ডব্লিউটিও’র অব্যাহত বাণিজ্যিক সুবিধা চায় বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক, অর্থসংবাদ.কম, ঢাকা প্রকাশ: ২০২২-০৬-১৩ ১৬:০৩:৫৮

ডব্লিউটিও’র অব্যাহত বাণিজ্যিক সুবিধা চায় বাংলাদেশ

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি/ ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশসহ এলডিসিভুক্ত দেশের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা আরও কয়েক বছর অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদর দপ্তরে সংস্থার ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রথম দিনের বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এ দাবি জানান। ডব্লিউটিও আয়োজিত ১৬৪ দেশের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের বের হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পাবে না। তাই এলডিসির পক্ষ থেকে ডব্লিউটিওতে দেয়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্য পণ্যের রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের ওপর হঠাৎ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ঠিক হবে না। রপ্তানি বন্ধ করতে হলে আমদানিকারক দেশকে অব্যশই নির্দিষ্ট একটা সময়ের আগে জানাতে হবে। হঠাৎ করে খাদ্যজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ করার কারণে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মৎস্যখাতে ভর্তুকি প্রদানের সুযোগ চায় বাংলাদেশ। আমরা মনে করি, উন্নয়নশীল দেশের মৎস্যখাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই খাতে ভর্তুকি দেওয়াটা জরুরি। অনেক উন্নয়নশীল দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য মৎস্য খাতে জড়িত। তাই স্বল্পোন্নত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা টিকিয়ে রাখতে মৎস্যখাতে ভর্তুকি দেয়ার সুযোগ রাখা প্রয়োজন ।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাসে এলডিসিভুক্ত দেশকে সরকারি পর্যায়ে বড় আকারে খাদ্য মুজদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কৃষিসহ ডব্লিউটিও’র অন্য যেকোনো সংস্কারকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে। তবে সংস্কার অব্যশই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ হতে হবে, যেখানে সবার মতামত দেয়ার সুযোগ থাকবে। সব সদস্যের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এমসি-১২ সম্মেলনের প্রথম দিনে ডব্লিউটিও’র মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো আইওয়ালা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকট বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলডিসি উত্তোরণের পর চলমান বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হঠাৎ করে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ না করাসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সদস্যদেশগুলোকে ঐক্যমতে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।