এবি ব্যাংকের ৬০ কোটি টাকা দিতে আমান ফিডকে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০৯-০২ ২১:২৬:৫৫, আপডেট: ২০২০-০৯-০২ ২১:২৮:৪৫

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান ফিড লিমিটেডকে আগামী তিন মাসের মধ্যে এবি ব্যাংক লিমিটেডকে বকেয়া ঋণের অংশ হিসেবে ৬০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবে কোম্পানিটি। প্রতি মাসে কিস্তি হিসেবে দিতে হবে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা।

বকেয়া ঋণের কারণে জমি ও কারখানা নিলামে তোলার বিরুদ্ধে আমান ফিডের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি নিলাম স্থগিত রাখার কথা বলেছে হাইকোর্ট।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি আমান ফিড চিঠি ও ই-মেইলের মাধ্যমে এবি ব্যাংককে অবহিত করেছে। ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যদি আমান ফিড প্রথম কিস্তি অক্টোবর মাসের মধ্যে না পরিশোধ করে তবে এবি ব্যাংক ফের আমান ফিডের জমি ও কারখানা নিলামে তুলতে পারবে।

গত ৩১ আগস্ট (সোমাবার) হাইকোর্টের বিচারক আবু তাহের মো.সাইফুর রহমান এবং মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চে এই নির্দেশ দেয়া হয় আমান ফিডকে।কোম্পানির পক্ষে করা রিট পিটিশনে(নং-৪৯৮০) অ্যাডভোকেট ছিলেন আবু জাফর মো. সালেহ।

গত ৭ আগস্ট এবি ব্যাংক লিমিটেড আমান ফিডের জমি নিলামে তোলার বিষয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আমান ফিডের কাছে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ঋণ ও সুদসহ মোট ২৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওনা এবি ব্যাংকের। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, কোম্পানিটির সিরাজগঞ্জে কারখানা, জমি ও গাজীপুরের জমির মূল্যমান আসে ৭০ কোটি টাকা।

সেই হিসেবে বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিলামে অংশ নিয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। বিকাল ৪টার পরে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স খোলা হয়। তাতে দেখা যায়, বক্সে কোনো দরপত্র নেই। অর্থাৎ কোনো আগ্রহী ক্রেতা দরপত্র জমা দেয়নি।

এদিকে কোম্পানির জমি ও কারখানা নিলামের খবরে পুঁজিবাজারে অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে আমান ফিডের শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিটির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

বুধবার কোম্পানির শেয়ারের দাম ১ টাকা ১০ পয়সা করে কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৮০ পয়সা।মঙ্গলবার সর্বশেষ কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিলো ২৭ টাকা ৯০ পয়সা।

উল্লেখ্য, বিবিধ খাতের একটি কোম্পানি আমান ফিড লিমিটেড ২০১৫ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আইপিওতে ২৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৬ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করা হয় বিনিয়োগকারীদের কাছে।

অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ প্রিমিয়াম আওয়ার জন্য আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির মুনাফা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারের আয় (ইপিএস) দেখানো হয় ৪ টাকা ৯৭ পয়সা। আইপিওর পর থেকেই মুনাফার বুদ্বুদ ফেটে যায়। মাত্র ৪ বছরের মধ্যে ইপিএস কমে ১ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে।

উচ্চ প্রিমিয়ামে শেয়ার বিক্রির পরও প্রতারণা থেমে থাকেনি আমান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আমান ফিড মিলের উদ্যোক্তাদের।তারা বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার আস্থার কোনো প্রতিদান তো দেয়-ই-নি, বরং আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে নয়-ছয় করেছে। এ কারণে গত বছর কোম্পানির পরিচালকদের কোটি টাকা জরিমানাও করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।