অপরিশোধিত জ্বালানি তেল

চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০২০-০১-১২ ০৯:৫৫:৪৮, আপডেট: ২০২০-০১-১২ ০৯:৫৭:১১

চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এসব কারণে প্রতি বছর দেশটির কৃষি, শিল্প থেকে শুরু করে গৃহস্থালি খাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়। জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতি এগিয়ে নিতে দেশটিতে প্রতি বছরই পণ্যটির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি। ভারতের জনসংখ্যাও শতকোটির ওপরে। বিস্তৃত বাজারের এ অর্থনীতি এগিয়ে নিতেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও ইকোনমিক টাইমস।

আইইএর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৪৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রয়োজন হতো। অর্তনীতির গতি বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সাল নাগাদ দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৬০ লাখ ব্যারেলে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা যে হারে বাড়ছে, তাতে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে চীনকে পেছনে ফেলবে ভারত।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পেছনে ভারত সরকারের বিদ্যুৎ নীতি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রকল্পগুলো দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা আরো বাড়িয়েছে।

পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার ভিত্তিতে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী দেশ। বর্তমানে ভারতীয় পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করতে চাইছে দেশটি। আইইএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৫৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এ কারণে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর কাছে ভারত একটি আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে অবদান রাখবে।

এরই মধ্যে সৌদি আরামকো, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি), আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি), টোটাল, রয়্যাল ডাচ শেলের মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো ভারতের জ্বালানি তেল পরিশোধন খাতে বিনিয়োগ করেছে কিংবা বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। সৌদি আরামকো ও এডিএনওসি মহারাষ্ট্রে একটি পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণে যৌথ বিনিয়োগ করছে। এ কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ১২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করা যাবে। এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে।

তবে একই সময়ে ভারতের জ্বালানি খাতকে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আইইএর মতে, আমদানিনির্ভরতা এ খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোয় জ্বালানি পণ্যটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় জ্বালানি তেলের নিজস্ব উত্তোলন খাত এখনো পিছিয়ে রয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তৃতীয় শীর্ষ ভোক্তা দেশ ভারত। চাহিদার ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করে দেশটি। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে দিল্লি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এ পথে জ্বালানি তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বড় ধরনের বিপদে পড়বে ভারতীয় পরিশোধন কেন্দ্রগুলো। এ বিপদ মোকাবেলায় দেশটিকে জ্বালানি তেলের নিজস্ব উত্তোলন বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।