ফের টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, অর্থসংবাদ.কম, ঢাকা প্রকাশ: ২০২২-০৬-১৩ ২০:০০:০০

আবার বেড়েছে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম। আর দুর্বল হয়েছে দেশীয় মুদ্রা টাকা। ডলারের দাম আরও ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৩ জুন) প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা, আগে যা ছিল ৯২ টাকা।

এর আগে, বুধবার (০৮ জুন) ডলারের দাম ৫০ পয়সা কমেছিল। এদিন ডলারের দাম কমে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের দিনই আবার ডলারের দাম ৫০ পয়সা বেড়ে আগের জায়গায় অর্থাৎ ৯২ টাকা করা হয়েছে।

এর আগের টানা চার কার্যদিবসের প্রতিদিনই বেড়েছে ডলারের দাম। এই চার দিনেই ডলারের দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৪৫ পয়সা। সব মিলিয়ে গত দুই মাসে ডলারের দাম ৬ টাকার বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা। আজ বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন দামে ডলার বিক্রি করেছে। এদিন ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি আমদানি বিল মেটাতে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করা হয়। ফলে এটাই ডলারের আনুষ্ঠানিক দর। এই দরে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ডলারের বিপরীতে টাকার হিসাব করে থাকে। এটাকে বলা হয় আন্তঃব্যাংক রেট।

ডলারের দাম বাড়ায় একদিকে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হবেন। অন্যদিকে আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম ৯২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করলেও ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দরে। অনেক ব্যাংক বাড়তি দামেই প্রবাসী আয় সংগ্রহ করছে ও রপ্তানি বিল নগদায়ন করছে। এতে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার ডলার কেনাবেচা হচ্ছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকায়।

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলারের দাম বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করছে না। ব্যাংকগুলো যে দামে লেনদেন করে, তার মধ্যে একটি দর বিবেচনায় নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ ৯২ টাকা ৫০ পয়সাকে বিবেচনায় নিয়েছে। এই দামেই ডলার বিক্রি করেছে।

অস্থির ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত ডলারের দাম বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডলারের চাহিদা বেশি হওয়ায় ধীরে ধীরে দাম বাড়াচ্ছে। সেইসাথে রিজার্ভ থেকেও প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করছে। এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডলারের বাজার। এই অবস্থায় ডলারের দাম বাজারের উপর অর্থাৎ চাহিদা-জোগানের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।