আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময় বাড়িয়েছে এসকে ট্রিমস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০১-০৬ ১১:০৬:১২

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত তহবিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে পারেনি বস্ত্র খাতের কোম্পানি এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এজন্য সম্প্রতি কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিয়ে আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা আরো নয় মাস অর্থাৎ এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে এসকে ট্রিমসের কোম্পানি সচিব সিরান বিন সারওয়ার বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করতে না পারায় যন্ত্রপাতি আনা সম্ভব হয়নি। তাই আইপিওর অর্থও ব্যয় করা যায়নি। এখন ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ মাসের মধ্যেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারব। যেহেতু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে, এজন্য আমরা সর্বশেষ এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিয়ে আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময় ৯ মাস বাড়িয়েছি।

এসকে ট্রিমসের আইপিও তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে নিরীক্ষক আর্টিসান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালের ১৪ জুন আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ৩০ কোটি টাকা কোম্পানির হাতে আসে। প্রসপেক্টাসে আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে তা ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল কোম্পানিটি। সে হিসেবে গেল বছরের ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয় করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি আইপিও তহবিলের ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৫ টাকা ব্যয় করেছে। অব্যবহূত রয়েছে ১৬ কোটি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ টাকা। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি বাবদ বরাদ্দকৃত ১২ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭২ টাকার পুরোটাই অব্যবহূত রয়েছে। আর ভবন নির্মাণ বাবদ বরাদ্দকৃত ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ২৮ টাকার মধ্যে ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ বা ৩ কোটি ২ লাখ ৪১ হাজার ২৮ টাকা এখনো ব্যয় করা হয়নি। তাছাড়া আইপিওর খরচ খাতে বরাদ্দকৃত ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ অর্থ এখনো অব্যবহূত রয়েছে।

এসকে ট্রিমসের ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, এ সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় হয়েছে ১১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সায়, যা এর আগের বছরে ছিল ১ টাকা ৯২ পয়সা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি উদ্যোক্তা পরিচালক ব্যতীত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ এবং সব শেয়ারহোল্ডারের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে।

এদিকে চলতি ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭২ পয়সা, যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৭৭ কোটি টাকা, অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। রিজার্ভ রয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৭ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৩০ দশমিক ২১ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪২ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজার দরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৪০ দশমিক ৪৫। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১৫ দশমিক ৭৩।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।