Connect with us

মত দ্বিমত

শরীয়তপুরের তারাবুনিয়ায় গড়ে উঠতে পারে পর্যটন-বাণিজ্য কেন্দ্র

Published

on

চাঁদপুর সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে রাজরাজেশ্বর। পদ্মা মেঘনার মোহনায় শরীয়তপুর জেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের পাশে এই ইউনিয়নটির অবস্থান। রাজরাজেশ্বরের চারভাগের তিনভাগ জল আর এক ভাগ স্থল বা চর এলাকা। নদীর ভাঙাগড়ার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে আছে চির অবহেলিত এ এলাকার বাসিন্দারা।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চর এলাকায় গেলে দেখা মিলে চাঁদপুর বন্দরের উঁচু উঁচু দালান কোঠা। সে এক অপরূপ দৃশ্য। চাঁদপুরের সাথে এ এলাকার বাসিন্দাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ট্রলার ও স্পিডবোট। চরের যে রাস্তা বিভাজন রেখা টেনেছে দুই জেলার দুই ইউনিয়ন সে রাস্তায় গিয়ে ছবি তুলে এক অন্যরকম অনুভূতি হলো। নদীর বিভাজন সত্ত্বেও চাঁদপুর আমাদের সাথেই আছে, আমরাও ইলিশের রাজধানীর সাথে মিলেমিশে একাকার।

আমার বিশ্বাস পদ্মাসেতু হওয়ার সুবাদে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে বিশাল এ চর এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে নতুন পর্যটন ও বাণিজ্য কেন্দ্র।

Nogod-22-10-2022

রাজরাজেশ্বর ও উত্তর তারাবুনিয়ার বিভিন্ন চর এলাকা দেখতে আমাকে ও ইত্তেফাকের ডামুড্যা উপজেলা সংবাদদাতা নুরুল ইসলাম খোকনকে সহযোগিতার জন্য ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন ও এসএম জাকির হোসাইনের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা।

লেখক: সাবেক সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা

শেয়ার করুন:
বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদে প্রকাশিত ও প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Advertisement

মত দ্বিমত

এটিএম বুথ ব্যবস্থাপনাঃ ভাবতে হবে নতুন করে

Published

on

আধুনিক আর্থিক সেবার অন্যতম একটি মাধ্যম এটিএম বুথ। ১৯৩৯ সালে সিটি ব্যাংক নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথম মেকানিক্যাল ক্যাশ ডিসপেন্সার চালু করে। ১৯৩৭ সালে বারক্লেস ব্যাংক নর্থ লন্ডনের এনফিল্ড শহরে প্রথম ইলেক্ট্রনিক এটিএম চালু করে। বাংলাদেশের রাজধানীর বনানীতে ১৯৯৩ সালে প্রথম এটিএম বুথ চালু করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

শুরুর দিকে এটিএম বুথে শুধুমাত্র টাকা উত্তোলনের সুযোগ ছিল। বর্তমানে টাকা জমা করা, একাউন্ট ব্যালান্স দেখা, ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাপ ব্যবহার করে কার্ডবিহীন টাকা উত্তোলনসহ আধুনিক ও অবাক করা সব সেবা যুক্ত হয়েছে। এটিএম বুথ সেবা রয়েছে বেশিরভাগ ব্যাংকেরই। গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টা টাকা উত্তোলন করতে পারেন বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ১২ হাজার এটিএম বুথ থেকে।

এনপিএসবির কল্যাণে এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে টাকা তুলতে পারছেন। কোন কোন ব্যাংকের বার্ষিক আয়ের বড় অংশই আসে এটিএম সেবা থেকে। আবার এটিএম কার্ডসেবাই কোনা কোন ব্যাংকের গ্রাহক আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এটিএম সেবা বিহীন ব্যাংকিং এখন কল্পনা করা যায় না।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এই মহাসড়কে উঠেও অনেক ব্যাংকের এটিএম সেবায় রয়ে গেছে বেশ কিছু দুর্বলতা যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রহাকদের। আর সুনাম হারাচ্ছে ব্যাংকগুলো। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া দুএকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে এটিএম বুথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।টিউশনি করে ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা জমা করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া অর্ক (ছদ্ম নাম)। ঈদে মা-কে একটি ফ্রিজ উপহার দিয়ে চমকে দিতে চেয়েছিল। ঈদের আগে টাকা তুলতে যায় অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথে। কার্ড প্রবেশ করিয়ে টাকার অংক কমান্ড দেয়ার পর এটিএম বুথে টাকা গণনা হয় এবং তার হিসাব ডেবিট হয়। কিন্তু এটিএম থেকে কোন টাকা বের হয় না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর টাকা না পেয়ে কল সেন্টারে ফোন করে অভিযোগ করলে এক মাসের মধ্যে সেটেল করার আশ্বাস দেয়া হয়। একমাস পওে ব্যাংক থেকে জানানো হয় সে এটিএম থেকে টাকা গ্রহণ করেছে। নিজের অবস্থানে অটল থেকে সে ভিডিও ফুটেজের জন্য আবেদন করে।

Nogod-22-10-2022

অপর ব্যাংক ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করতে অস্বীকার করায় অপারগতা প্রকাশ কওে ব্যাংক। হাল ছেড়ে না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ করে সে। কিছুদিন পর তাকে ডাকা হয়। সেখানে উক্ত ব্যাংকের সরবরাহ করা তিনটি ছবি দেখানো হয়। তিনটি ছবির দুটিতে তার ছবি এবং অপরটিতে ট্রে থেকে টাকা বের হবার ছবি। কিন্ত কে টাকা গ্রহণ করছে এমন কোন ছবি ছিল না। তাই সে ভিডিও ফুটেজ দাবি করে। কিন্তু উক্ত ব্যাংক টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলে ভিডিও ফুটেজ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তবুও গ্রাহকের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। ছেলেটি আর্থিক সংকটের কারণে আর কোর্টে যাওয়ার সাহস করেনি। অগত্যা বিশ হাজার টাকার আশা ছেড়ে দেয় সে।

দ্বিতীয় ঘটনা এ বছরের মার্চে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশের বিশেষ দল। তারা ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা লোড আনলোড করার দ্বায়িত্ব পালন করতো। উক্ত দলের সদস্যরা একটি ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর লোক। চক্রের সদস্যরা এটিএম বুথে টাকা লোড দেয়ার সময় টাকার গায়ে রাবার ব্যান্ড লাগিয়ে জ্যাম করে রাখত। গ্রাহক কমান্ড দেয়ার পর একাউন্ট ডেবিট হয়ে যেত ঠিকই। কিন্তু জ্যামার দেয়ার কারণে মেশিন থেকে টাকা বের হতে পারতো না। গ্রাহক অভিযোগ করলে ব্যাংক তাদের টাকা দিয়ে দিত।

চক্রের সদস্যরা তাদের আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতদের অ্যাকাউন্টে ঐ টাকাগুলো জমা করে দিত। এভাবে ছয় মাসে ব্যাংকের সাড়ে তিন কোটি টাকা লোপাট করে চক্রটি। পরে তারা সুযোগ বুঝে গা ঢাকা দেয়। ঐ কোম্পানীতে চাকরির আগেও উক্ত চক্রের সদস্যরা অন্য একটি কোম্পানীতে একই কাজ করত। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাদের চাকরি চলে যায়। অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে গ্রাহক হয়রানির খবর প্রায়ই শোনা যায়। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির শিখরে অবস্থান করেও ব্যাংকগুলোর ভিডিও ফুটেজ দিতে না পারা গ্রহণযোগ্য নয়। এটিএম বুথ চালু করার সাথে সাথে সকল লেনদেনের ফুটেজ সংরক্ষণ করা ব্যাংকের দ্বায়িত্ব। ব্যাংকের দুর্বলতায় গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে দায় কে নেবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা দরকার।

এটিএম বুথ ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় পক্ষকে নিয়োজিত করলেও টাকা লোড আনলোডের সময় ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা দরকার। তৃতীয় পক্ষের সাথে এ ধরণের চুক্তি করার আগে ব্যাংককে টাকার নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। কোম্পানীগুলোর সততা ও দক্ষতা যাচাই করা ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সম্প্রতি উত্তরায় একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে একজন গ্রাহককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ গ্রাহকসহ সকল শ্রেণীর মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়। এটিএম বুথে প্রহরী নিয়োজিত থাকলেও তারা গভীর রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সক্ষম নয়। গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়ার সময়সীমা বেধে দেয়া এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের তদারকি আরো জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অনেক সময় এটিএম বুথে জাল টাকা ও ছেঁড়াফাটা অচল টাকা পাওয়ার খবর আসে। ছেঁড়া টাকা বের হলে গ্রাহকের করণীয় কি তা জানা না থাকায় অনেক গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তাই এটিএম বুথে সমস্যা হলে করণীয় বিষয়ে স্পষ্ট করে পোষ্টারে লিখে ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথের দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে রাখা যেতে পারে। ব্যাংকের পাশাপাশি গ্রাহকেরও নিজের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনের স্থান ও সময় ব্যবস্থাপনায় সচেতন হওয়া জরুরী। এছাড়া ছেঁড়াফাটা ও জালনোট পেলে করনীয় কি তা জানাও গ্রাহকের কর্তব্য। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করে দেয়।

প্রযুক্তিকে সঠিক ও সৎভাবে ব্যবহারের উপর নির্ভর করে তা গ্রাহকদের জন্য কতটা কল্যাণকর হবে। দক্ষ সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে বুথের পাহারা, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যাকআপ নিশ্চিত করা, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, আন্তব্যাংক এটিএম ব্যবহারে দ্রুত গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তি, উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক ও উন্নত মানের এটিএম মেশিন ব্যবহার করা না হলে গ্রাহকদের হয়রানির পরিমাণ বাড়তে থাকবে। গ্রাহক সেবার উন্নয়ন ও ব্যাংকগুলোর সুনাম ধরে রাখতে এটিএম বুথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এখনই।

রিয়াজ উদ্দিন: লেখক ও ব্যাংকার
ইমেইল : riyazenglish@gmail.com

শেয়ার করুন:
বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদে প্রকাশিত ও প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে একজন বাংলাদেশি

Published

on

আর মাত্র অল্প কয়েকদিন বাকি তারপর সুইডেনের জাতীয় নির্বাচন। বিশাল একটা কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না। মনে অতীতেও হয়নি, কারণ প্রতি চার বছর পর পর সুইডেনে জাতীয় নির্বাচন হয়, দিনটি ১১ ই সেপ্টেম্বর, জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে যার যার ভোট যাকে খুশি তাকেই দেয়। মূলত ২৪ আগস্ট থেকে বিভিন্ন লাইব্রেরি কিংবা কাউন্সিলের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বা যারা দেশের বাইরে থাকে তাদের জন্যও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, সুইডেনের ভোট শুরু হবে ২৪ আগস্ট ও শেষ দিন হলো ১১ সেপ্টেম্বর।

‘সুইডেনে বাই ইলেকশন বলে কিছু নেই। কোনো এমপি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হলে তখন তাঁকে তাঁর এমপি আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। কারণ, সরকার কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করে না। ওই সময় মন্ত্রীর রাজনৈতিক দলের অন্য প্রার্থী, যাঁর নাম প্রার্থীর তালিকায় মন্ত্রীর নামের পরে ছিল, তিনি অটোমেটিক এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঠিক একইভাবে কোনো এমপি ইন্তেকাল কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে প্রার্থীর তালিকা অনুসারে যে প্রার্থীর নাম এ প্রার্থীর নিচে থাকবে, তিনি এমপি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অর্থাৎ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টি আসন লাভ করবে, সে আসনগুলো পুরো ম্যান্ডেট পর্যন্ত সেই দলেরই কাছে থাকে। অন্যদিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর কোনো এমপি যদি কোনো কারণে তাঁর দল ত্যাগ করেন কিংবা দল তাঁকে বহিষ্কার করে, তথাপি তিনি দলবিহীন এমপি হিসেবে পুরো সময় পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কারণ, তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি, দলের ভোটে নয়। এই সময় এই এমপি যখন পার্লামেন্টে বক্তব্য দেন, তখন তাঁর নামের পাশে কোনো দলের নাম থাকবে না।’

সুইডেনে নর-নারীর সমান অধিকার সত্ত্বেও এই প্রথম এক নারী যিনি দেশ পরিচালনার দায়ীত্বে রয়েছেন এবং বেশ কিছু মহিলা বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন। আমি সুইডেনের নানা বিষয়ের উপর লিখি, কথা বলি। নির্বাচন সম্পর্কে অতীতে লিখেছি, এবারের লিখাটি কিছুটা ভিন্ন এই কারণে যে সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশি বংশভুত মহিবুল ইজদানী খান ডাবলুকে ভেনস্টার পার্টির স্টকহোমের জাতীয় সংসদ প্রার্থীর তালিকায় নমিনেশন দিয়েছে। এটা তার জন্য একটি বিশাল ঘটনা যে তিনি প্রথম বাংলাদেশী যে সুইডিশ রাজনীতিতে জড়িত। যা অন্যান্য বাংলাদেশীদের মগজে কিছুটা নাড়া দিবে যেমন আমাকে দিয়েছে। আমি অতীতে বলেছি লেখাপড়া আর চাকরি করা ছাড়াও যে জীবনে আরো অনেক পথ রয়েছে ক্রিয়েট ভ্যালু ফর ম্যানকাইন্ড। আশাকরি, সেটা আমরা দেখতে পাব এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, তারপর একটি কথা মনে রাখতে হবে শুধু পাশ বা ফেলের দিকে নজর নয় বরং অংশ গ্রহন করা কিন্তু একটি বড় ব্যপার।

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু সুইডেনের রাজনীতিতে ২০০২-২০০৬ মেন্ডেট পিরিয়ডে প্রথমবার ভেনস্টার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে স্টকহোম সিটি কাউন্সিলে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে ২০০৬-২০১০ ও ২০১৪-২০১৮ দলের কাউন্টি কাউন্সিল (গ্রেটার স্টকহোম অ্যাসেম্বলি) নির্বাচনে জয়লাভ করে মোট আট বছর কাউন্টি কাউন্সিলরের (গ্রেটার স্টকহোম অ্যাসেম্বলি) দায়িত্বে ছিলেন। এই সময় কাউন্সিলের স্বাস্থ্য পরিচর্যা বোর্ড স্টকহোম কালচারাল অ্যান্ড এডুকেশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময় বিরোধী দলের হয়ে যে দায়ীত্বে কাজ করেছেন যদি সেটা মনপূত হয়ে থাকে তার এলাকার মানুষের জন্য, তথা বাংলাদেশীদের জন্য তবে জাতি তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে বলে আমি মনে করি।

Nogod-22-10-2022

সুইডেনের নির্বাচন সাধারণত প্রপোর্শনাল (Proportional) ভোটের মাধ্যমে হয়ে থাকে। পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে কমপক্ষে মোট ভোটের ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সমানুপাতিক এ নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলো বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। যেসব প্রার্থীর নাম তালিকার একেবারে ওপরে থাকে, তাঁদের দলের মোট পাওয়া ভোটের পার্সেন্টেজ অনুযায়ী জয়লাভ করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ ভোটাররা ভোট দেয় দলকে কোনো প্রার্থীকে নয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে এ নিয়মের পরিবর্তন আনা হয়। আর তা হলো দল যেভাবেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করুক না কেন, ভোটাররা চাইলে নিজেদের পছন্দনীয় একমাত্র একজন প্রার্থীর নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে পারবেন। একে বলা হয় ব্যক্তিগত ভোট। অর্থাৎ একজন ভোটার প্রার্থী তালিকায় যার নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দেবেন, তার নাম যেখানেই থাকুক না কেন, এ ভোটারের ভোটে তাকে এক নম্বর হিসেবে গণনা করা হবে। এভাবে একটি নির্বাচনী এলাকায় দলের কোনো প্রার্থী যদি মোট ভোটের ৪ শতাংশ ক্রস পান, তাহলে তিনি জয়লাভ করবেন।

এ নিয়মে ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ভেনস্টার পার্টি, গ্রিন পার্টি, ক্রিস্ট ডেমোক্রেট পার্টি, লিবারেল পার্টি ও সেন্টার পার্টি থেকে কিছুটা হলেও জয়লাভ করা সুযোগ রয়েছে। বাকি বড় তিনটি দল সোশ্যাল ডেমোক্রেট, মডারেট ও সুইডেন ডেমোক্র্যাটের ক্ষেত্রে মোট ভোটের ৪ শতাংশ ভোট একজন প্রার্থীর এককভাবে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এসব রাজনৈতিক দল থেকে ব্যক্তিগত ভোটে পার্লামেন্টে জয়লাভ করতে হলে কমপক্ষে সাত হাজারের কাছাকাছি ভোটের প্রয়োজন হয়। সেই তুলনায় ছোট ছোট দল থেকে ব্যক্তিগত ক্রসের প্রয়োজন মাত্র চার হাজার। তা–ও নির্ভর করবে দলের মোট ভোটসংখ্যার ওপর। অনেক সময় চার হাজার কিংবা তারও কম ভোটে জয়লাভ করার সুযোগ রয়েছে। সুইডেনের বর্তমান পার্লামেন্টে কয়েকজন এমপি এই নিয়মে জয়লাভ করে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমান সুইডিশ পার্লামেন্টে সুইডেনের বাইরে থেকে আগত মোট ২৯ দেশ থেকে পার্লামেন্ট মেম্বার থাকলেও ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের কেউ এখন পর্যন্ত সুইডিশ পার্লামেন্ট মেম্বার হতে পারেননি।

আমি আশা বাজি মহিবুল ইজদানী খান সুইডিশ পার্লামেন্ট মেম্বার হয়ে সুইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভালো করতে সাহায্য করবেন। যেমন বাংলাদেশের অনেক দ্রব্য আছে, যা সুইডেনে চাহিদা আছে, ঠিক তেমনি সুইডেনে নির্মিত উচ্চমানের অনেক যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম আছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।

আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিরা অপপ্রচার ও বাংলাদেশি রাজনীতিকে সামনে এনে নিজেদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি না করে যদি দলমত–নির্বিশেষে সবাই সমর্থন দেই, তাহলে ইনশাআল্লাহ মহিবুল ইজদানী খান জয়ী হবেন। স্টকহোম বসবাসরত বাংলাদেশি সুইডিশ নাগরিক তার জন্য একটি বড় শক্তি। একমাত্র বাংলাদেশি ভোটাররাই তাকে, তার এই অগ্রযাত্রাকে সফল করতে পারেন। আসুন আমরা সুইডেনে লিটিল বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:
বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদে প্রকাশিত ও প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

শেয়ার বিক্রি করে অনেকে ডলারের বাজারে জুয়া খেলায় নেমেছে

Published

on

দেশে কি আসলে ডলার ক্রাইসিস চলছে? বা যতটা সমস্যা পত্র-পত্রিকায় দেখছি আদৌ কি তা বাস্তব? এই ক্রাইসিসটা কি সত্যিকারের সংকট? নাকি মানব সৃষ্ট সংকট?

গতকালের বিভিন্ন পত্রিকা নিউজ করেছে খোলা বাজারে ডলার ১১৯/১২০/১২১ টাকা। এটা একটা সাধারণ সংবাদ; যা আমি-আপনি খালি চোখে দেখছি তাই পত্রিকা সমূহ লিখছে? এসব সংবাদে ঘটনা আছে কিন্তু অনুসন্ধানী তত্ত্ব বা তথ্য নেই। এই সব সাধারণ সংবাদ কিন্তু বাজারকে আরও উস্কে দেয়। আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি কিছু ব্যাংক, কিছু মানি এক্সচেন্জ এবং কিছু ব্যক্তি বিশেষ ডলার কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে দাম বাড়াচ্ছে।

অনেকে শেয়ার বিক্রি করে ডলার বাজারের জুয়ায় নেমে গেছে। এভাবে সংবাদ পরিবেশন করলে লাভের আশায় আরও মানুষ এ বাজারে আসবে, তারপর কর্পোরেটরা বেশী দামে ডলার বিক্রি করে দিয়ে সরে পড়বে আর ধরা খাবে সাধারণ লোভী বিনিয়োগকারীরা।

এইরকম সংবাদগুলির হেডলাইনসহ প্রতিবেদনের তথ্য গুলি আরও সমৃদ্ধ হওয়া উচিত, হওয়া উচিত অনুসন্ধানী। শুধু মাত্র – ‘ডলারের দাম খোলা বাজারে ১২০ টাকা’ লিখলেই সংবাদ হয় না। লেখা উচিত কেন এই দাম, কি কারনে এ দাম বাড়ছে, কেউ এতে জড়িত থাকলে তারা কিভাবে জড়িত ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম হেড লাইন দেওয়া উচিত যাতে মানুষ তথ্যও পাবে আবার সতর্কও হবে। যেমন – ‘কৃত্রিম সংকটে খোলা ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়’। সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের রাষ্ট্র ও জনগনের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। একই বিষয় লেখার ধাঁচে পজিটিভ বা নেগেটিভ করা যায়। বিষয়টা হলো তারা কিভাবে সমস্যাটি সমাজকে দেখাতে চায়।

Nogod-22-10-2022

আমি মনে করি, ডলারের সংকট কিছুটা হয়েছিলো। সেটাকে পুঁজি করে একটি চক্র নেমে গেছে ডলার জুয়ায়। এর নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছে যুদ্ধ, শ্রীলংকার অর্থনীতি এবং সমসাময়িক ভূরাজনীতি। এর মধ্যে আমাদের পত্রিকা গুলি মূল সমস্যা সামনে না এনে প্রতিদিন শেয়ার দরের তথ্যের মতো ডলারের দাম বাড়ছে- এরকম সংবাদ চলমান রাখায় চক্রটি সাধারণ পাবলিকদের প্রলুব্ধ করতে সক্ষম হয়েছে ডলারের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার জন্য। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা একে একে ঢুকে পড়ছে এই বাজারে। একমসময় মূল চক্র ও প্রতিষ্ঠান গুলি বেশী দামে তাদের হাতে রাখা ডলার বিক্রি করে সড়ে পড়বে আর শেয়ার বাজার ধসের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত পড়বে। এখন দেখার বিষয়, ডলারের দামে হঠাৎ পতন হলে নব্য ডলার জুয়াড়িরা রাস্তায় মিছিল করতে নামে কিনা?

লেখক:

সাখাওয়াত হোসেন মামুন

ভাইস চেয়ারম্যান, ভাইয়া গ্রুপ

শেয়ার করুন:
বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদে প্রকাশিত ও প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

মুদ্রাস্ফীতি: করণীয় ও বর্জণীয়

Published

on

কোভিড-১৯, গোটা বিশ্বকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত দুই বছরের বেশি সময় ভয়, আতঙ্ক এবং নানা রকম কষ্টের মধ্য দিয়ে মানবজাতি সময় পার করে চলতে পথে নতুন দুর্ভোগের মুখোমুখি। রাশিয়া আক্রমণ করেছে ইউক্রেনকে যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

সুইডেন একমাত্র দেশ যারা করোনা মহামারীতে লকডাউন দেয়নি। যার ফলে মাসুল দিতে হয়েছে ৬-৭ গুন মানুষের জীবন, প্রতিবেশি দেশগুলো ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক বা নরওয়ের তুলনায়। এখনও কোভিড-১৯ গোটা বিশ্বে বিরাজমান ঠিক এই রকম একটি দুঃসময়ে বেধেছে যুদ্ধ, যার প্রতিক্রিয়া পৃথিবীর সর্বত্র কোনো না কোনোভাবে শুরু হয়েছে। তবে সুইডেনে এর প্রভাব এতবেশি পড়েছে যা বর্ণনা করা সম্ভব নয়, তবুও বিষয়টির ওপর আলোকপাত করব এবং তুলে ধরবো এর ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া।

এ বছরের শুরুতেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে। জ্বালানি তেল, গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যোগাযোগের মাধ্যম তথা প্লেন, ট্রেন বাসসহ বোটের টিকিটের দাম বেড়েছে। বাড়েনি কারো আয়, তাহলে কি দাঁড়ালো? সহজ করে বলি যাতে বুঝতে সহজ হয়। পিঁয়াজের কেজি সাধারণত দশ টাকা, হঠাৎ হয়ে গেল পঞ্চাশ টাকা। কি দাঁড়ালো? দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি লাভ করলো এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকলো। টাকার মূল্য হ্রাস পেতে থাকাকে বলা হয়ে থাকে মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন।

মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন নানাভাবে হতে পারে এবং এ বিষয়ে নানা জনের নানা রকম ব্যাখ্যা রয়েছে। যেমন: কারো মতে উৎপাদন প্রচেষ্টা অপেক্ষা মানুষের আয় যদি বেশি হয় তবে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কারো মতে, ক্রয় ক্ষমতার অস্বাভাবিক পরিমাণ বৃদ্ধিই হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি। কারো মতে, মুদ্রাস্ফীতি হল এরূপ একটি পরিস্থিতি যেখানে অত্যাধিক পরিমাণ অর্থ অতি সামান্য পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রীর পশ্চাতে ধাবিত হয়। কারো মতে, মুদ্রাস্ফীতি এমন একটি অবস্থা যখন অর্থের মূল্য ক্রমেই হ্রাস পায় অর্থাৎ দ্রব্যমূল্য ক্রমে বৃদ্ধি পায়। আরো নানা ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন নিয়ে তবে সকল সংজ্ঞার বিশ্লেষণ করলে মুদ্রাস্ফীতির ওপর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।

Nogod-22-10-2022

সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, যখন একটি দেশে বা বিশ্বে পরিচালিত অর্থের পরিমাণ উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রীর তুলনায় অধিক হয় এবং এর ফলে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি প্রাপ্ত হলো তখন তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। এটা মূলত নতুন কিছু নয়, তবে ভাবতে হবে কেন এমনটি হয় এবং কি কারণ এর পেছনে?

আমেরিকার বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন এত বেশি যা গত চল্লিশ বছরে দেখা যায়নি, কি করছে দেশটি এসময়? ব্যাংকের থেকে টাকা ধার নিতে গেলে বা যাদের ধার রয়েছে তার ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা করছে ইউরোপে এমনকি সুইডেনে। আমি সদ্য একটি ফ্লাট কিনেছি হঠাৎ সুদের পরিমান দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে যার ফলে আমার বসবাসের খরচ অতীতের তুলনায় দুইগুন বেশি হয়েছে। এদিকে আমার বেতন বাড়েনি। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম আগুনের মত গরম। ভাবুন তাহলে আমি সহ অন্যান্য জনগণের বর্তমান অবস্থা? হ্যাঁ, অবস্থা খুবই করুন!

ইউরোপের মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি এবং তা মোকাবেলায় দেশগুলো বিভিন্নরকম পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন: বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো ইউরোপের ব্যাংকগুলোরও মূল লক্ষ্য হল মুদ্রাস্ফীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশার মানদণ্ড হিসাবে কাজ করা, এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রতি বছর ২ শতাংশের কাছাকাছি রাখা। সুইডেনের বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি। সেক্ষেত্রে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ০.৭৫ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং বলছে বছরের শেষে আরো ১.২৫ শতাংশ বাড়াবে যদি তার আগে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে।
রাজনীতিবিদসহ সারা বিশ্ব বিশ্লেষণ দিচ্ছে কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ এর জন্য দায়ী। কোভিডে না হয় মানুষের তেমন করণীয় ছিল না, কাজ কর্ম ছাড়া ঘরে বসে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে সীমিত দ্রব্যমূল্য কিনতে বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়েছে তখন। এখন সবকিছু দ্রুতগতিতে উৎপাদিত হবার কথা এবং তার জন্য দরকার যেমন জ্বালানি তেল ইত্যাদি ঠিক তেমনি একটি সংকটময় সময় যুদ্ধ?

সারাবিশ্বে যেমন কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তেমনি বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। যেমন তেলের দাম বেড়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, যাতায়াত খরচ বেড়েছে। কিন্তু এখানেও একই অবস্থা। কারোই দৈনিক আয় কিন্তু বাড়েনি আর সেটা বাড়ানও খুব কঠিন। তবে অন্যান্য দেশে বা বলতে পারেন ইউরোপ আমেরিকায় যেমন মুদ্রাস্ফীতির মারাত্মক প্রভাব দেখা দিয়েছে তেমন প্রভাব কিন্তু বাংলাদেশে এখনও দেখা দেয়নি। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ঠিকই কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার মত কড়াকড়ি প্রভাব এখনও আমাদের দেশে পড়েনি।

ইউরোপ আমেরিকার মত যেমন এত কড়াকড়ি প্রভাব এখনও আমাদের দেশে পড়েনি তাই এটাই একটা সুযোগ আমাদের জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার। বাংলাদেশ ব্যাংকও এসব বিষয়ের উপর নজর রাখছে। তারাও যতদূর সম্ভব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কয়েক ধাপে সুদহার বাড়িয়েছে এবং ২০২২ সালের শেষ নাগাদ সুদহার আরো বাড়াবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আর বলা হয়ে থাকে সুদহার বাড়ানোই হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অব্যর্থ ঔষধ। তবে আমি মনে করি এই ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেগুলো খুঁজে বের করা এবং দ্রুত সেগুলো আরোপ করার এখনই সময়!

মানবজাতির উপর দিয়ে একের পর এক মানবসৃষ্ট কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাচ্ছেই। থামাথামির যেনো কোনো কথাই নেই। যেমন: মহামারী, ইউক্রেন – রাশিয়া যুদ্ধ এবং এর নেতিবাচক প্রভাব, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ইত্যাদি। আর ইউক্রেন – রাশিয়া যুদ্ধ যেনো আংশিকভাবে হলেও বৈশ্বিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। এটা আরো ছড়িয়ে পড়লে না জানি কি হবে! আর এই সমস্ত প্রভাব পরে সাধারণ মানুষের উপর।

আধুনিক ঔপনিবেশিক শক্তি, পুঁজিবাদী শক্তি, দুর্নীতিবাজ, অত্যাচারী শাসক, একনায়কতন্ত্র বা এই ধরনের যত অপকর্মকারী রয়েছে এবং এরা যত রকমের অপকর্ম করে এর সব প্রভাব শেষে গিয়ে পরে সাধারণ জনগণের উপর এবং অনেক সময় এদের লালসার কারণেই চলে যায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবন। বলা হয়ে থাকে জনগণেই সকল ক্ষমতার উৎস তাই জনগণকেই এসব অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে। এদের পতন ঘটাতে পারলেই আসবে স্বস্তি!

বর্তমান বিশ্বে যে সমস্যাগুলো মানুষের সৃষ্টি তার সমাধান সমস্যার মধ্যদিয়ে শেষ হলেও এর ধারাবাহিকতা নতুন সমস্যার বীজ বপন করে চলেছে। যুদ্ধের অবসান এক প্রান্তে হলেও শুরু হচ্ছে অন্য প্রান্তে।

পৃথিবীর সবাই জানে আমাদের জীবনের সংকটময় সময়টি তারপরও জেনে শুনে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং এর জন্য শুধু রাশিয়াকে দায়ী করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?

বরং সময় এসেছে ভাবার কারা মূলত এই সর্বনাশের জন্য দায়ী! মনে হচ্ছে গোটা বিশ্বের সর্বনাশের জন্য পুঁজিবাদীরাই মূলত দায়ী।
আমরা সাধারণ মানুষ অনেকটা তিমি মাছের ফাঁদে পড়েছি। তিমি মাছ খাদ্য সংগ্রহের সময় তার মুখে খুলে দেয়, অন্যান্য মাছ সেখানে এসে খেলা করে, সময় মত তিমি মাছ মুখ বন্ধ করে দেয়। পুঁজিবাদীদের আমরা তিমি মাছের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। পুঁজিবাদীরা ভালো মানুষের মুখোশ পরে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে। এভাবেই চলছে যুগের পর যুগ ধরে।

বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো তাদের অতীতের অস্ত্রপাতি বর্তমান যুদ্ধে ব্যবহার করছে নতুন অস্ত্রপাতি তৈরি করার জন্য। একটি দেশকে ধ্বংস করা হচ্ছে আবার নতুন করে গড়বে বলে। পুঁজিবাদীরা এভাবেই বিনিয়োগ করে থাকে। একদিকে মানুষের জীবন বাঁচাতে বিনিয়োগ চলছে অন্যদিকে মানুষকে ধ্বংস করার জন্যেও পুঁজিবাদীর পুঁজিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। চমৎকার বিশ্বে আমাদের বসবাস!

লেখক: সাবেক পরিচালক, প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:
বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদে প্রকাশিত ও প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

পদ্মা সেতুর কাঙ্খিত সুফল পেতে প্রয়োজন শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন

Published

on

নব্বইয়ের দশকে খুলনা ও রাজধানী ঢাকার মধ্যে রূপসা, মধুমতি, আড়িয়ালখাঁ, পদ্মা ও ধলেশ্বরীতে দুটি সহ মোট ৬টি ফেরি ছিল। ঐ সময়ে ঢাকা পৌঁছতে সময় লাগত ১০ থেকে ১২ ঘন্টা। এসব নদীর মধ্যে পদ্মা নদীই ছিল সবচেয়ে বড় ও খরস্রোতা। সময়ের পরিক্রমায় ছোট নদীগুলোতে সেতু নির্মাণ করা হয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে। কিন্তু খরস্রোতা ও বিপুলা পদ্মা থেকে যায় কোটি মানুষের বিভাজক রেখা হয়ে।

পদ্মা নদীতে পারাপারের প্রধান বাহন ছিল ফেরী এবং লঞ্চ। স্পীড বোট এবং ট্রলারও ছিল। পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে লঞ্চডুবি, ট্রলারডুবি এবং স্পীড বোট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে অনেক। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব পার্বণে পারাপারের ভোগান্তি ছিল সীমাহীন। ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরিঘাটে আটকে থাকতো গাড়ি। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহনে পারাপার হতো লাখো মানুষ। বড় ছুটির সময় ফেরিঘাটে গাড়ির লাইন পড়ে যেত কয়েক কিলোমিটার। রোদ-বৃষ্টি-শীত-গ্রীষ্মের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তল্পিতল্পা মাথায় নিয়ে নদীর ঘাটে ছুটে চলেছে সকল বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুরা। কত স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে এই নদীর ঘাটে! প্রিয়জনের সাথে মিলনের স্বপ্নের জাল বুনে প্রহর গুণেছে কত কর্মজীবী! অগণিত কর্মঘন্টা নষ্ট হয়েছে নদীর পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায়।

খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহণে প্রধান সমস্যা ছিল পদ্মা নদী পারাপার।  শাক-সবজি, ফল, মাছ-মাংসসহ অন্যান্য পণ্য বোঝাই গাড়ি ফেরি ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো। ক্ষেত্র বিশেষে এক থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগত। ফেরি ঘাটেই পঁচে নষ্ট হয়েছে অনেক ব্যবসায়ী ও কৃষকের মূলধন।

পদ্মা সেতু এক সময় স্বপ্ন থাকলেও বর্তমানে তা বাস্তবতা। নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০১২ সালে শুরু হওয়া পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবছর। ২৫ জুন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় দক্ষিণাঞ্চলের দরজা খ্যাত এ সেতু। এটি বাংলাদেশের উন্নয়নের মুকুটে আরেকটি নতুন পালক যোগ করলো। সেতু চালুর ফলে মাত্র কয়েক মিনিটেই পার হওয়া যাচ্ছে দীর্ঘতম এই নদী। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে রাজধানীসহ সারা দেশের যোগাযোগের বিপ্লব সাধিত হবে এর মাধ্যমে। রাজধানীর সাথে এসব জেলার সড়ক পথের দূরত্ব কমে যাবে বহুগুণ। গতিশীলতা আসবে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ এ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যে।

Nogod-22-10-2022

রাজধানী ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে রাজধানী থেকে দক্ষিণ বঙ্গে যাওয়ার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি অর্জন। তবে ভাঙ্গা থেকে খুলনা, বরিশাল এবং ফরিদপুর হয়ে অন্যান্য জেলায় যাতায়াতের রাস্তা এক লেনের হওয়ায় এসব পথে নতুন গাড়ীর রুট চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যমান সড়কে একাধিক রুটের গাড়ি চলাচল শুরু হলে সড়কে যানজট সৃষ্টি, দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত গাড়ী চলাচলের ফলে সড়ক বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অঞ্চলের সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা ও টেকসই করে গড়ে তোলা সম্ভব হলে এসব অঞ্চলের যোগাযোগে বিপ্লব সাধিত হবে।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহণ সহজ করতে দ্রুততম সময়ে এই রেল সংযোগ মংলা বন্দর এবং খুলনা পর্যন্ত বিস্তৃত করা জরুরি। বিদেশী বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে প্রয়োজন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন থেকে বিমানবন্দরের জন্য যায়গা অধিগ্রহণ করে রাখলেও তা নির্মাণ কাজের তেমন কোন অগ্রগতি নেই। এই বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

পদ্মা সেতুর কাঙ্খিত সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নীতি সংস্কার ও জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। পদ্মার ওপারে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, মৎস্য, চামড়া শিল্প, পাট, গার্মেন্টস শিল্প, তথ্য-প্রযুক্তি, অটোমোবাইল এবং ইলেক্ট্রনিকসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এ অঞ্চলে সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। দেশের জিডিপি ১.৫ শতাংশ বেড়ে যাবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২.৩ শতাংশ। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ অঞ্চলে ব্যাংকের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তুলনামুলক অনেক কম। পদ্মা সেতু চালুর ফলে উদ্যোক্তা ও ব্যাংকার উভয়ের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগের ভারসাম্য আনার অসীম সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ অ লের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করার জন্য কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ ইকনোমিক জোন অথরিটি দক্ষিণ পশ্চিমা অঞ্চলের উন্নয়নে ১৭ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে মোংলায় ২টি ইকনোমিক জোন, সুন্দরবনের নিকট বাগেরহাটে একটি ইকোটুরিজম পার্ক, শরিয়তপুরের জাজিরা ও গোসাইরহাট, মাদারিপুরের রাজৈর, ফরিদপুর সদর, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, খুলনার বটিয়াঘাটা ও তেরখাদা, মাগুরার শ্রীপুর, সাতক্ষীরা সদর, বরিশালের আগৈলঝাড়া ও হিজলা, ভোলা সদর ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন হলে সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থান। দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে এবং ২০৪১ সালের কাঙ্খিত উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।

নতুন সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে আমাদের গাড়ী চালকদের জন্য অনেকটাই নতুন পরিবেশ। উন্নত রাস্তা পেয়ে হঠাৎ করে দ্রুত গতিতে চলতে গিয়ে ঘটছে নানান দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যেই সেতু এবং এক্সপ্রেসওয়েতে বেশকিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানোয় উদ্বুদ্ধ করতে সেতু
কর্তৃপক্ষ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেতু এবং এক্সপ্রেসওয়েতে টোল আদায় সহজ করতে গ্রহণ করতে হবে উন্নত ব্যবস্থা যাতে দ্রুততম সময়ে গাড়ি টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি টোলের পরিমাণ কমিয়ে গাড়িভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন মনে করেন সাধারণ মানুষ।

পদ্মা সেতুর কাঙ্খিত সুফল লাভ করতে নীতিনির্ধারকসহ সাধারণ নাগরিকদেরও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। সেতুর উপর দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা, নাট খুলে টিকটক করা অথবা আবেগে আত্মহারা হলেই সেই সুফল লাভ সম্ভব হবে না। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে অভ্যাস ও আচরণে। কাঙ্খিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামষ্টিক প্রচেষ্টাই সফলতার সুবর্ণ বন্দরে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

লেখক: ব্যাংকার

শেয়ার করুন:
বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদে প্রকাশিত ও প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন
Advertisement
December 2022
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

কর্পোরেট সংবাদ

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার

ফেসবুকে অর্থসংবাদ