Connect with us

ধর্ম ও জীবন

জুমার দিন যেসব আমল গুরুত্ব দিয়ে করবেন

Published

on

জুমার দিন বা শুক্রবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনের মর্যাদা ও তাৎপর্য অনেক বেশি।ফজিলতের কারণে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়াছে। এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)

জুমার আগে যে চার আমল করবেন

Nogod-22-10-2022

শুক্রবারে বিশেষ কিছু আমল ও সুন্নত রয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক কয়েকটি হলো- গোসল করা, উত্তম পোশাক গায়ে দেওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা ও মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সমস্ত সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)

আগেভাগে জুমায় যাওয়ার ফজিলত

জুমার দিন আগেভাগে মসজিদে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য  উত্তম যদি তোমরা বোঝো। ’ (সুরা জুমা, আয়াত : ০৯)

এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন। এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো— যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি— যে একটি গাভী কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি— মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

সুরা কাহাফ তিলওয়াত যেন ছুটে না যায়
সুরা কাহফ তিলওয়াত করা জুমার দিনের বিশেষ একটি আমল। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। ’ (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা জুমার দিনের ফজিলতপূর্ণ আরেক আমল। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সমস্ত সৃষ্টিকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

জুমার দিন দোয়া করতে অবহেলা নয়

জুমার দিনের বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হচ্ছে দোয়া করা। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সুন্দর ও স্বার্থকভাবে জুমার দিন কাটানোর তাওফিক দান করুন। পবিত্র এই দিনের কল্যাণ, সওয়াব ও ফজিলত দিয়ে আমাদের ভূষিত করুন।

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
Advertisement

ধর্ম ও জীবন

জুমার দিনের যে মুহূর্তে দোয়া কবুল হয়

Published

on

ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন জুমার দিন। এই দিনে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। হাদিসের ভাষ্যমতে এই দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। নবীজি (সা.) এই দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলেছেন।আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন হলো সপ্তাহের দিনগুলোর নেতা এবং তা আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহর কাছে কোরবানির দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশি সম্মানিত। এ দিনে আছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য। এ দিন আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন, এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান এবং এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো বান্দা তখন আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন, যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে এবং এ দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আসমান-জমিন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমার দিন শংকিত হয়। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

হাদিসে জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো, এ দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা পায়। সময়টা ঠিক কখন, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মত পাওয়া যায়। তবে একটি হাদিসে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) দাবি করেন, তিনি সেই মুহূর্তটি নির্দিষ্ট করে জানেন। এবং তাঁর মতের পক্ষে যুক্তিও দেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাব (রা.)-ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, আমি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম, জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় ওই সময়টি পাবে…। ’ কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো সালাত আদায় করা যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি বলেননি, যে ব্যক্তি সালাতের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সালাতরত বলে গণ্য হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, তা এরূপই। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৬)

অতএব আমাদের উচিত, জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করার চেষ্টা করা, দোয়া-দরুদ ও জিকির ইত্যাদিতে মশগুল থাকা। জুমার দিন বেলা ডোবার সময় আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজেদের প্রয়োজনগুলো পূরণের ব্যাপারে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।

Nogod-22-10-2022
শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

ক্রয়-বিক্রয়ের আধুনিক কিছু মাসায়েল

Published

on

আধুনিক ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত কিছু বিধান নিম্নে তুলে ধরা হলো

► গ্রন্থস্বত্ব/প্রকাশনা স্বত্ব বিক্রি করা ও তার বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ।

► বিনা অনুমতিতে অন্য প্রকাশকের বই প্রকাশ করা জায়েজ নয়।

► রক্ত বিক্রি করা জায়েজ নয়। তবে দুই অবস্থায় রক্ত দেওয়া জায়েজ—

১. যদি রক্ত দেওয়া ছাড়া রোগীর জীবনের আশঙ্কা দেখা দেয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের দৃষ্টিতে রক্ত দেওয়া ছাড়া তার জীবন বাঁচানোর আর কোনো পথ না থাকে।

Nogod-22-10-2022

২. অভিজ্ঞ ডাক্তারের দৃষ্টিতে রক্ত দেওয়া ব্যতীত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা যদি না থাকে। তাহলে এরূপ রোগীকে রক্তদান করা জায়েজ এবং রোগীর জন্যও এ অবস্থায় রক্ত দেওয়া জায়েজ এবং প্রথম অবস্থায় তাকে বিনা মূল্য রক্ত দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে তার জন্য রক্ত ক্রয় করা জায়েজ। তবে বিক্রি করা জায়েজ নয়।

► মানুষের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (যেমন—চোখ, চোখের কণিকা, কিডনি ইত্যাদি) বিক্রয় করা জায়েজ নয়।

► বোনাস ভাউচার বিক্রি করা জায়েজ নয়।

► পেনশন বিক্রি করা জায়েজ নয়, তবে সরকারের কাছে বিক্রি করা জায়েজ।

► পায়খানা বিক্রি করা জায়েজ নয়, তবে মাটি হয়ে গেলে এবং মাটি প্রবল হয়ে গেলে বিক্রি করা জায়েজ।

► গোবর বিক্রি করা জায়েজ। কিস্তিতে বেশি মূল্যে হলেও ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েজ, তবে পূর্ণ কিস্তি পরিশোধ না করলে বিক্রীত দ্রব্য ফেরত গ্রহণ ও বিগত প্রদত্ত কিস্তিতে টাকা বাজেয়াপ্ত করার শর্ত আরোপ করা হলে সেরূপ বিক্রি নিষিদ্ধ।

► ক্রেতা ক্রয় করতে অস্বীকার করলে জমি ইত্যাদির বায়নার টাকা ফেরত দেওয়া জরুরি। তবে বায়না করার পর বিক্রেতার সম্মতি ছাড়া ক্রেতার ক্রয় করতে অস্বীকার করার অধিকার নেই।

► টেলিভিশনে ক্রয়-বিক্রয় মাকরুহ।

► মদ, গাঁজা, হেরোইন প্রভৃতি ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েজ নয়। আফিম যেহেতু ওষুধে ব্যবহূত হয়, তাই বিক্রয় করা জায়েজ, তবে যে এটা দ্বারা নেশা করবে বলে প্রবণ ধারণা থাকে তার কাছে বিক্রি করা মাকরুহ তাহরিমা ও নাজায়েজ।

► বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করা জায়েজ, তবে বিড়ি-সিগারেট সেবন যেহেতু মাকরুহ তাই এগুলো বিক্রি করা মাকরুহ কাজে সহযোগিতা করার নামান্তর। অতএব এ থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

► ছেঁড়া-ফাটা টাকার (নোট) বদলে ভালো টাকা (নোট) কম-বেশি করে বদলানো দুরস্ত নয়।

► বাদ্যযন্ত্র ক্রয়-বিক্রয় না জায়েজ।

► বিধর্মীদের বইপত্র, বাতিলপন্থীদের বইপত্র বিক্রয় করা জায়েজ নয়।

► চোরাইভাবে আমদানীকৃত মালামাল আটক করা হলে তা ক্রয় করা জায়েজ নয়। কারণ সরকার সেগুলোর মালিক নয়।

► ডিপো হোল্ডারের পক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য গ্রহণ করা জায়েজ নয়।

► বর্তমানে প্রচলিত কোটা ও প্যাকেট বিভিন্ন মালের যে ওজন লেখা থাকে সেই ওজন ধরে নিয়ে ওই মাল ওই ওজনের মূল্য বিক্রয় করা জায়েজ। গ্রাহককে মেপে দেওয়া জরুরি নয়।

► প্রাইজবন্ড ক্রয় করা জায়েজ নয়।

► সুদভিত্তিক ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত ফিক্সড ডিপোজিড, ডিপোজিড পেনশন স্কিম প্রভৃতি পদ্ধতিতে অর্থ বিনিয়োগ করা বৈধ নয়, কারণ এগুলো সুদের হিসাবে পরিচালিত।

► বৈদেশিক মুদ্রা যেমন ডলার, পাউন্ড ইত্যাদি সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েজ।

► যখন কোনো কম্পানির শেয়ার প্রাথমিকভাবে ইস্যু হয় তখন তা ক্রয় করা জায়েজ এই শর্তে যে ওই কম্পানির মূল্য কারবার হারাম হতে পারবে না। যেমন ইনস্যুরেন্স কম্পানি বা সুদভিত্তিক ব্যাংক বা মদের ফ্যাক্টরি ইত্যাদি হতে পারে না।

স্টক মার্কেট থেকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ও শেয়ার ব্যবসা চারটি শর্তে জায়েজ। যথা :

১. যে কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হবে সেটা মৌলিকভাবে হারাম কারবার করে না।

২. কম্পানির কিছু স্থায়ী সম্পত্তি থাকতে হবে, যেমন: বিল্ডিং, ভূমি ইত্যাদি। যার সম্পূর্ণ পুঁজি এখনো তরল সম্পদে রয়ে গেছে তার শেয়ার ফেস ভ্যাল্যু থেকে কম বা বেশিতে বিক্রি করা জায়েজ নয়।

৩. কম্পানি কোনো সুদি লেন-দেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে বার্ষিক মিটিংয়ে সুদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে, যদিও তার আওয়াজ অগ্রাহ্য হয়ে যায়।

৪. মুনাফা বণ্টন হওয়ার সময় যতটুকু সুদি ডিপোজিট থেকে অর্জিত হবে ততটুকু সদকা করে দিতে হবে, তা ভোগ করতে পারবে না। মুনাফা এর কত হার সুদি ডিপোজিট থেকে অর্জিত হয় তা কম্পানির ইনকাম স্টেটমেন্ট থেকে জানা যায়।

► কারো নামে শেয়ার বরাদ্দ হওয়ার পর শেয়ার সার্টিফিকেট ডেলিভারি পাওয়ার আগেও তা ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েজ।

► ডিবেঞ্চার ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ নয়। কারণ তা সুদভিত্তিক।

► বাণিজ্যিক নাম ও ট্রেডমার্ক বিক্রি করা জায়েজ তিন শর্তে—

১. ওই আইন ও ডেনমার্ক সরকারি আইনে রেজিস্টার্ড হতে হবে।

২. ওই নাম ও ট্রেডমার্ক ক্রয়কারীকে ঘোষণা দিতে হবে যে এখন থেকে এ নাম ও ট্রেনমার্ক আগের অমুক ব্যক্তি ও অমুক প্রতিষ্ঠান দ্রব্য তৈরি ও বাজারজাত করবে না বরং অন্যরা করবে।

৩. ওই নাম ও ট্রেনমার্ক ক্রয়কারী যথাসাধ্য পণ্যের সাবেক মান রক্ষা করার আরো বেশি মানসম্পন্ন দ্রব্য উত্পাদন করার চেষ্টা করবে।

► ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট লাইসেন্স ও যেকোনো বাণিজ্যিক লাইসেন্স বিক্রি করা জায়েজ, যদি রাষ্ট্রীয় আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে।

► ইনডেন্ডিং বিজনেস বা কমিশন এজেন্সির কারবার বৈধ। এটা দুই ধরনের হতে পারে—

১. এজেন্ট মূল কম্পানি থেকে মাল ক্রয়-বিক্রয় করবে এবং কম্পানি থেকে শতকরা পারসেনটিজ গ্রহণ করবে। এটা জায়েজ এই শর্তে যে প্রথমে এজেন্টকে মাল হস্তগত করতে হবে তারপর ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। নিজের গাড়ি, লরি, ট্রাক ইত্যাদিতে মাল বুঝে নেওয়াও হস্তান্তর করার শামিল। হস্তগত করার আগে বিক্রি করা বৈধ নয়, ক্রেতা প্রস্তুত করে ক্রেতাকে কম্পানির গোডাউনে নিয়ে যাওয়া হলো আর ক্রেতা তার নিজস্ব গাড়িতে/মাল বুঝে তুলে নিয়ে এলো। এ ক্ষেত্রে যেহেতু এজেন্ট মাল হস্তগত করার আগেই বিক্রি করল, তাই এটা জায়েজ নয়। এলসি খুলে বিদেশ থেকে মাল আনা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিদেশস্থ শাখা কর্তৃক মাল বুঝে গ্রহণ করা নিজের হস্তগত করার শামিল।

২. কখনো যদি এ রকম হয় যে এজেন্ট শুধু ক্রেতাদের উত্সাহিত ও প্রস্তুত করে এবং সে ক্রেতারা সরাসরি মূল কম্পানির সঙ্গে ক্রয়ের চুক্তি করে। আর ক্রেতাদের এই উত্সাহিত করার বিনিময়ে কম্পানির এজেন্টকে শতকরা হারে কিছু বেনিফিট দিয়ে থাকে। এ পদ্ধতিও বৈধ। (জাদিদ ফিকহি মাসায়েল)

আহকামে জিন্দেগি অবলম্বনে

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

জাতীয়

হজ ও ওমরা ব্যবস্থাবিষয়ক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Published

on


গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরা ব্যবস্থাবিষয়ক সম্মেলন-২০২২ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে গণভবন থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি। তবে সম্মেলনটি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিস্তারিত আসছে…

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

জুমা আদায়কারীর জন্য রয়েছে যে পুরস্কার

Published

on

সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন জুমা। দিনটিকে গরীবের হজ্বের দিনও বলা হয়। এ দিন মুমিন মুসলমান জোহরের পরিবের্ত ইমামের খুতবা ও ২ রাকাত নামাজ আদায় করে থাকে । এটি মহান আল্লাহর বিধান। দিনটিতে জুমা আদায়কারীদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুনিশ্চিত পুরস্কার। কী সেই পুরস্কার?

আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মুমিন মুসলমানকে জুমার ঘোষণা দিয়ে বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ – فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। এরপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমা : আয়াত ৯-১০)

জুমার নামাজের ব্যাপারেই কুরআনের এ ঘোষণা। জুমার নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিই দুনিয়াতে পাবে উত্তম রিজিক। কেননা নামাজ পড়া শেষ হলেই আবার রিজিকের সন্ধ্যানে জমিনে বিচরণের কথা বলা হয়েছে।

Nogod-22-10-2022

হাদিসে পাকে জুমা আদায়কারী ব্যক্তির সুখবর ঘোষণা করা হয়েছে। দুনিয়াতে যারা জুমা আদায় করেছে, জান্নাতেও তারা প্রতি জুমার দিন একত্রিত হবে। হাদিসের বর্ণনায় সে ঘটনা এভাবে এসেছে-
‘জান্নাতেও প্রত্যেক জুমার দিন জান্নাতি ব্যক্তিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা প্রত্যেক সপ্তাহে সেখাবে একত্রিত হবে। তখন সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাতাস প্রবাহিত হবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে। আর তাদের স্ত্রীরা তাদের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে যাবে। (শুধু তাই নয়, ওই সব ব্যক্তিদের) স্ত্রীদের বেলায়ও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে (যা দেখে জান্নাতি ব্যক্তিরাও অভিভূত হয়ে যাবে)।’ (মুসলিম)

দুনিয়াতে মানুষ যেভাবে সুন্দর ও উত্তম পোশাকে সজ্জিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করে। ঠিক জান্নাতেও আল্লাহ তাআলা তার ওই সব জান্নাতি বান্দাকে জান্নাতের মনমুগ্ধকর বাতাস ও সৌন্দর্য দ্বারা আলোকিত করে দেবেন। তাদের স্ত্রীদের রূপ সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেবেন। যাতে তারা তা উপভোগ করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে উত্তম ও যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। উত্তম রিজিক ও সর্বোত্তম প্রতিদান লাভের তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

অর্থসংবাদ/কেএ

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

Published

on

আজ শুক্রবার। মুসলিম উম্মাহর জন্যে সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। দিনটিকে গরীবের হজ্বের দিনও বলা হয়ে থাকে। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম।

এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল : মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের অনেক আমল হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু আমল ধারাবাহিক উল্লেখ করা হচ্ছে। ১. গোসল করা। ২. উত্তম পোশাক পরিধান করা। ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৪. মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা

Nogod-22-10-2022

এই চারটি আমলের কথা একসঙ্গে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার কাছে থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ৩৪৩)

৫. বেচাকেনা বন্ধ রাখা : জুমার দিন আজানের পর বেচাকেনা বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো। ’ (সুরা : জুমআ, আয়াত : ৯)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : উত্তম আমল হচ্ছে দ্রুত মসজিদে যাওয়া। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভি কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর মতো। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

৭. সুরা কাহফ তিলাওয়াত : মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের বিশেষ একটি আমল হচ্ছে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

৮. সুরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পাঠ : অপর হাদিসে সুরা কাহাফের শেষের আয়াত পাঠের সুফল হিসেবে দাজ্জালের ক্ষতি থেকে মুক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যে ব্যক্তি অজুর পর এই দোয়া পড়বে তার নাম একটি চিঠিতে লেখা হবে। অতঃপর তাতে সিল দেওয়া হবে, যা কেয়ামত পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না। ’ (সহিহ তারগিব, হাদিস নম্বর : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৯. বেশি বেশি দরুদ পাঠ : এই দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সব সৃষ্টিকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

১০. দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া : জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ একটি আমল হচ্ছে দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন
Advertisement
December 2022
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

কর্পোরেট সংবাদ

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার

ফেসবুকে অর্থসংবাদ