বিশ্বের এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাবি ও বুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০৬-১০ ১৪:৪১:১১

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) বিশ্বসেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)৷

গতবছরের মতো এবারও কিউএস র‍্যাংকিংয়ে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১-১০০০তম৷ এর অর্থ হলো, এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার শেষ ২০০ তে অবস্থান করছে। তালিকার ৫০০ এর পরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয় না এ র‍্যাংকিংয়ে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ২১টি ও পাকিস্তানের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছে৷

আজ বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংস ২০২১’ শীর্ষক বিশ্বসেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তালিকা প্রকাশ করেছে কিউএস৷ ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং প্রকাশ করলেও ২০১০ সালে আলাদা হয়ে যায় তারা৷

এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার কিউএস র‍্যাংকিংয়ে ৮০১-১০০০তম অবস্থানে জায়গা পেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট৷ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই র‍্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছিল৷ ওই বছরের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৭০১-৭৫০তম৷
কিউএসের প্রকাশিত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য র‍্যাংকিংগুলোর একটি মনে করা হয়৷ এই র‍্যাংকিংয়ে ছয়টি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়৷ এগুলো হলো একাডেমিক খ্যাতি (একাডেমিক রেপুটেশন), চাকরির বাজারে সুনাম (অ্যামপ্লয়ার রেপুটেশন), শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত (ফ্যাকাল্টি-স্টুডেন্ট রেশিও), শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি (সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি), আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও) ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও)৷
ছয়টি সূচকের মোট স্কোর ১০০৷ এর মধ্যে একাডেমিক সুনামে ৪০, চাকরির বাজারে সুনামে ১০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ২০, শিক্ষকদের গবেষণার উদ্ধৃতিতে ২০ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতে ৫ করে স্কোর থাকে৷ তালিকায় থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের স্কোর প্রকাশ করেনি কিউএস৷

কিউএসের প্রকাশিত নতুন এই র‍্যাংকিংয়ে ভারতের ৮টি ও পাকিস্তানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে বিশ্বসেরা ৫০০-এর মধ্যে৷ সার্কভুক্ত অন্য ৫টি দেশ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় স্থান পায়নি৷

এশিয়া থেকে অন্যদের মধ্যে চীনের ৫১টি, জাপানের ৪১টি, মালয়েশিয়ার ২০টি, সৌদি আরবের ১০টি, ইরানের পাঁচটি, ইসরায়েলের ছয়টি ও সিঙ্গাপুরের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে৷ ইউরোপ থেকে অন্যদের মধ্যে জার্মানির ৪৫টি, ইতালির ৩৬টি, ফ্রান্সের ২৮টি, নেদারল্যান্ডসের ১৩টি ও ফিনল্যান্ডের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে এই তালিকায়৷

কিউএসের এই র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে পাঁচটিসহ মোট ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৷ এর মধ্যে ১০০-তে ১০০ স্কোর নিয়ে টানা নবমবারের মতো তালিকায় প্রথম হয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), ৯৭ দশমিক ৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়৷ আর শীর্ষ দশে চারটিসহ যুক্তরাজ্যের মোট ৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এই তালিকায়৷ এর মধ্যে ৯৬ দশমিক ৭ স্কোর নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম আর ৯৪ দশমিক ৩ স্কোর নিয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সপ্তম অবস্থানে৷

এদিকে র‍্যাংকিং-নির্ধারণী সূচকগুলোর মধ্যে একাডেমিক খ্যাতি নির্ধারিত হয় কিউএস র‍্যাংকিংয়ের পরিচালিত একটি একাডেমিক জরিপের মাধ্যমে, যেখানে শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে ৯৪ হাজারের বেশিসংখ্যক বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়৷ চাকরির বাজারে সুনাম নির্ধারিত হয় কিউএসের পরিচালিত চাকরি-জরিপের মাধ্যমে, যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে তারা সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন কার্যকর গ্র্যাজুয়েট পায়৷

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সূচকে দেখা হয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা৷ শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি সূচকটি হচ্ছে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পাঁচ বছরে প্রকাশিত সব গবেষণাপত্র থেকে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের উদ্ধৃতির সংখ্যা ও মোট শিক্ষকসংখ্যার অনুপাত৷ আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতের মাধ্যমে দেখা হয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতা৷

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।