ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সতর্কতা

চলতি বছরেই মন্দার কবলে পড়বে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২২-০৮-০৫ ১৭:০৯:৪০

যুক্তরাজ্য এ বছর মন্দার কবলে পড়বে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। নতুন মুদ্রানীতির ঘোষণায় এই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। আর এই মন্দা ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় প্রত্যাশামতো ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আবারও নীতি সুদহার বৃদ্ধি করেছে। ১ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে নীতি সুদ এক ধাক্কায় ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ২৭ বছরের মধ্যে নীতি সুদহারের এটি সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় এ নিয়ে টানা ছয়বার নীতি সুদহার বৃদ্ধি করল ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

এ কারণে ঋণের সুদ আরও বাড়বে। এতে নিতান্ত না হলেই নয়, তারা ছাড়া অন্যরা ঋণ নিতে উৎসাহী হবেন না। তাতে সমাজে অর্থের প্রবাহ কমে আসবে—এই ধারণার আলোকে সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু তাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ইংল্যান্ডে ঠিক তাই হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা এক রকম বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ফলে এদিকে চলতি বছরের শীত মৌসুমে ইংল্যান্ডে জ্বালানির খরচ বার্ষিক হিসেবে ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে, অর্থাৎ এক বছর আগে যা পূর্বাভাস ছিল, তার তিন গুণ। আর তাতে মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

নীতি সুদহার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কারণে বাড়ি বন্ধক দেওয়া মালিকদের সুদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় তাঁদের মাসে ১৬৭ পাউন্ড অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হতে পারে। আবার কারও ১৩২ ডলার অতিরিক্ত দিতে হতে পারে।

নাইট ফ্রাঙ্ক ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার সাইমন গ্যামন বিবিসিকে বলেন, যেসব বাড়িওয়ালার ঋণের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এই সুদহার বৃদ্ধি তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা।

লন্ডনের এক ব্যবসায়ী প্যাট্রিক রিড ক্রেডিট কার্ড থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ক্রেডিট কার্ড থেকে ২৫ হাজার পাউন্ড ঋণ নিয়েছিলেন। এখন তিনি ঋণ পরিশোধ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘এখন আমি মাসে ১ হাজার ‍৮০০ পাউন্ডের কিস্তি পরিশোধ করি, কিন্তু সুদহার বৃদ্ধির কারণে আমাকে মাসে অতিরিক্ত ২৫০ পাউন্ড দিতে হতে পারে।’

এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্যাট্রিককে ব্যয় কমাতে হবে। অর্থাৎ একেবারেই প্রয়োজনীয় নয়, এমন খরচ কমাতে হবে। এ অবস্থা শুধু তাঁর একার নয়, অধিকাংশ মানুষের। আর এই ব্যয় কমানোর ধাক্কার ফল হলো অবধারিত সংকোচন। আর পরপর দুই প্রান্তিকে সংকোচন হলে তাকে মন্দা বলা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও ভালো নয়। বছরের প্রথম প্রান্তিকের মতো দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) অর্থনৈতিক সংকোচনের মুখে পড়েছে দেশটি। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বছরের প্রথম ৩ মাসে ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচনের পর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক হারে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।