জাপান সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করবে বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৪ ১২:১৫:৩৫, আপডেট: ২০২০-০৯-০৪ ১৪:১১:৫৩

জাপানি গাড়ির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। জাপানি গাড়ির বাজারও বাংলাদেশ বড়। তাই বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির বড় কারখানাই করতে চাইছে দেশটি। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন। বাণিজ্যসচিব মো. জাফরউদ্দীন, অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব মো. ওবায়দুল আজম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশে অটোমোবাইল কারখানা স্থাপনের চিন্তা করছে তাঁর দেশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) জাপান বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। এটি হবে এশিয়ায় তাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় অংশীদার। জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধিরও সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে আরও বাণিজ্য-সুবিধা প্রদান করলে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর চলমান বাণিজ্য-সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধাসংবলিত প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। এলডিসি থেকে বের হওয়ার পরও বাংলাদেশকে দেওয়া বাণিজ্য-সুবিধা অব্যাহত রাখার চিন্তা করছে জাপান। এ জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সম্পাদন এবং উভয় দেশের বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে একটি যৌথ কার্য দল গঠন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, জাপানে দক্ষ শ্রমিকের প্রচুর চাহিদা আছে। বাংলাদেশ এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাপানে ১৩৬ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাপান থেকে ১৮৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ১২৯ কোটি ৪৯ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।