বাংলাদেশ অবাক করেছে আমাকে: রহমান মৃধা

প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২০-০৬-১৬ ১১:৩১:৫৯, আপডেট: ২০২০-০৬-১৬ ১১:৩৩:১২

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্রই মানুষের মাঝে কমবেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা আমাদের বড় আকারে চাপের উপর রেখেছে। যেহেতু কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধের তেমন কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নেই সেহেতু এমন আতঙ্ক থাকা স্বাভাবিক। তবে আমরা ইতিহাসের শুরু থেকে আজ অবধি দেখি যখন যে মহামারী, গজব বা ভয়ংকর অঘটন পৃথিবীতে ঘটেছে তখন সেটা সে সময়ের জন্য জটিল ছিল। সমস্যার সমাধান করতে সময় যতো বেশি লেগেছে ততো বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে মানবজাতি। কোনো না কোনো সময় মানুষ সমস্যার সমাধানে উপনীত হয়েছে। সমস্যা এসেছে সমাধান হয়েছে।

হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিষ্টান বলে কথা নয় মানুষ তার সমাধান করেছে। এবারের কোভিড-১৯ আমাদের আতঙ্কে ফেলেছে। প্রথমদিকে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত ছিল যেমন কেউ কেউ বলেছে এভাইরাস শুধু ননমুসলিমদের জন্য। কেউ কেউ হয়তো এর উল্টোটা বলেছে। আমি ধর্ম বা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কিছু লিখব না কারণ এ দুটি বিষয়ে আমাদের যে জ্ঞান রয়েছে তা যথেষ্ট নয় সঠিক মন্তব্য করার জন্য। তবে এতটুকু বলবো যে মানুষ বাধ্য হবে শেষে এর সমাধান খুজে বের করতে। যেসব মানুষ এ সময় কাজ করছে সমাধানের জন্য আসুন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাই। সমস্যাকে সঙ্গে রেখে বসবাস করতে শিখি এবং একইসাথে শিখি অজানাকে জানতে।

কেভিতোভ-১৯ এর কারণে গোটা বিশ্ব কিছুটা থেমে গেছে, প্রডাক্টিভ বা ক্রিয়েটিভ তেমন কিছু হচ্ছে না। অর্থ থাকতেও তার তেমন গ্রহণযোগ্য ব্যবহার নেই। আবার কিছু কিছু দেশ যেমন বাংলাদেশ অর্থ নেই অথচ বিশাল একটি বাজেট করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন দরকারে খরচ করবো পরে ভাবা যাবে আয়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

আজ একটি ছোট্ট ইন্টারভিউ দেখলাম, বস্তির একটি মহিলা দুই বাচ্চার মা। স্বামী ছেড়ে চলে গেছে এবং সে নতুন করে বিয়ে করেছে। অথচ মহিলাটি বাচ্চা দুটোকে নিয়ে পরের জায়গায় একটি তাঁবুর তলে কোন রকম মাথা গুজে পড়ে আছে। তার তেল আনতে নুন নাই। তাকে সাংবাদিক জিজ্ঞেস করছে, রাতের ডিনার হয়েছে, নাকি হবে বা হবেনা। মহিলা উত্তরে বললো নির্ভর করছে কিছু রোজগারের উপর। মানে কী দাড়ালো এখানে? মহিলার কিছুই নেই, সকালে কিছু খেয়েছে, দুপুরে খাওয়া হয়নি, রাতের খাবার হবে কি না অনিশ্চিত সত্ত্বেও সে ভাবছে ইনকাম হলে ব্যবস্থা।

অথচ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রের বাজেট পাশ করেছেন, যেখানে কী খরচ করবেন তার পরিমাণ পরিষ্কার অথচ ইনকাম কী ভাবে হবে সে বিষয়ে তিনি বলেছেন সে ভাবনা চিন্তা পরে হবে।

একটি বিধ্বস্ত পরিবারের এক মহিলা যাকে তার স্বামী ফেলে চলে গেছে, যার দুইটি বাচ্চা খিদেয় ছটফট করছে সেও সাংবাদিককে বলতে পারেনি যে সে কী খাবে রাতে? কারণ নির্ভর করছে তার আয়ের উপর, অর্থাৎ আয় বুঝে ব্যয় হবে। দেশের অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পাশ করলেন তার গ্রহণযোগতা সে দেশের মানুষ করোনার সময় কীভাবে দেখছে? এই বাজেটের পর বর্তমান সরকারের উপর আস্থা কেমন? বস্তির মহিলার এক দিনের বাজেট অনিশ্চিত। সেই দেশের রাষ্ট্রীয় বাজেট পাশ করেন দেশের ৩৫০জন জনপ্রতিনিধি একত্রিত হয়ে। কীভাবে জনগণ দেশের এই ৩৫০জন জনপ্রতিনিধির উপর আস্থা রাখবে আগামী চার বছর? পুলিশ বা মিলিটারি দিয়ে জোরপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করে? নাকি দেশের মানুষের উপর দায়ভার চাপিয়ে দেশ পরিচালিত হবে?
দেশকে, দেশের মানুষকে জোর করে শাসনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত করে কি সম্ভব হবে তাকে সোনার বাংলা করা? পরাধীন আর আজকের স্বাধীনের মধ্যে কী তফাত তাহলে আমরা দেখছি? একটি পরিকল্পিত সিগনাল জাতি পেয়েছে দেশের ভবিষ্যত প্লান দেখে। তারপরও বিরোধী দল, দেশের মানুষের মাথায় এ ভাবনা এখন বড় ভাবনা নয় কারণ তারা তাদের নিজেদের জীবনের উপর ইয়ানাফসি ইয়ানাফসি করছে।

আমার প্রশ্ন বাংলাদেশ কোন গন্তব্যে তার যাত্রা শুরু করেছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ চিন্তিত। অন্যান্য বার দেশে সমস্যা হয়েছে দেশ বিদেশী সাহায্য পেয়েছে। এবার গোটা বিশ্ব সমস্যার সাথে পাঞ্জা লড়ছে সেক্ষেত্রে জানিনে বাংলাদেশ বিশ্বের থেকে তেমন আশানুপাত সাহায্য পাবে কিনা! বস্তির মহিলার দুর্দিন দেখে খারাপ লেগেছে সত্ত্বেও তার পরিকল্পিত বাজেটের চিন্তাটি ভালো লেগেছে। সে লেখাপড়া জানেনা তবুও সে এতটুকু শিখেছে, বুঝেছে যে আয় বুঝে ব্যয় করতে হবে (cut your coat according to cloth) অথচ বাংলাদেশ তার পুরো দেশের বাজেট করলো আগে ব্যয় পরে আয়! পুরো দেশ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে সব দেখছে অথচ কিছুই করছে না, আমি অবাক!

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন
[email protected]

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।