করোনায় ধস নেমেছে রিসোর্ট ব্যবসায়

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৬ ১০:৪৫:৪১

করোনার ছোবলে লোকসান গুনছে গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট।এই প্রতিষ্ঠানেগুলোতে কাজ করতেন ২৫ হাজারের বেশি কর্মী।বর্তমানে আয় না থাকলেও শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে রিসোর্টগুলোর। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চান তাঁরা।

গত মার্চ ও এপ্রিলে গাজীপুরের রাজাবাড়ী এলাকার সারাহ রিসোর্টে বুকিং ছিল দেড় কোটি টাকার বেশি। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর একের পর এক বুকিং বাতিল হতে থাকে। সরকারি সিদ্ধান্তে গত ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ আছে ২০০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বড় রিসোর্টটি। এতে ওই দুই মাসে রিসোর্টটির আর্থিক ক্ষতি হয় কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকা। তবে বন্ধ থাকলেও একাধিক সুইমিংপুল, জিম, খেলাধুলার হরেক রকমের মাঠ, শিশু কর্নার, বোটিং ইত্যাদিসহ আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠা রিসোর্টটির কর্মীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা।

খারাপ অবস্থার এ চিত্র শুধু সারাহ রিসোর্টের নয়, করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট। সারাহ রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিল আমাদের ভরা মৌসুম। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং ছিল। চীনে করোনার প্রভাব বিস্তারের পর এর ঢেউ আমাদের দেশেও এসে পড়ে। বিদেশিরা আসতে না পারায় মার্চের শুরু থেকেই বুকিং বাতিল হতে থাকে। কমতে থাকে দেশীয় অতিথিদের সংখ্যাও। রিসোর্ট বন্ধ থাকায় শুধু ওই দুই মাসেই আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুবাইল রিসোর্টের ম্যানেজার অপারেশন কায়েস বিন হাকিম জানান, এপ্রিল মাসে ছয়টি বিদেশি বুকিং ছিল। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বুকিং বাবদ তাঁদের ২২ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। রমজান মাসে গেস্ট থাকে না। তাই মার্চ-এপ্রিলে তাঁদের কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। করোনার কারণে তা হয়নি। উল্টো কর্মীর বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল টাকা খরচ করতে হচ্ছে। লোকসান কমাতে কর্মীর সংখ্যা কমাতে হয়েছে। আগে কর্মীর বেতন তিন লাখ ছিল। এখন সোয়া লাখ।

ট্যুরিজম রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. এমারত হোসেন বলেন, পৃথিবীর বহু উন্নত দেশ শুধু পর্যটনের আয় দিয়ে চলছে। তারা ট্যাক্সসহ অনেক সুবিধা দিচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে ভ্যাট-ট্যাক্স অনেক বেশি। গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট শিল্পে ২৫ হাজার কর্মী কাজ করেন। তাঁদের প্রায় ২০ হাজারই এখন বেকার। রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট মালিকরা ভর্তুকি দিয়ে টিকে আছেন। মাসে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিলের আছর এ শিল্পেও পড়েছে। আয় না থাকলেও ভ্যাট কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করতে হচ্ছে। সরকার করোনা মহামারিতে অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। তাগাদা দেওয়া হলেও এ ব্যাপারে ট্যুরিজম বোর্ড কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলেও জানান তিনি।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।