Connect with us

অর্থনীতি

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরামর্শ

Published

on

করোনাভাইরাস মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের জন্য প্রকৃত উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘করোনাকালে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা ও বাজেট ২০২০-২১’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা এ কথা বলেন অর্থনীতিবিদ বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মরত নাগরিক সমাজের সংগঠন ও নেটওয়ার্ক, স্থানীয় সরকার প্লাটফর্ম, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট প্র্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম’ এ সভার আয়োজন করে।

ফোরামের চেয়ারপারসন ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন ফোরামটির সমন্বয়কারী ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মোস্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী জিয়াউল করিম প্রমুখ। আরও বক্তব্য রাখেন উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে অন্যান্যদের মতো সক্রিয় রয়েছেন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরাও। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া ও জনগণের পাশে থেকে তাদেরকে সাহস ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। যদিও জনপ্রতিনিধিদের ত্রাণ আত্মসাতের কাহিনীর সঙ্গেই আমরা বেশি পরিচিত। এ প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য যে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের প্রকৃত বরাদ্দের ছিল ৪০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে এবার প্রকৃত বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে।

Nogod-22-10-2022

তারা আরও বলেন, একইভাবে উন্নয়ন বরাদ্দের ৩৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৩৫ হাজার ২১১ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রেও বরাদ্দ কমেছে। চলমান প্রেক্ষাপটে অর্থবছরের থেকেও কম বাজেট নিয়ে আগামী অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বর্তমান ভূমিকা বৃদ্ধি করা দূরে থাক, চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই করোনা মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য প্রকৃত উন্নয়ন বরাদ্দ অন্তত ৪ শতাংশে উন্নীত করা দরকার।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমানে মানুষ যেমন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও আক্রান্তের শিকার। কিন্তু বাজেট হয়েছে গতানুগতিক। স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব সম্পর্কে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও নানা কথা বলা হলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কিন্তু এবারের মহামারি যেহেতু সাধারণ মহামারি নয়, তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, এ বাজেটে যে প্রস্তাবনা তা শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকবে কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাই একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা দুর্যোগকালীন বিশেষ বাজেট করতে পারত সরকার। করোনার কারণে যে বিশেষ বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে ফোকাস করা দরকার ছিল। সহায়তার জন্য নতুন দরিদ্র মানুষের তালিকা সঠিকভাবে করতে হবে, সেখানে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বের বিকল্প নেই। শুধু আমলাতন্ত্র দিয়ে এটা সম্ভব নয়, সরকারকে এটা বুঝতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বজায় রেখে সরকারি সহায়তাগুলো তদারকির দায়িত্ব দিতে হবে।

ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, করোনা দুর্যোগের যে ধরন তা দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ সংক্রান্ত আইনি বা ব্যবস্থাগত কাঠামোর ভেতরে সংকুলান করা সম্ভব নয়। এ দুর্যোগের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের যে আইনি কার্যক্রম তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ বিবেচনা করা দরকার। এ মুহূর্তে যে খাদ্য বা অন্যান্য সহায়তা দরকার তা সরকার প্রশাসন বা অন্যান্য মাধ্যমে শুরু করেছে। তাই এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে কী করতে পারে স্থানীয় সরকার সেদিকে সকলের দৃষ্টিপাত করা দরকার। সেজন্য দরকার নতুনভাবে গবেষণার মাধ্যমে সুপারিশ তৈরি করা।

ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে করোনা প্রতিরোধ কমিটি না করে বিদ্যমান যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে সেটাকেই আরো শক্তিশালী করে কাজে লাগানো যেত। এরকম দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা দরকার ছিল। জাপান এভাবে সাফল্য পেয়েছে। এবারের জাতীয় বাজেট দেখে মনে হয় না যে আমরা আপদকালীন অবস্থায় আছি। এ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় সরকারের রাজস্ব আহরণ কমে যাবে, যদিও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন কারণে তাদের কাজ ও দায়িত্ব বাড়বে। তাই এক্ষেত্রে তাদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা সরকার ভাবতে পারে।

হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বৈষম্য না রেখে ভারসাম্য এনে ‘টিমওয়ার্ক’ গড়ে তুললে করোনাসহ যেকোনো দুর্যোগ সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা মন্ত্রিপরিষদ থেকে নির্দেশনা আসতে হবে। করোনাকালে যে ব্যাপক মানুষ গ্রামে চলে গেছে তাদের জন্য কর্ম সৃষ্টি অতি জরুরি। সরকার যে গ্রামে শহরের সুবিধা নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে, সেটি বাস্তবায়নের জন্যও স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। রাজস্ব বিবেচনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দের অংশ দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো রাজস্ব বৃদ্ধির ব্যাপারে আরো উৎসাহিত হবে

শেয়ার করুন:
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অর্থনীতি

২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৫ কোটি ডলার

Published

on

চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। দেশের ডলার সংকট কাটাতে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরেও প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত মাসের প্রথম ২৫ দিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০৭ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ৮৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

এ সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা ৩২ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৯ কোটি ৬ লাখ ডলার, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ১৪ লাখ এবং আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে মাধ্যমে ছয় কোটি ৪৫ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এসময়ে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোন রেমিট্যান্স আসেনি।

Nogod-22-10-2022

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। তবে পরবর্তীতে রেমিট্যান্সের ইতিবাচক এই ধারা অব্যাহত থাকেনি। এর পরের মাসগুলোতে ধারাবাহিক কমছে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ। অবৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর তথ্য পেয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাই রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডি প্রতিরোধের বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএফআইইউ। হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্সে পাঠানোয় জড়িতের অভিযোগে ২৩০ জন বেনিফিশিয়ারির হিসাব সাময়িকভাবে উত্তোলন স্থগিত করে আর্থিক খাতের এ সংস্থাটি। পরে বৈধ পথের প্রতিশ্রুতিতে এসব হিসাবগুলো পুণরায় খুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়।

অন্যদিকে বৈধ উপায়ে আসা রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা, অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ন অর্থায়ন সুবিধা দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

রিজার্ভ নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকায় ‘তাজ্জব’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘আপনারা মাঝে-মধ্যে উল্টাপাল্টা বলেন, আমাদের রিজার্ভ নাই। আমি তাজ্জব হই।

তিনি বলেন, আগে আমাদের তিন থেকে চার বিলিয়ন রিজার্ভ হলে আপনারা খুশি থাকতেন। আর এখন ৩৪ থেকে ৩৭ বিলিয়ন রিজার্ভ, তারপরও আপনারা বলেন। এগুলো পাগলের প্রলাপ না হয় তো কী।

রোববার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার রোগ) বিষয়ক এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন উষ্মা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

জাপানের কাছে বাংলাদেশ বাজেট ঋণ চেয়েছে কি না, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, ‘এসব আমি জানি না। এগুলো আপনারই জানেন। আমাদের কোনো প্রয়োজন নাই। উই আর ভেরি সলিড ইকোনোমি।’

Nogod-22-10-2022

গণমাধ্যমের সমালোচনা করে মোমেন বলেন, আপনি (গণমাধ্যম) বলেন ব্যাংকে টাকা নাই। আমার ট্রিলিয়ন টাকা ব্যাংকে আছে। আপনারা বিভিন্ন রকমের প্রপাগান্ডা করেন ব্যাংকে টাকা নাই। বাড়িতে নিয়ে রাখেন, তখন চুরি করতে পারবে।

অর্থসংবাদ/এনএন

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

ডলারের উত্তাপে গরম নিত্যপণ্যের বাজার

Published

on

ডলারের উত্তাপে গরম হয়ে উঠেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাস ধরে পণ্যের দাম কমলেও স্থানীয় বাজারে কমার কোন খবর নেই। বরং ডলারের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্যের দামও বেড়েই চলছে। এ অজুহাতে সর্বশেষ চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম ফের বাড়ানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পর থেকে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছিল সেগুলো দেশে আসতে শুরু করেছে। যেখানে এগুলোর দাম কমার কথা, সেখানে ডলারের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

অন্যদিকে দাম বাড়ায় ক্রেতার কষ্ট বেড়েছে। নানা অজুহাতে প্রায় সব ধরনের আমদানি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ এসব ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কোনো বিশ্লেষণ হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সেভাবে তদারকি হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতিসংঘের কৃষি বিষয়ক সংস্থা ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অরগানাইজেশনের (এফএও) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবর এই ৪ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ১২ শতাংশ, সয়াবিনের দাম ১৮ শতাংশ, চিনির দাম ২২ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ডালের দাম ৬ শতাংশ, ডিমের দাম ৮ শতাংশ কমেছে। তবে এক বছরের হিসাবে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও গড়ে ১২ শতাংশ বেশি রয়েছে।

Nogod-22-10-2022

জুনে আমদানির জন্য ডলারের দাম ছিল ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। বর্তমানে প্রতি ডলার ১০৭ টাকা। ওই সময়ে প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে ১৩ টাকা ৫৫ পয়সা। অর্থাৎ টাকার মান কমেছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

করোনার পর খাদ্যপণ্যের দাম এক দফা বেড়েছে। এর ধকল কাটিয়ে উঠার আগেই ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে মার্চ থেকে খাদ্যপণ্যের দাম আরও লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। ফলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে থাকে।

এলসি খোলার পর ওই পণ্য দেশে আসতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে। ওইসব পণ্য দেশীয় কারখানায় পরিশোধন হয়ে বাজারে আসতে আরও ১ মাস পার হয়। এ হিসাবে আমদানি পণ্য বাজারে আসতে ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগে। তবে তৈরি পণ্য হলে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে বাজারে আসে। বাড়তি দামে মার্চে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলো বাজারে এসেছে জুন-জুলাইয়ে। সেগুলো পরিশোধ হয়ে বাজারে এসেছে জুলাই-আগস্টে। কিন্তু পণ্যের দাম বেড়েছে এপ্রিল থেকেই।

জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমতে শুরু করে। আগস্টে এসে বেশ কমে যায়। কম দামে জুলাইয়ে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাজারে এসেছে। কিন্তু দাম তেমন একটা কমেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি পণ্যের খরচ বেশি পড়ে। তবে কত বেশি পড়ে সেটি নির্ধারণ করতে গবেষণা হওয়া উচিত। এর একটি স্থায়ী পলিসি দরকার। ডলারের দাম কত বাড়লে কেজিতে কত বাড়বে। বর্তমানে এ ধরনের কোনো পলিসি নেই। দেখা যাচ্ছে সেপ্টেম্বরের তুলনায় এখন ডলারের দাম কমেছে। কিন্তু পণ্যের দাম ডলারের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের হলে ভোক্তার সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ হবে না। ডলারের মূল্য যেহেতু অস্থির, সে কারণে আগেই একটি পলিসি করা দরকার ছিল। আগে যেহেতু হয়নি, দ্রুত করা উচিত। ভোক্তার স্বার্থে এটি প্রয়োগ করাও জরুরি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও প্রভাব পড়বে। কারণ অনেক পণ্য আছে যা আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। তবে বিশ্ববাজারে কিছু পণ্যের দাম কমছে। তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়েনি। এর একটা কারণ হতে পারে, ডলার সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি। তাই বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ডলারের দাম বেশি হওয়ায় দেশীয় ব্যবসায়ীদের বেশি দরেই কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আছে। তারা অতি মুনাফা করতে পণ্যের দাম কমলেও বেশি দরে বিক্রি করে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সঙ্গে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এদিকে জুনে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। ২১ জুলাই তা বেড়ে হয় ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা। ৮ আগস্ট আরও বেড়ে ৯৫ টাকা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর এক লাফে বেড়ে হয় ১০৮ টাকা। ৩১ অক্টোবর তা আরও কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১০৩ টাকা। এখন ব্যাংক ভেদে ১০১ থেকে ১০৭ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলো বর্তমানে আমদানির এলসি বেশি খুলছে। এসব ব্যাংকে প্রতি ডলার ১০৫ থেকে ১০৭ টাকা।

বাড়তি দামে ডলার কিনে এলসি খুললেও পণ্যের দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়ার কথা নয়। বাড়তি দামে ডলার কিনে এলসি খুলে পণ্য দেশে আসার পর বাড়ার কথা। কিন্তু তার আগেই পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম ১০০ টাকার উপরে উঠেছে সেপ্টেম্বরে। ওই সময়ে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই এখনও দেশে আসেনি। দেশে আসার পর এগুলো পরিশোধন হয়ে বাজারে যেতে সময় লাগবে আরও এক মাস। এ হিসাবে ডলারের দাম বাড়ার প্রভাব ডিসেম্বরে পড়ার কথা।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও চিনির দাম যখন কমেছে তখন ১৭ নভেম্বর শুধু ডলারের দাম ১০০ টাকার উপরে চলে গেছে এই অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। ওই দিন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১২ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা এবং চিনির দাম কেজিতে ১৩ টাকা বেড়ে ১০৮ টাকা করা হয়েছে। অথচ এই দামেও বাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। যা এক মাস আগে (অক্টোবর) ছিল ১০৫ টাকা। সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকা, আগস্টে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। অথচ অক্টোবরের তুলনায় এখন ডলারের দাম কমেছে। তাহলে এখন যেসব পণ্যের এলসি খোলা হচ্ছে সেগুলোর দাম কি ৩-৪ মাস পর কমবে। উত্তর সহজ-কমবে না। তখন অন্য অজুহাতে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলবে।

আন্তর্জাতিক দাম কমার কারণে যেখানে দেশেও কমতির দিকে থাকার কথা, সেখানে চার মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনি কিনতে একজন ক্রেতাকে ২৫ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কমতির মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৮৪ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৬ অক্টোবর প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ছয় টাকা বাড়িয়ে ৯০ ও প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা করা হয়। সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়। নতুন মূল্য হচ্ছে প্রতি কেজি ১০২ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ১০৮ টাকা।

২৬ জুন প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। মে থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম কমেছে। কিন্তু দেশের বাজারে ২৮ আগস্ট এক দফা মূল্য কমিয়ে প্রতি লিটার খোলা ১৭৫ ও বোতলজাত সয়াবিন ১৯২ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। বিশ্ববাজারে দাম আরও কমার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর লুজ সয়াবিনের লিটার ১৫৮ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য ১৭৮ টাকায় নামানো হয়।

তবে কিছু দিন বাজারে সরকার ঘোষিত মূল্য কার্যকর থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে বিক্রেতারা কারসাজি করে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭০ ও বোতলজাত ১৮০ টাকায় বিক্রি করে। সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর নতুনভাবে দাম বাড়ানো হয় ভোজ্যতেলের। এক লাফে লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়িয়ে খোলা সয়াবিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৭২ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতিলিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯০ টাকা।

তবে বাজার পরিস্থিতি পর্যালচনা করে দেখা গেছে-শুক্রবার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকা। এক মাস আগে (অক্টোবর) বিক্রি হয়েছে ১৬৬ টাকা। এছাড়া বোতল সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা। যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকা।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সব ধরনের আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়েছে। সেই প্রভাব দেশেও পড়ছে। তবে কেউ দাম নিয়ে অসাধুতা বা কারসাজি করতে না পারে সেদিকে তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা। যা এক মাস আগে (অক্টোবর) ছিল ৫৮ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে কমায় সেপ্টেম্বরে কমে ৫৫ ও আগস্টে বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকায়। তিন মাস ২৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটা খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা ময়দা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা।

যা এক মাস আগে (অক্টোবর) বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা। মাসের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ৬২ টাকা, আগস্টে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি। সেক্ষেত্রে ৩ মাস ২৫ দিনের ব্যববধানে প্রতি কেজি খোলা ময়দা কিনতে একজন ক্রেতাকে ১৫ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারে গমের দাম কমেছে। মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজি এখন ১৪০ টাকা। এক মাস আগে ছিল ১৩০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুধু ডলারের দাম ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে চার মাসে ডালের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

অর্থসংবাদ/কেএ

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

রাজশাহীর সিল্ক সুতা বিশ্বমানের : শিল্পমন্ত্রী

Published

on

রাজশাহীতে যে সিল্ক সুতা উৎপাদন হয় তা বিশ্বমানের বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও বিসিক আয়োজিত জেলার ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি অংশগ্রহণ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিল্ক ইন্ডাস্ট্রি থাকবে। লোকাল ‘র’ ম্যাটেরিয়ালসে আমাদের যে সিল্ক সুতা উৎপাদন হয় তা অনেক ভালো মানের। এমনকি বিশ্বমানের। চায়নার চেয়েও ভালো। সেটাকে আমরা রিভাইব (পুনরায় চালু) করার জন্য আমরা কাজ করব। সুগার মিলসহ বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু করার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

Nogod-22-10-2022

তিনি বলেন, রাজশাহী ট্যুরিজম শহর হয়ে গেছে। শুধু ট্যুরিজম শহর না, এটি একটা শিক্ষা ও সিল্কসিটি নগরী। বিসিক শিল্প নগরী আছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখানে ট্যুরিজম সেন্টার অলরেডি হয়ে গেছে। কলকারখানা, হোটেল, মোটেল হয়েছে। আমরা পর্যটনের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এটি সরকারের দৃষ্টিতে আছে।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, প্রথমত রাজশাহীতে একটি বিশাল চামড়া শিল্প নগরী করছি। এখান থেকে এক্সপোর্ট করা হবে। যেমন আমরা গার্মেন্টসের তুলা বাইরে থেকে আনি। কিন্তু চামড়া আমাদের ‘র’ ম্যাটেরিয়ালস। এগুলো কাজ করে আমরা বাইরে পাঠাবো। এই রিলেটেট ইন্ডাস্ট্রিগুলো হবে। এর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছি। পাঁচ বছরব্যাপী পরিকল্পনা করছি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে চিনির কোনো অভাব নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রমজান মাস সামনে রেখে পর্যাপ্ত চিনি আছে। আমাদের সংগ্রহ থেকে বাজারে চিনি ছাড়া হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন আরও এক লাখ টন চিনি আমদানি করে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফর উল্লাহ, পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভয়েসনিউজ/এনএন

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে ২০৪০ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি

Published

on

আগামী দু-এক দশকের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের কম্পানিগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান মেধাবী তরুণদের নিয়োগ করছে এবং শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নিজেদের বিশ্বমানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলছে। বহুজাতিক কম্পানিগুলোর সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতা করে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করছে। বাংলাদেশ নিয়ে বোস্টন গ্রুপের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তাদের এ অর্জনের মধ্য দিয়ে ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের মাইলফলক অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশও।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বিসিজি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপর্যয়ের পরও কিভাবে দেশটির অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তার ওপর আলোকপাত করে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে।

শুক্রবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য ট্রিলিয়ন-ডলার প্রাইজ-লোকাল চ্যাম্পিয়নস লিডিং দ্য ওয়ে’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

Nogod-22-10-2022

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। মূল বক্তা ছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের করপোরেট কমার্শিয়াল ব্যাংকিংয়ের কান্ট্রি হেড রিয়াজ এ চৌধুরী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ছিলেন বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গ্লোবাল চেয়ার ইমেরিটাস ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হ্যান্স-পল বার্কনার, বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের সিনিয়র পার্টনার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জারিফ মুনির, প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শৈবাল চক্রবর্তী, বোস্টন কলসাল্টিং গ্রুপের পার্টনার তৌসিফ ইশতিয়াক প্রমুখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাবসায়িক কমিউনিটি, উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির দ্রুত সম্প্রসারণে প্রবৃদ্ধিশীল ভোক্তা বাজার, সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার নিয়ে ক্রমবর্ধমান গিগ ইকোনমি, সঙ্গে ডিজিটাল রূপান্তর এবং সরকারের বহুমুখী প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে চলেছে।

ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এ প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে অপ্টিমিস্টিক আউটলুক (দৃঢ় আশাবাদ), গিগ ইকোনমি (ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল খণ্ডকালীন কাজ), ভোগ্য পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, তরুণ ও ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা (হাই ইকোনমিক রেজিলিয়ান্স), ডিজিটাল মাধ্যমের বহুল ব্যবহার, সরকারি উদ্যোগ এবং একটি বৃহৎ, সুসংগঠিত বেসরকারি খাতসহ বিভিন্ন বিষয় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের উদীয়মান চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের বিশ্বের দরবারে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ও দেশকে নেতৃত্ব দিতে নিত্যনতুন কৌশল নিচ্ছে এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে। এভাবেই বাংলাদেশ ২০৪০ সাল নাগাদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উদীয়মান কম্পানিগুলো উদ্ভাবনী, দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঠামোগত সুবিধা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণেও প্রস্তুত। এ চ্যাম্পিয়নের সাফল্য অন্যান্য দেশের অনুকরণীয় কম্পানিগুলোর উদ্যোগেরই প্রতিধ্বনি। নিজস্ব দক্ষতা, সফলতা ও গুণগত মান অর্জনে তারা যেন দ্বিগুণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই চ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পুঁজি বাড়ানো, বৈশ্বিক জোট গঠন এবং সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা। বেসরকারি খাত উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে এবং সুগঠিত কৌশলগত কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সুবিধাকে কাজে লাগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই চ্যাম্পিয়নরা বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শক্তিশালী অবদান রাখবে। ’

প্রতিবেদনটি বিসিজির বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কম্পানিগুলোর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যাদের বার্ষিক আয় ৩০০ মিলিয়ন থেকে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উদীয়মান এ কম্পানিগুলো বছরে গড়ে ১৬ শতাংশ করে রিটার্ন দিয়েছে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের, যা বৈশ্বিক হিসাবে চমকপ্রদ অর্জন। যেমন এটি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ১২০০ কম্পানিগুলোর ১৫ শতাংশ, এশিয়া ৫০ ইনডেক্সের ১৪ শতাংশ এবং এমএসসিআই এমার্জিং মার্কেটের ১০ শতাংশের বেশি।

বিসিজি প্রতিবেদনে কম্পানিগুলোর মধ্যে দৃঢ় আশাবাদ পেয়েছে এবং এদের ৫৭ শতাংশ বিশ্বাস করে পরবর্তী প্রজন্ম আরো ভালো জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের একটি উদীয়মান তরুণ শ্রমশক্তি রয়েছে। যাদের গড় বয়স ২৮ বছর। এ দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ৬৮.৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে ৮৩ শতাংশ কম্পানির সাহসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভিশন রয়েছে এবং ৩৮ শতাংশ আরো ভালো গ্রাহক ফলাফল অর্জনে মনোনিবেশ করেছে। প্রায় ৭৮ শতাংশ কম্পানি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে তারা প্রতিনিয়ত রূপান্তরের একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং ৬১ শতাংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে কৌশল গ্রহণ করেছে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তৈরি করার জন্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার বিশ্বের নবম বৃহৎ হওয়ার পথে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ শ্রেণির দ্রুত বিস্তৃতির মধ্য দিয়ে। এই শ্রেণিটি ২০২০ সালের ১৯ মিলিয়ন থেকে ২০২৫ সাল নাগাদ হবে ৩৪ মিলিয়ন। ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গড়ে বার্ষিক ৬.৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়েছে। এ দেশের প্রবৃদ্ধির হার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর দ্বিগুণ এবং বৈশ্বিক গড় ২.৯ শতাংশের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি।

বিসিজির বৈশ্বিক চেয়ার ইমেরিটাস হ্যানস-পল বার্কনার বলেন, ‘চীন ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় দুটি ডায়নামিক দেশ রয়েছে। আমি বলতে চাইছি ভারত ও বাংলাদেশ শক্তিশালী গতিতে রয়েছে। ’

বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক সরবরাহ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। বিসিজি মনে করে, এই খাতের দেশীয় কম্পানিগুলো বিশ্বজুড়েও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে। এ ছাড়া ডিজিটাল খাতে সরকারি ব্যয় গত এক দশকে তিন গুণ বেড়েছে। সরকারের ২০৪১ ভিশন ও স্মার্ট জাতীয় পরিকল্পনা এই খাতের প্রবৃদ্ধিকে জোরালো করছে। টেলিকম খাতে বিশ্বের নবম বৃহৎ মোবাইল মার্কেটে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এনজিও খাতও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চালকের ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংক বিশাল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তা জালে নিয়ে আসছে। স্টার্টআপ শিল্প এরই মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ওপর তহবিল গড়ে তুলেছে। সরকারও এ খাতকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। অন্যান্য খাতের মধ্যেও অনেক কম্পানি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভূমিকা রাখছে। যেমন—প্রাণ-আরএফএল আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি গড়ে তুলছে। ওষুধ কম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে বাজার বিস্তৃত করছে। প্রতিবেদনে ওয়ালটন, স্কয়ার, বেক্সিমকো, পিএইচপি, সামিট গ্রুপ, বিকাশ, শপ আপ, পাঠাও, ব্র্যাক ব্যাংক, রেনেটা, মেঘনা ও কনফিডেন্স গ্রুপের সাফল্যের কথা উঠে এসেছে। বিসিজি মনে করছে, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে বাংলাদেশ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে সফলতার সঙ্গেই এ দেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘আমরা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে বিশ্বাসী। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ অর্জনকে লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, ২০২৫ সালের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অন্তত পাঁচটি ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে গড়ে উঠবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক আগেই ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে। এ বিষয়টি এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এখন আমরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমি বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপকে এ ধরনের সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ধন্যবাদ জানাই, যেখানে আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার চিত্র উঠে এসেছে। ’

বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গ্লোবাল চেয়ার ইমেরিটাস হ্যান্স-পল বার্কনার বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য রোল মডেল। এই দেশটি এরই মধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছে। বিশেষ করে দেশের বেসরকারি খাতের অপরিসীম অবদানের কারণে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর রূপান্তর এবং দেশের বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান এই গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। লক্ষ্য অর্জন করতে এবং দেশের

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় বেসরকারি খাতের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে রূপরেখা আমাদের সমীক্ষায় প্রকাশ করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের সিনিয়র পার্টনার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জারিফ মুনির বলেন, ‘এই প্রতিবেদন নিয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। ৫-৭ বছর আগে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাত থেকে উদীয়মান চ্যাম্পিয়নরা তৈরি হয়েছে, যাদের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে, পরিণত হবে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে। আমাদের উদীয়মান চ্যাম্পিয়নদের বৈশ্বিকভাবেও বিস্তৃতির লক্ষ্য রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র হবে—সব সময় রূপান্তরে প্রাধান্য দেওয়া, সামাজিক প্রভাবসহ আরো অনেক বিষয়।

শেয়ার করুন:
পুরো সংবাদটি পড়ুন
Advertisement
November 2022
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

কর্পোরেট সংবাদ

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার

ফেসবুকে অর্থসংবাদ