কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু

নিউজ ডেস্ক, অর্থসংবাদ.কম, ঢাকা প্রকাশ: ২০২২-০৬-২০ ১৪:১৭:৫৬

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুন। এ নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সমানে বয়ে যাচ্ছে আবেগ, উচ্ছ্বাস, উত্তেজনার ঢেউ। যারা যুগের পর যুগ ধরে এই একটি সেতুর অভাবে সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তারা আজ আত্মপ্রত্যয়ী। অনান্য শ্রেণী-পেশার মতো কৃষক ও কৃষি পণ্যের ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত।

জানা যায়, কৃষি নির্ভর জেলাগুলোর কৃষিতে পদ্মা সেতুর ব্যাপক প্রভাব পড়বে, তারা মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

‘পদ্মা সেতু’ এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান আলোচ্য। হাটে-বাজারে, পাড়ায়, মহল্লায়, মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে, স্কুলে, কলেজে, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে, গ্রামীণ সড়কের পাশের চায়ের দোকানেও সকল আলোচনাকে ছাপিয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অনেক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাখ-লাখ মানুষ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

অনেকেই চিন্তা করছেন- ভোরে রওনা দিয়ে অফিস আদালতের কাজ সেরে বাড়ি এসে রাতের খাবার খাওয়া যাবে এ সেতুর ফল হিসেবে। অফিস আদালতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা ভোরে বাসে চেপে রাজধানীতে ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবেন। অনুরূপ কৃষিপণ্য সঠিক বাজার পাবে।

এ অঞ্চলের অনেক জেলার মানুষ প্রধানত কৃষি নির্ভর। ধান, মাছ ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির প্রধান উৎস। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল ও সুপারি জন্মে। সুন্দরবন উপকূলের কিছু মানুষ মধু ও গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

কৃষি বিভাগ গণমাধ্যমে জানায়, বাগেরহাট জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮টি। এ জেলায় চলতি অর্থ বছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টন সবজি উৎপাদিত হয়। যার সিংহ ভাগই ঢাকার বাজারে যায়। এ জেলার উৎপাদিত শাক-সবজি, মাছ, মুরগী, দুধ, ডিম এখন সরাসরি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে। দ্রুত পঁচনশীল পণ্যও এখন আর পঁচবে না। ১৫ টাকার লাউ ৩ টাকায় বেঁচতে হবে না কৃষকদের। চাষিরা এবার ন্যায্য মূল্য পাবেন। আসলে ‘পদ্মা সেতু’ আমাদের কৃষকের স্বচ্ছলতার প্রতীক।

এ জেলা সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষের জন্য বিখ্যাত। এই বাগদা চিংড়ির বিদেশ ছাড়াও দেশের বাজারে বাজারজাত করতে সহজ হবে বলে মনে করেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, এখানে বাগদা ও গলদা মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে। বছরে কমপক্ষে ৪০ হাজার টন চিংড়ি ও ৬০ হাজার টন রুই, কাতলা, পাতারি, তেলাপিয়া, পুঁটি, ট্যাংড়া, পাঁচশে, শৈল, মাগুর,পাংগাশ, কই, শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ উৎপাদিত হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে বাগেরহাটের ৫ লক্ষাধিক মানুষ মৎস্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।