অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে

নিউজ ডেস্ক, অর্থসংবাদ.কম, ঢাকা প্রকাশ: ২০২২-০৭-২৮ ১৯:৪৯:৫৪

অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ৷ কিন্তু ব্যাংক মূলত স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেয়। ব্যাংক সর্বোচ্চ দুই তিন  বছরের জন্য চলতি মূলধনের জোগান দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ মুলত বন্ড মার্কেট বা পুঁজিবাজারে সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংক খাত নিয়ে সমসাময়িক আলোচনা সমালোচনার প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন একথা বলেন।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার দুর্বল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী ঋণের জন্য ব্যাংকে চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরে স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণ নিয়ে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি বলেন, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আস্থার অভাব, অকার্যকারিতা একই সাথে বাজার অস্থির করে সেখান থেকে কিছু গোষ্ঠীর মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার কারণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে ডলারের বাজার। আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজার বর্তমানে অচল ৷ এটাকে সচল করতে হবে। চলমান ডলার বাজারের অস্থিরতায় হয়তো কোনো ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আস্থা বাড়াতে হবে।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মতো দেশে ডলারের বাজার একেবারে ফ্রি ফ্লোর করা সম্ভব না। কিছুটা ম্যানেজ করতে হবে। আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজার সচল, আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনঃগঠনে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলারের ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতেও জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত হবে বলেও জানান তিনি।

সেলিম আর এফ হোসেন আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের করা নতুন পুনঃতফসিল নীতিমালা যুগান্তকারী পদক্ষেপ, এটা কার্যকরী হবে। এখানে ব্যাংক খাতকে ছাড় দেয়া হয়নি। ঋণ পুনঃতফসিল সব দেশেই হয়। কিন্তু কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এটা অনুমোদন করে না। এমনটা বিশ্বের কোথাও নেই। ঋণ গ্রহীতাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চেনে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়।  পৃথিবীর কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল করে না, এটা ব্যাংকারদের কাজ। আগে ঋণ পুনঃতফসিল হতে ৩/৪ মাস সময় লাগত। এখন ঋণ পুনঃতফসিল হবে সর্বোচ্চ ৭ দিনে। এতে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি ভালো হবে। ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনটি ব্যাংকারদের জন্য দায়বদ্ধ এবং জবাবদিহি করবে। যদি ব্যাংকগুলোতে সুশাসন এবং দক্ষ জনবল থাকে তাহলে অবশ্যই সেই ব্যাংক এই সার্কুলারের মাধ্যমে ভালো ফলাফল করবে।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।