সিপা চুক্তিতে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ-ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক, অর্থ সংবাদ.কম, ঢাকা প্রকাশ: ২০২২-০৬-১৯ ১৩:০২:০৭

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিপা) করা হলে উভয়পক্ষ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে লাভবান হবে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার (১৮ জুন) কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সহযোগিতায় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত এক দশকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন ড. মোমেন। উভয় দেশের জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একে অপরের প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রাধিকারগুলোর ওপর জোর দেন তিনি।

মোমেন বলেন, কয়েক বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং করোনা মহামারিতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গত বছর দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। তিনি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মংলা ও মিরসরাই নামে দুটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ড. মোমেন চলমান বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উন্নয়নের মুখে কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোমেন।

সেমিনারে সিআইআইয়ের প্রেসিডেন্ট, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস অংশগ্রহণ করেন।

মোমেন বলেন, এক সময় খাদ্য ও সাহায্য নির্ভরতার জন্য পরিচিত বাংলাদেশ এখন শুধু খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং ধান, শস্য, শাকসবজি, কিছু ফলমূল এবং মিঠা পানির মাছের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকারীও।

এ সময় পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব তহবিল দিয়ে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে দিয়েছেন। যা আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সপ্তম যৌথ পরামর্শক কমিশন (জেসিসি) বৈঠক যোগ দিতে শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান ড. মোমেন। রোববার (১৯ জুন) জেসিসি বৈঠকে বসবে ঢাকা-নয়াদিল্লি। বৈঠকে ঢাকার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ও নয়াদিল্লির পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেতৃত্ব দেবেন।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।