। ফলে করোনার প্রার্দুভাবের কারণে স্থগিত ও বাতিল হওয়া বিদেশিদের ক্রয়াদেশ আবারও ফিরে আসছে। এতে বাড়ছে রফতানি। করোনার কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে বিপর্যস্ত রফতানি নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই আশার আলো জাগিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের আগস্ট শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি বেড়েছে ১ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাণঘাতি করোনার প্রার্দুভাবের কারণে দেশে দেশে লকডাউন চলে। এতে বছরের শুরুর দিকে পুরো বিশ্ব অচল হয়ে পড়ে। স্থবির হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে অর্থনীতি। এমন অবস্থায় সরাসরি বাণিজ্যিক আঘাত হানে দেশের রফতনি খাতে। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য খুলতে শুরু করেছে। লকডাউনে বাতিল ও স্থগিত হওয়া রফতানি আদেশ ফিরতে শুরু করেছে। এতে মহামারির প্রথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে রফতানিকারকরা।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের (জুলাই-আগস্ট) প্রথম দুই মাসে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৮১ কোটি মার্কিন ডলার। বিপরীতে আয় হয় ৬৮৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১ শতাংশ। একই সঙ্গে অর্জিত রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। আগে রফতানি হয়েছিল ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ডলার।

দেশে রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। করোনার কারণে গত মার্চ থেকে এ খাতের রফতানি কমতে শুরু করে, এপ্রিলে পোশাক রফতানিতে ভয়াবহ ধস নামে। মে মাসেও তা অব্যাহত থাকে। তবে জুন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ধারাবাহিকতা জুলাই ও আগস্টেও অব্যাহত রয়েছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে তৈরি পোশাক রফতানি করে বাংলোদেশ যে আয় করেছে, গত বছরের জুলাই-অগাস্ট সময়েও একই আয় করেছিল। তবে পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। জুলাই-অগাস্ট সময়ে পোশাকখাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৫৭১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে আয়ের অঙ্ক ছিল ৫৭১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি হলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি আয় হয় ১৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলার।

আলোচিত সময়ে প্লাস্টিক জাত পণ্য রফতানি কমেছে। জুলাই-অগাস্ট সময়ে প্লাস্টিক জাত পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই কোটি চার লাখ ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে এক লাখ ৭১ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ১৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে ১৭ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে কৃষিপণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, বিপরীতে আয় হয়েছে ১৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। যা ক্ষ্যমাত্রার তুলানায় দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। এছাড়া গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে এ খাতে রফতানি আয় হয়েছিল ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। যা ক্ষ্যমাত্রার তুলানায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ৪৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

এদিকে একক মাস হিসাবে সদ্য সমাপ্ত অগাস্টে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার। যা গত বছরের অগাস্ট মাসের চেয়ে ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। গত অগাস্টে লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।

এর আগে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৪৪ কেটি ৯০ লাখ ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৯১ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রথম মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে অর্জিত রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ে চেয়ে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।