Connect with us

অর্থনীতি

ভ্যাট ফাঁকি দিলে ব্যাংক ঋণ নয়

Published

on

কোনো ব্যবসায়ীর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে প্রদর্শিত সম্পত্তির সঙ্গে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী বা অডিট রিপোর্টের সম্পত্তির মধ্যে যদি কোনো গরমিল থাকে তাহলে তিনি ব্যাংক ঋণের জন্য বিবেচিত হবেন না। আর এ তথ্যে গরমিল পাওয়ার পরেও যদি কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরকে না জানায় তাহলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাও দায়ী হবেন।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ প্রস্তাব বিবেচনাকালে বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ তাদের নির্ধারিত যাচাই বাছাই কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসাবে মূসক দফতর কর্তৃক গৃহীত দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভার পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। করদাতা কর্তৃক ব্যাংকে দাখিলকৃত বার্ষিক বিবরণী বা অডিট রিপোর্ট যাচাই করে দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভারের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অধিদফতরকে জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে তারা। মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন যোগ্য। কোনো ব্যক্তির অডিট রিপোর্ট ও দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভারের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তার ঋণও মঞ্জুর হবে না এমনটি জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠিতে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর বিধান মতে করদাতাগণ তাদের প্রতি কর মেয়াদের ক্রয়-বিক্রয় ও আর্থিক লেনদেনের বিবরণ দাখিলের (রিটার্ন) মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দফতরে দাখিল করে থাকেন। ওই দাখিলপত্রের মাধ্যমেই সব করদাতার বিবরণ ও কর পরিশোধের তথ্য মূসক দফতর তথা সরকার অবহিত হয়ে থাকে। তাই দাখিলপত্র মূসক আইনে একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং দাখিলপত্রে প্রদর্শিত তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে করদাতার বার্ষিক আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা প্রতিবেদন সংগতিপূর্ণ হওয়া বাঞ্চনীয়।’

Nogod-22-10-2022

‘কিন্তু মূসক দফতরসমূহ কর্তৃক বিভিন্ন করদাতাদের বাণিজ্যিক কর্যক্রমের নিরীক্ষা পরিচালনা কালে প্রায়শই দাখিলপত্রে প্রদর্শিত বিক্রয় বা টার্নওভারের সঙ্গে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী বা অডিট রিপোর্টে প্রদর্শিত বিক্রয় বা টার্নওভারের তথ্যের গরমিল পাওয়া যায়। করদাতার এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে তার ব্যবসায়ের প্রকৃত টার্নওভার অপ্রদর্শিত থেকে যাচ্ছে। তাই সরকার প্রকৃত রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। যা অনভিপ্রেত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর পাশাপশি ফাইন্যাশিয়াল রিপোর্টিং আইন ২০১৫ এরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘এ পরিস্থিতিতে কোনো করদাতার (১০০ শতাংশ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যতীত) অনুকূলে ঋণ প্রস্তাব বিবেচনাকালে বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ তাদের নির্ধারিত যাচাই বাছাই কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসাবে মূসক দফতর কর্তৃক গৃহীত দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভার পরীক্ষা এবং করদাতা কর্তৃক ব্যাংকে দাখিলকৃত বার্ষিক বিবরণী বা অডিট রিপোর্ট যাচাই করে দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভারের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরকে অবহিত করা আবশ্যক। অন্যথায় পরবর্তীতে ব্যাংকে দাখিলকৃত আর্থিক প্রতিবেদনের সঙ্গে মূসক দফতরে দাখিলকৃত রিটার্নের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাও দায়ী থাকবেন।’

‘এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব তফসিলি ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো। জাতীয় রাজস্বের স্বার্থে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৮২ অনুযায়ী এ বিষয়ে সহায়তা একান্ত কাম্য।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, একজন গ্রাহকের ঋণ মঞ্জুরে অনেক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সেই সঙ্গে দাখিলপত্রও যাচাই করা সম্ভব। আর এক্ষেত্রে দুই প্রতিবেদনে গরমিল দেখা গেলে স্বাভাবিকভাবেই ওই ঋণ স্থগিত হয়ে যাবে। এটি বাস্তবায়ন হলে কর ফাঁকি কমবে। দেশের রাজস্ব বাড়বে। এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অর্থনীতি

আরও বেড়েছে চালের দাম

Published

on

এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে মোটা চালসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম। মোটা চাল ন্যূনতম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২ টাকা। আর মাঝারি ও চিকন চালের দাম বেড়েছে ২-৫ টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে বাজারে কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। কিছুটা কমতি সবজির দামও। তেল, চিনি, আটা, ডাল ও অন্যান্য মুদি উপকরণের দাম আগের মতোই রয়েছে।

বাজারে মোটা পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকা। মাঝারি মানের মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা ও সরু নাজির চাল ৭৫-৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে পাইজাম চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা, মিনিকেট ২ টাকা ও ভালো মানের নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। চিকন চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৬৮ টাকা, মাঝারি বা পাইজাম চাল ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে গত এক মাসে তিন দফা বেড়ে আটার দাম প্রতি কেজি ৭৫ টাকায় ঠেকেছে। বাজারে দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। খোলা আটা নিলে পাওয়া যাচ্ছে ৫-১০ টাকা কমে।

Nogod-22-10-2022

অন্যদিকে বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে দুই সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া তেল ও চিনির দাম। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯০ টাকা এবং চিনির দাম ১০৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা আর ১৯০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে তেল-চিনি।

এতসব বাড়তির মধ্যে শুধু কমেছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। পাইকারিতে প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিমের দাম ১১০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা হালিপ্রতি ডিমের দাম রাখছেন এখন ৪০ টাকা। এতে প্রতি ডজনের দাম দাঁড়ায় ১২০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি এখন প্রতিকেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাবে কিছুটা কমেছে সোনালি মুরগির দামও। কেজিপ্রতি সোনালি মুরগির দাম পড়ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম।

এছাড়া বাজারে শীতকালীন সবজি প্রচুর থাকলেও সে অনুযায়ী দাম কমেনি।

খুচরা বাজারে পেঁপে ৩০ আর মুলা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন অন্যান্য সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কেনাবেচা চলছে। কিছু সবজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে, যেগুলো গ্রীষ্মের। এরমধ্যে শিম, পটলের তুলনায় অন্য সবজির দাম বেশি। পাকা বা আমদানি করা টমেটোর কেজি ১১০ থেকে ১২০, গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসংবাদ/কেএ

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

পোশাক রপ্তানিতে আবারও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ

Published

on

পোশাক রপ্তানির বাজারে ফের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বাংলাদেশকে সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নেয় ভিয়েতনাম।  এবার তাদের সরিয়ে আবারও দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজের দেশটি।

বুধবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা-২০২২ এ দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে ভিয়েতনামের অংশ ২০২০ সালের ৬.৪০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৫.৮০ শতাংশে নেমে গেছে।

বৈশ্বিক আরএমজি বাজারে বাংলাদেশের অংশ অবশ্য ২০২০ সালে ৬.৩০ শতাংশ থেকে গত বছর ৬.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়। এই অনুপাত ২০১৯ সালে ৬.৮০ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬.৪০ শতাংশ।

ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আরএমজি রপ্তানি দৃঢ়ভাবে বেড়েছে এবং বার্ষিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। ২০২০ সালে, এই রপ্তানি একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছিল এবং ভিয়েতনামের আরএমজি রপ্তানির ৭ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশে ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।

Nogod-22-10-2022

বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে ২০১০ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৪.২০ শতাংশ, তখন ভিয়েতনামের অংশ ছিল ২.৯০ শতাংশ।
চীন ২০২০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে দেশটির অংশ ৩১.৬০ শতাংশ থেকে গত বছরে ৩২.৮০ শতাংশে উন্নীত করে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে।

ডব্লিউটিওর প্রকাশনা অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরএমজির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব রপ্তানিকারক। সুতরাং, প্রযুক্তিগতভাবে, বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ব আরএমজি রপ্তানিকারক দেশ এবং ভিয়েতনাম চতুর্থ।

ইইউ-এর সম্মিলিত রপ্তানি পরিসংখ্যান দেশভিত্তিক আলাদা করা হলে, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক হবে। তুরস্ক ও ভারত পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এরপরে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং পাকিস্তান।

ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শীর্ষ ১০ পোশাক রপ্তানিকারকের বার্ষিক মোট রপ্তানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০ সালের ৩৭৮ বিলিয়ন থেকে একটি বড় উত্থান। এ মূল্য ২০১৯ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়েছিল।

অর্থসংবাদ/কেএ

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

তিন ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুদক

Published

on

দেশের বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ইসলামী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা লেনদেনে অর্থ পাচার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দুদক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্ত চেয়ে চিঠি দিয়েছেন পাঁচজন আইনজীবী। এ বিষয়ে দুদকের সচিব বলেন, ‘চিঠি আমার হাতে এখনো এসে পৌঁছায়নি। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংবাদটি পাওয়ার পরে যাতে অনুসন্ধান শুরু করা যায় সেই লক্ষ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার কাজ ইতিমধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি। তথ্য-উপাত্ত আমাদের হাতে আসলে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হবে। আপাতত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ঋণ দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর অনিয়মের খবর উঠে আসে। নানা উপায়ে ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ও বাকি অর্থ সোশ্যাল ইসলামী এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ বের করা হয় তার মধ্যে বেশ কয়েকটিই ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ঋণ নিয়েছে। যেগুলো মূলত নামসর্বস্ব কোম্পানি। এ রকম নামসর্বস্ব দুই কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয় দুই হাজার কোটি টাকা।

Nogod-22-10-2022

অন্যদিকে, ভুয়া ঠিকানা ও কাগুজে কোম্পানি খুলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া ও এস আলম গ্রুপের ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ঘটনায় রিট করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অর্থসংবাদ/কেএ

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

শিগগিরই বিশ্বব্যাংক থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে বিএসইসি

Published

on

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে শিগগিরই ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) একটি অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি অর্থসংবাদকে বলেন, বিএসইসি, সিডিবিএল, ডিএসই এবং সিএসইর মধ্যে আন্ত:সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজিটাল ট্রান্সমিশন প্রকল্পের আওতায় ৮-১০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। খুব শিগগিরই এ অর্থ পাওয়া যাবে।

এর আগে গতকাল (বুধবার) ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপণী দিনে বিএসইসি কমিশনার বলেন, অনেক সময় অডিটরদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ এই জিনিসগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ আইপিও প্রসেসটাকে ডিজিটালাইজড করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য বিএসইসি বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চেষ্টা করছে। এজন্য সরকারের ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফান্ডটি পাওয়া যাবে। বিএসইসি সে ফান্ড নিয়ে পুরো আইপিও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে৷

শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোন কোম্পানি রয়েছে কিনা এবং সে কোম্পানিগুলোকে তারা কিভাবে পরিচালিত করছে। এছাড়াও ইএসজি রিপোর্টিং এর মতো নতুন নতুন নিদেশিকা ও মূল্যায়ন তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ডকুমেন্ট কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ডকুমেন্ট তৈরিতে কমিশনের কোন হাত নেই। কমিশন অডিটরদের অডিট রিপোর্টকে পর্যাপ্ত ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

Nogod-22-10-2022

তিনি আরও বলেন, কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আইপিওর দালিলিক প্রমাণের দিকে খেয়াল রাখা। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ৪টি বিষয় খেয়াল রাখে। প্রথমটি হলো-ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা কেমন ও তাদের মানসিকতা কী। দ্বিতীয়টি হলো-যে সকল বিনিয়োগকারী আইপিওতে বিনিয়োগ করেছে, তাদের বিভিন্ন বিষয় জানা। তৃতীয়টি হলো-কোম্পানিটি কোনো রেগুলেটরি ক্রাইসিস তৈরি করবে কিনা সেটি লক্ষ রাখা এবং চতুর্থটি হলো-যে সকল প্রতিষ্ঠান দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান তালিকাভূক্ত না করা।

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অর্থনীতি

তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো নভেম্বরে

Published

on

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার, আগস্টে এসেছে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর এসেছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা গত ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন সূত্র মতে, নভেম্বরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২৮ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

এবারও সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। নভেম্বরে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ১ লাখ ডলার, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

Nogod-22-10-2022

এর আগে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ ওঠানামা করলেও গত অক্টোবরে রেমিট্যান্স আগের ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম এসেছিল। গত অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। তবে চলতি নভেম্বর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে এবং বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জানায়, বৈধপথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান, প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন। হুন্ডি বা অন্য কোনও অবৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠানোর জন্য এভাবে আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) পাঠিয়ে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, আপনাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্য কোনও অবৈধ পথে না পাঠিয়ে বৈধপথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করুন, দেশ গড়ায় মূল্যবান অবদান রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন। আরও জানায়, অবৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে বিএফআইইউ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবাসী আয় বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে- বৈধ উপায়ে ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা, সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা প্রদান, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজীকরণ পাশাপাশি অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ণ অর্থায়ন সুবিধা দেয়া, ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশের ব্যাংকের সাথে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রেমিট্যান্স প্রেরণে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ওই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ডলার, আগস্টে ১৮১ কোটি ১ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ, অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ, নভেম্বর ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ এবং ডিসেম্বরে ১৬৩ কোটি ৬ লাখ, জানুয়ারিতে ১৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ, মার্চে ১৮৫ কোটি ৯৭ লাখ, এপ্রিলে ২০১ কোটি ৮ লাখ, মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ এবং জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৪ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

অর্থসংবাদ/এসএম

শেয়ার করুন:
(অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনও তথ্য পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।)
পুরো সংবাদটি পড়ুন
Advertisement
December 2022
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

কর্পোরেট সংবাদ

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার

ফেসবুকে অর্থসংবাদ