করোনার উৎস অনুসন্ধানে চীন গেল হু'র বিশেষ দল

করোনার উৎস অনুসন্ধানে চীন গেল হু'র বিশেষ দল
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধানে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ অনুসন্ধানী দল। জানা গেছে, এই ভাইরাসের উৎসব খুঁজে বের করার জন্য চীনের একদল গবেষকের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন তারা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংস্থাটির মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস এ তথ্য জানান। রয়টার্স

বিশেষজ্ঞ দলের এই দুই সদস্যের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ না করে হ্যারিস জানান, নোভেল করোনাভাইরাসের মূল উৎস অনুসন্ধানে কাজ করতে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই বিশেষ সদস্য। যাদের একজন প্রাণী স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও অপরজন মহামারি সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, কোনো প্রাণীর মাধ্যমেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখার পাশাপাশি এই ভাইরাসের সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ নানা দিক অনুসন্ধানে কাজ করবেন তারা। আমরা এরইমধ্যে গবেষনার মাধ্যমে বাদুরের দেহে একটি বিশেষ ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি যার সঙ্গে নোভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। তবে বাদুর থেকেই করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে নাকি মধ্যবর্তী অন্য কোনো বাহক প্রাণীদেহের মাধ্যমে সেটি মানবদেহে সংক্রমণ ঘটিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবেন আমাদের বিশেষজ্ঞ দল।

চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কয়েকটি রাষ্ট্র জোরালোভাবে দাবি করে যে, উহানের কোনো একটি জীবাণু গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। তবে এখনও পর্যন্ত নিজেদের এই দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি কারো পক্ষে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাস প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক কোনো উৎস থেকেই এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে আমেরিকার জর্জটাওন ল ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক লরেন্স গোসটিন বলেন, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারনা পাওয়া যায়নি। আর সেটা খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন বলেও মনে হচ্ছে।
অধ্যাপক গোসটিনের মতে, ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উহানের সেই আলোচিত সামুদ্রিক ও বন্যপ্রাণীর বাজারটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। যার ফলে তাৎক্ষনিকভাবে সেই সূত্রটি অনুসন্ধান করে দেখা সম্ভব হয়নি। ফলে জৈবিক কোনো উৎস থেকে ভাইরাসটির সংক্রমণ শিরু হয়েছিলো কিনা সে সম্পর্ক কোনো তথ্যও সংগ্রহ করা যায়নি। এতদিন পর সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে কোনো কিছু জানা যাবে বলে মনে হয় না।

২০১৯ সালের শেষ নাগাদ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা করা হয় উহানের সেই আলোচিত বাজারের কোনো সামুদ্রিক বা বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানব দেহে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ভাইরাসটি। আনুমানিক কিছু বিষয় ছাড়া সে সময় এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর মাত্র এক মাসের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ আশঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছালে ২০২০ সালের ১১ই জানুয়ারি করণাভাইরাস আওংক্রমণের ফলে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগটিকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ২৩ হাজার ১৮ জন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর এতে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪২ জন। অপরদিকে আক্রান্ত হবার পর এখন পর্যন্ত মোট ৭২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৮৭ জন করোনা জয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্ভাবনা দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

আর্কাইভ থেকে

আরও পড়ুন

পেট্রোল-ডিজেলের নতুন দাম ঘোষণা
ভিসা ছাড়াই যুক্তরাজ্যে যেতে পারবে মুসলিম ৬ দেশ
মারা গেছেন পণ্ডিত ভবানী শঙ্কর
২০২৩ এ আলোচিত বিশ্বের সেরা ১০ ঘটনা
ব্রিকসে যোগ দেবে না আর্জেন্টিনা
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিশ্ববাসী
১০ টাকাতেই মিলবে বই
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী ফ্রাঁসোয়া বেটেনকোর্ট
সৌদি আরবে আরো একটি স্বর্ণের খনির সন্ধান
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো ইন্দোনেশিয়া