আল্লাহ মালিক কাজেমী: জিয়াউদ্দীন আহমেদ

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৮ ১০:৫৭:১১

পাকিস্তান আমলে দুয়েকজন সেন্ট্রাল ব্যাংকার সরাসরি ক্লাস ওয়ান অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেতেন।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৬ সনে সর্বপ্রথম একসঙ্গে প্রায় আশি জন কর্মকর্তার নিয়োগ দেয়া হয়।কাজেমী স্যার ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।১৯৮১ সনে দ্বিতীয় ব্যাচে আমরা চাকুরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হই।বহু বছর ধরে পাশাপাশি বসে কাজ করার কারণে এই দুই ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে।কাজেমী স্যার তখন থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত হতে থাকেন।দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপর ব্যাংকিং আইন-কানুন ও বিধিমালাগুলোর উল্লেখযোগ্য সংশোধন হয়নি, শুধু ‘পাকিস্তান’ শব্দটির জায়গায় ‘বাংলাদেশ’ প্রতিস্থাপন করা হয়।কাজেমী স্যার ও তাঁর ব্যাচমেটদের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যাপকভাবে আইন-কানুন ও ম্যানুয়ালের পরিবর্তন হতে থাকে।কাজেমী স্যারদের আগেও নুরুল মতিন, এ কে গঙ্গোপাধ্যায়, এম এ বেগ, এম আর খান, আলী কবির, ফখরুল ইসলাম, এস আর কর্মকার, রুহুল আমিন, হরিনারায়ণ মজুমদার, সৈয়দ আশ্রাফ আলীদের মতো কয়েকজন মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন; কিন্তু সংখ্যায় তাঁরা এত কম ছিলেন যে, তাঁদের পক্ষে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিলো না।সৈয়দ আশরাফ আলীর পূর্বে বৈদেশিক মুদ্রানীতি নিয়ে বাংলাদেশে আর কেউ বই লিখেছিলেন বলে মনে হয় না।কাজেমী স্যার সর্বপ্রথম বৈদেশিক মুদ্রানীতিকে ঢেলে সাজান, তাঁকে মাঝে মাঝে সহায়তা করেছেন তাঁরই ব্যাচমেট জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী যিনি বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান।

কাজেমী স্যারের উপর তাঁর উর্ধতন কর্মকর্তাদের দৃঢ় আস্থা ছিলো।তিনি ব্যাংকিং জগতের হালনাগাদ তথ্যে সর্বদা সমৃদ্ধ থাকতেন।তিনি সাধারণত বাধ্য না হলে কোন অনুষ্ঠান বা মিটিং-এ যোগ দিতেন না।মন্ত্রণালয়ের যে কোন সভা তিনি এড়িয়ে যেতেন।তাঁর ধারণা ছিলো, অধিকাংশ মিটিং-এ ফলপ্রসূ কোন আলোচনা হয় না।তিনি অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণও পছন্দ করতেন না।এখন উচ্চপদের কর্মকর্তাগণ যেভাবে নির্বিচারে নগণ্য কাজে বিদেশে যাচ্ছেন তাঁর কাছে এমন বিদেশ ভ্রমণ ছিলো অপরাধ।বিমান ভ্রমণে মারাত্মক ভীতি থাকায় আরেকজন মেধাবী ডেপুটি গভর্নর রুহুল আমিন স্যারও বিদেশে যেতেন না।রুহল আমিন স্যারের সততা ছিলো প্রশ্নাতীত; বগুড়া অফিসে জিএম থাকাকালীন অফিসের পর্দা তৈরির কাপড়ের টুকরাও তাঁর স্ত্রীকে তাঁদের বাসায় ব্যবহার করতে দেননি। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ভুল তথ্য ধরিয়ে দেয়ার কারণে তাঁকে চাকুরীচ্যুত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো, তৎকালীন গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ তাঁর চাকুরী রক্ষা করেছিলেন সত্য কিন্তু অবসর গ্রহণের পূর্বে তাঁকে আর চাকুরীতে জয়েন করতে দেয়া হয়নি, এভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক একজন মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তার সার্ভিস থেকে বহুদিন বন্চিত ছিলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে কাজেমী স্যার প্রায় ছয় বছর ছিলেন।তখন বর্তমানের মতো ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে চার্চ কমিটি ছিলো না, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালককে ডেপুটি গভর্নর করা হতো।সচিব বা গভর্নর বা সমপর্যায়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগে চার্চ কমিটি না লাগলেও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে কেন লাগবে তা আজও স্পষ্ট নয়।এই চার্চ কমিটির মাধ্যমে ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেয়ার পর থেকে ডেপুটি গভর্নর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পেছনে দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু করে।এখন ডেপুটি গভর্নরদের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের লোক বলে চিহ্নিত করা হয়।কাজেমী স্যার ও নজরুল হুদা স্যার(বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের একজন পরিচালক) সম্ভবত শেষ ডেপুটি গভর্নর যারা চার্চ কমিটির দ্বারা মনোনীত ছিলেন না।ডেপুটি গভর্নর থেকে অবসর নেয়ার পর কাজেমী স্যারকে মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখার চেষ্টা করেও তৎকালীন গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ ব্যর্থ হন।তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েই তিনি ২০০৮ সনে কাজেমী স্যারকে উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা নেন।তখন গভর্নর ছিলেন ড. ছালেহ উদ্দিন আহমেদ।পরবর্তীতে সব গভর্নরই বাংলাদেশ ব্যাংকে তাঁর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন এবং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যাজেনমেন্ট অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আধুনিক পুজিঁবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি।মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নে তিনি সকল সময় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।অর্থনীতির মূল সমস্যা বিশ্লেষণপূর্বক বাজেটের পরিপূরক মুদ্রানীতি প্রণয়নে তাঁর গভীর জ্ঞান প্রভূত ভূমিকা রেখেছে।মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি একমুখী না হলে তা অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।মুদ্রানীতির জটিল পরিবর্তনগুলো অনুধাবনপূর্বক তার সাথে সামন্জস্য রেখে মুদ্রানীতি প্রণয়নে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নিয়ন্ত্রণ হতে অর্থনৈতিক অনেকগুলো কার্যক্রম তাঁর হাতেই মুক্তি পায়।বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের কঠোর নিয়ম-নীতি শিথিল ও সহজ করার ক্ষেত্রে কাজেমী স্যারের অবদান অনস্বীকার্য।বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্য কোন বিমানে যাত্রী ভ্রমণ করতে চাইলে এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগতো।আইএমএফ-এর চাহিদা মোতাবেক ব্যবসা-বাণিজ্যে ‘টাকা’কে রুপান্তরযোগ্য করার নীতিমালা তৈরি করেন কাজেমী স্যার।আমদানীর জন্য কোন ব্যবসায়ীকে বৈদেশিক মুদ্রার জন্য এখন আর বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে ধর্ণা দিতে হয় না।বিদেশ ভ্রমণের ব্যয় বা ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে পড়ার খরচের জন্যও এখন আর বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে বসে থাকতে হয় না।তাঁর উপদেষ্টা থাকাকালীন তাঁকে বাদ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন জটিল সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে মনে হয় না।বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক যে কোন সংস্থার প্রতিনিধিরা কাজেমী স্যারের মতামতের গুরুত্ব দিতেন।বকাবকি শুনেও পরবর্তীকালের সকল ডেপুটি গভর্নর জটিল সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর কাছে ছুটে যেতেন।দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরাও তাঁর পরামর্শ প্রত্যাশা করতেন।

তিনি দেখতে সুপুরুষ ছিলেন না, তাঁর ট্যারা চাহনির জন্য দলবদ্ধ সহকর্মীরা বুঝতেন না তিনি কাকে লক্ষ্য করে বকাবকি করছেন।তাঁর সুক্ষ্ম হিউমার সাথে সাথে অনুধাবন সহজ ছিলো না।কাজেমী স্যার পত্রিকায় প্রকাশিত আমার কলামগুলো নিয়মিত পড়তেন এবং মাঝে মাঝে ইমেইলে মতামত পাঠাতেন। সংবাদপত্রে আমার কলাম লেখা নিয়ে তাঁর বক্তব্য ছিলো এমন, ‘সাংবাদিকতা মর্যাদাপূর্ণ পেশা, বেতনভুক কর্মচারীর সৃজনশীল পরিভ্রমণ নয়।আপনার সম্পাদককে বলুন, আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি সনদ ইস্যু করতে, এই সনদ কেনাবেচার জন্য একটি সেকেন্ডারি মার্কেট সক্রিয় করা যায় কী না বিবেচনা করা যাবে’।তিনি আমার লেখার শৈলি নিয়ে লিখেছিল্ন, ‘Why not drop in sometime to get my feedback on your op-eds? Generally, I find these well argued and cogent; drafted with a tight compactness not unlike my own. Most people feel more comfortable with somewhat looser compaction, though.’ চাকুরী জীবনে এক সময় আমার জিএম ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন; এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় তার শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী বিশ জনের মধ্যে তিনি ছিলেন।কাজেমী স্যারের কাছে উপস্থাপন করা একটি নথির খোঁজ করতে গেলে রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘বিহারীরাও আপনার চেয়ে ভালো বাংলা লিখতে পারে, অখাদ্য-কুখাদ্য দিয়ে নথি ভরিয়ে রেখেছেন’।ট্যারা চাহনির জন্য আমাকে, না মামুন স্যারকে বকলেন তা বুঝতে পারিনি।মামুন স্যার কাজেমী স্যারের ব্যাচমেট হওয়া সত্বেও কোন কথা না বলে বেরিয়ে আসি।তাঁর কাছে উপস্থাপিত কোন নথিতে ‘জরুরী’ পতাকা লাগালো হলে তিনি ক্ষেপে যেতেন, তাঁর যুক্তি হচ্ছে সব নথিই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী।খসড়া চিঠিপত্র পছন্দ না হলে তিনি নিজেই পুরোটা লিখে শাখায় পাঠিয়ে দিতেন, কোন উচ্চবাচ্য করতেন না।তাঁর ব্যাচমেটগণও তাঁকে ভয় করতেন, সচরাচর অফিসের কাজ নিয়ে তাঁর সম্মুখে যেতেন না।অপরিচ্ছন্ন নথি উপস্থাপনের কারণে তাঁর এক ব্যাচমেটকে বলেছিলেন, ‘গ্রীষ্মকালেও তো নিজেরা স্যুট টাই পরে কেফাদুরস্ত থাকেন, নথিটির এমন বেহাল দশা কেন?’

ছাব্বিশে জুন সন্ধ্যায় নির্বাহী পরিচালক সাইদুর আমাকে কাজেমী স্যারের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে ম্যাসেজ দিলেও তা যথাসময়ে আমার নজরে আসেনি।পরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার ব্যাচমেট ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহসান উল্যাহ ফোন করে জানায় যে, কাজেমী স্যার হৃদরোগ ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কয়েক বছর পূর্বে কাজমী স্যারের ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে।তাঁর অধীনে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগ এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিভাগে বহুদিন কাজ করেছি; আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলাম বিধায় মাঝে মাঝে বকাবকি করতেন, কিন্তু বছর শেষে রিপোর্ট দিতেন ‘সর্বোৎকৃষ্ট’।গরু জবাইর বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ে আমার লিখিত কলামটির উপর তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন তা হলো, ‘You’ve made out a cogently argued case against the mad savagery of Hindu zealots in enforcing ban on beef eating. While quite rightly raising voice against this we may bear in mind that there is no case either for Muslims to champion the case for beef eating, their religion permits it but doesn’t compulsorily require it.’

ফলিত পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স করা কাজেমী স্যারের এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেক মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকে, এক ছেলে দেশে চাকুরী করে।তাঁর সন্তানেরা তাঁর মতোই মেধাবী। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করার পর যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ইউনিভার্সিটি অব ব্যাঙ্গর থেকে ‘ফিনান্সিয়াল ইকোনোমিকস’ -এ মাস্টার্স করেছেন।তাঁর কোন সামাজিক আড্ডা ছিলো না, কিন্তু কেউ তাঁর বাসায় গেলে অনেক পদের নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করতেন এবং পাশে বসে জোর করে খাওয়াতেন।তিনি প্রচুর লেখাপড়া করতেন, কোন বই বা ম্যাগাজিন পড়া শেষ হলে পড়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী বন্ধুদের বিলিয়ে দিতেন।তিনি কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়তেন না, জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোন ক্ষেত্র ছিলো না যেখানে তিনি পরিভ্রমণ করেননি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রায় সকলেই কাজেমী স্যারের অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে লিখেছেন, লেখকদের অনেকের সাথে হয়তো কাজেমী স্যারের কখনো দেখাও হয়নি।নওশাদ মোস্তফা লিখেছেন, ‘ক্ষয়কালে অনুকরণীয় মহীরুহের আকালের মধ্যে আল্লাহ মালিক কাজেমী স্যার ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম’।আরেকজন লিখেছেন, ‘কীর্তিমানের মৃত্যু নেই’।ড. আতিউর রহমানের মতে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন পারদর্শী ও প্রজ্ঞাবান কেন্দ্রীয় ব্যাংকার আর একজনও আসেননি’।

লেখক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী
পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক
[email protected]

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।